সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ


করোনাযুদ্ধে যুক্ত হলো বিশেষ চাহিদার শিশু

প্রকাশ: ১২ মে ২০২০      

আসাদুজ্জামান

করোনাযুদ্ধে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ মাঠে রয়েছে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আল-খায়ের ফাউন্ডেশনকে সঙ্গে নিয়ে কার্যক্রমের প্রথম ধাপে মানুষকে সচেতন করার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। কর্মসূচির আওতায় ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে ৩০ হাজার লিফলেট, চার হাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ১০ হাজার মাস্ক, ১০ হাজার গ্লাভস এবং এক হাজার পিপিই চিকিৎসক, সাংবাদিক, পুলিশসহ করোনাযুদ্ধের সম্মুখভাগের যোদ্ধাদের দেওয়া হয়।

কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে শুরু হয় কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবা।

কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত দুই হাজার পরিবারে ১০ দিন থেকে ৩০ দিনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুহৃদ হয়ে টেলিফোনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম 'সুহৃদ সময়ে' যুক্ত হয়েছেন অর্ধশতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ১২ এপ্রিল থেকে প্রায় সাড়ে তিনশ' মানুষ প্রতিদিন স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ পাচ্ছেন সুহৃদ সময় কার্যক্রম থেকে।

করোনার এই বিশেষ সময়ে বিশেষ চাহিদার শিশু ও ব্যক্তিদের নিয়ে অনেক পরিবারই পড়েছে গুরুতর সমস্যায়। বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের প্রয়োজন মিটাতে সুহৃদ সময়ে যুক্ত হয়েছেন ক্লিনিক্যাল স্পিচ থেরাপিস্ট ও বিশেষ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ দল। গত ৯ মে থেকে এই দল টেলিফোনে পরামর্শ দিচ্ছেন। যথারীতি সুহৃদ সময় সাইট www.samakal.com/health-এ গিয়ে যে কেউ একদম বিনামূল্যে এই সেবা নিতে পারবেন। সেইসঙ্গে সুহৃদ সময়ের আগের সেবাগুলোও চালু রয়েছে।

সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগে মানুষকে সেবা দিতে ৫২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্বেচ্ছায় যুক্ত হয়েছেন সুহৃদ সময়ে। ১২ এপ্রিল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে টেলিফোনে চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

সুহৃদ সময়ের অন্যতম সমন্বয়ক ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার বলেন, প্রতিদিন গড়ে তিনশ' থেকে সাড়ে তিনশ' মানুষ সুহৃদ সময়ের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান, অধ্যাপক ডা. সালাহ উদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। শুধু দেশের নয়, দেশের বাইরে থেকেও মানুষ চিকিৎসা পরামর্শ চাইছেন বলে জানালেন ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল। তিনি বলেন, করোনাকালে শুধু যে আমাদের দেশেই চিকিৎসক সংকট তা নয়। বিদেশেও একই সংকট রয়েছে। কয়েকদিন আগে সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশি একজন ফোন করেছেন তার সমস্যা নিয়ে। আমি তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি।