কবিতা

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০১৯      
বিবর্ণ-জীবন মানচিত্র

অনন্যা জান্নাত



অস্থিরতা জাপটে ধরে

বুক-পাঁজর!



লাল-নীল; আহত-বেদনা মিছিল ছুঁয়ে যায়

বিবর্ণ-জীবন মানচিত্র!



অঙ্কুরিত স্বপ্নের শিরশ্ছেদে টগবগ

করে ফোটে

লোহিত কণিকা!



নষ্ট জীবনের পাণ্ডুলিপিতে ভেসে ওঠে

ব্যর্থতার পদচিহ্ন;

আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা

ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন ক্ষত-স্তূপ!



অভিমানে ক্ষয়ে যাওয়া হৃদয়ের

অলিগলি বেয়ে

হেঁটে যায়

গভীর দীর্ঘশ্বাস!



জীর্ণ জীবনের বুক চিরে বয়ে চলা

প্রণয় নদীটি সময়ের করাল গ্রাসে;

নিদারুণ শোক-স্তব্ধতায়;

হয়ে যায় ধু-ধু বালুচর!



বেঁচে রবে চিরদিন

জাহাঙ্গীর আলম আজাদ



হে প্রিয়, শ্রদ্ধেয় গোলাম সারওয়ার-

তুমি ছিলে ইহলোকে চেতনার বাতিঘর

স্বীয় কর্মগুণে ছিলে তুমি সুশীলের মান্যবর!



বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, রবি, বিদ্রোহী আর পল্লীকবির মতো

আগস্ট মাসকেই বেছে নিলে তুমি, হৃদয়ে দিতে ক্ষত!

তোমার বিদায়ে আবারও সত্যি ধ্রুবতারার মতো-

আগস্ট মাস কান্নার মাস

বাঙালির অশ্রুতে বন্যার মাস!

হে প্রিয়,

জেনে নিও-

মরণ হয়েছে দেহের তবে, বেঁচে রবে তুমি কাজে

প্রেরণা হয়ে রবে তুমি, শত কোটি সুহৃদের মাঝে!

তুমি বেঁচে রবে 'ইত্তেফাক' 'যুগান্তর' 'সমকাল'-এর পথচলায়

তুমি বেঁচে রবে 'সত্যের সন্ধানে নির্ভীক' বাক্য বলায়!

তুমি বেঁচে রবে সাহসী সাংবাদিকের সত্য বলাতে

তুমি বেঁচে রবে তিমির আঁধারে মঙ্গল আলো জ্বলাতে!

তোমায় খুঁজে নেব শত স্মৃতির সোনালি পাতায়

তুমি বেঁচে রবে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথায়!

তুমি বেঁচে রবে 'রঙিন বেলুন' ছড়ায় ছড়ায়

ছোট্ট শিশুর মিষ্টি মধুর পড়ায় পড়ায়!

তুমি রবে খেলার পাতার রঙিন ভাঁজে

এমনই করে হরেক রকম কর্ম-কাজে!



কেউ নেই চারিধার

রুদ্র সাহাদাৎ



কেউ নেই চারিধার নিঃস্তব্ধ পথঘাট, দূরে তাকিয়ে দেখি শূন্য মাঠ

কেউ নেই কোনোখানে গাছে হাওয়াও লাগে না, পাতাও নড়ে না,

থমকে গ্যাছে নাকি সমগ্র ভূ-মণ্ডল, মনে হচ্ছে- আমি একাই এই শহরের বাসিন্দা

ডানে বামে নেই, সামনে পেছনে কেউ নেই

অপেক্ষার মানে যেমন বুঝি না, প্রতীক্ষার মানেও তেমন খুঁজি না

শুধু মনে পড়ে একদিন কেউ একজন আমার জন্য পথ চেয়ে থাকত, হয়তো এখনও...





বোঝে না নদীর স্বপ্ন

বজলুর রশীদ



সম্পর্কের তাপে জেগে ওঠো...

পাহাড়ের উদম ঝর্ণা ছুঁয়ে

আমিও একদিন পূর্ণ নদী হবো-

যুগল হাতের রেখায়

ঢেউ এনে সাজাবো আস্থার বিশ্বাস।

তুমি কি তখন পর্যটক হবে

সবুজে সমৃদ্ধ এই স্মৃতিডোবা নদীর?

নাকি ভূমিদস্যুদের মতো

তুমিও হবে জবরদখলদার

পরাজয় নেই কারও কাছে...!





অপার আনন্দ

কুলসুম বারীদা



আজ কতদিন হলো-

আমাদের সেই মধুর আলাপন

সান্ধ্য-আড্ডা আর জমে ওঠে না

চায়ের কাপগুলো বেদনায় কাতর!

তোমার অধর-পরশে হয় না সজীব

বড্ড বিষণ্ণ হয়ে পড়ে থাকে টেবিলের কোণে

পত্রিকাগুলো ধুলোয় মলিন, বইয়ের প্রচ্ছদ আছে তাকিয়ে...



কবে দেবে ছুঁয়ে!

প্রাণ ফিরে পাবে আবার কবিতাগুলো তোমার

দরাজ কণ্ঠের আবৃত্তি-মূর্ছনায়!



উতলা সমীরণের লুকোচুরি খেলায় দুলে ওঠে

বাতায়নের মায়াবী পর্দা; অথচ তুমি নেই!

ফিরে দেখো না তুমি বিমুগ্ধ নয়নে আর

দূর পাহাড়ের চূড়ায় বিহঙ্গের ললিত নৃত্য



ছুটে যেতে পারো না অসীম দিগন্ত-বেলায়

রক্তিম সূর্য তোমারই অপেক্ষায় আভা ছড়িয়ে

তোমার যাতনায় ফুটিয়ে তুলেছে বুকের হাসি;

কবে আসবে ফিরে? কবে আঁকবে পদচিহ্ন বালুচরে?

কবে লিখবে আমার নাম আবার ফুলরেণু দিয়ে!

সুস্থ হয়ে এসো ফিরে, জাগুক ধরা অপার আনন্দ...



যুদ্ধ

দুলারফিন তাপস



আমি প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করি

আমার বিবেকের সঙ্গে

আমার অস্তিত্বের সঙ্গে, শত্রুর সঙ্গে।

আমি প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করি

বৈরিতার সঙ্গে

ভণ্ডামির সঙ্গে

প্রেমিকের সঙ্গে।

আমি প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করি

টিকে থাকার জন্য

নগ্নতার সঙ্গে

জ্ঞানপাপীদের সঙ্গে।

অন্যান্য