সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ


তৈরি হও, এগিয়ে যাও

বগুড়ায় সাংগঠনিক কর্মশালা

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০১৯      

অরূপ রতন শীল ও অসীম কুমার

বগুড়ায় সমকাল সুহৃদ সমাবেশের উদ্যোগে দু'দিনব্যাপী কর্মশালার অপেক্ষার প্রহর যেন কাটছেই না। সুহৃদের কর্মশালা মানেই সৃজনশীলতা ও মননশীলতার ছোঁয়া। সৃষ্টিশীল চিন্তাধারার কিছু মানুষের সান্নিধ্য লাভ।

অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই দিন এলো। শুক্রবার দুপুর থেকে শুরু হলো সংগঠন ও নেতৃত্ব বিষয়ক কর্মশালা। একঝাঁক তরুণের সমাগমে ভরে উঠল শহরের সেউজগাড়ি এলাকার এফপিএবি মিলনায়তন। সুহৃদ সমাবেশের বিভাগীয় সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবেদ যথারীতি পরিচয় পর্ব দিয়ে কর্মশালা শুরু করেন। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে সংগঠনের প্রকৃত সংজ্ঞা তুলে ধরেন তিনি।

২ আগস্ট শুরু হওয়া কর্মশালার প্রথম দিনে সংগঠন কী, তার প্রয়োজনীয়তা, কীভাবে নিজেকে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে গড়ে যায়, মানবাধিকার ও জেন্ডার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে কেউ বুঝতেই পারিনি। শেষে আবেদ ভাই সব সুহৃদ বন্ধুদের নিয়ে ৫টি গ্রুপ তৈরি করলেন। সেই সঙ্গে ঘোষণা দিলেন কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে প্রত্যেক গ্রুপ থেকে একটি করে প্রকল্প তৈরি করে তা উপস্থাপন করতে হবে। যাদের উপস্থাপন সবচেয়ে ভালো হবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে। সবার মাঝে উদ্দীপনার সৃষ্টি হলো।

কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে সবাই নিজেদের প্রকল্পের বিষয় নিয়ে ব্যস্ত। কে কত সুন্দরভাবে উপস্থাপনা করতে পারবে তাই নিয়ে সবাইকে একটু উদ্বিগ্ন দেখা যাচ্ছিল। তবে সৃজনশীল কাজে যে তরুণদের বেশ আগ্রহ রয়েছে তার স্পষ্ট ছাপ দেখা তাদের চোখেমুখে।

এরপর একে একে পাঁচটি গ্রুপ সুন্দরভাবে তাদের উপস্থাপনা শেষ করল। তাদের মধ্য গঠিত গ্রুপগুলো থেকে উত্থাপন করা প্রকল্পগুলোর বিষয় এবং উপস্থাপনার কৌশল মূল্যায়ন করে তিনটি গ্রুপকে পুরস্কৃত করা হয়।

এরপর সিটিজেন জার্নালিজম বা জনসাংবাদিকতা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সেই সঙ্গে কর্মশালায় অংশ নেওয়া বন্ধুদের লেখা গল্প কবিতা ও প্রবন্ধ সুহৃদ সমাবেশের সাপ্তাহিক পাতাসহ সমকালের সাহিত্য ও ফিচার পাতাগুলোতে প্রকাশের সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পরে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সুহৃদ সমাবেশের ৫২ সদস্যের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

কর্মশালায় সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও লেখক বজলুল করিম বাহার। শিক্ষার্থীদের নিয়ে সংগঠন ও নেতৃত্ব বিষয়ক কর্মশালা আয়োজনের জন্য সমকাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, 'নেতৃত্ব নিয়ে সমাজে যখন এক ধরনের আস্থাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তখন তরুণ শিক্ষার্থী যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে, তাদের নিয়ে এ ধরনের কর্মশালা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া মইনুল ইসলাম বলেন, এর আগে কখনও এ রকম কর্মশালায় অংশগ্রহণ করিনি। অনেক কিছু শিখেছি। সংগঠন করার মাধ্যমে যে সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যায় তা এই কর্মশালার মাধ্যমে শিখেছি।

সিনথিয়া বলেন, সমাজের প্রতি আমাদের যে অনেক দায়িত্ব রয়েছে তা এই কর্মশালা আমাকে শিখিয়েছে। পরবর্তী সময়ে যেন সমকাল সুহৃদ সমাবেশের পক্ষ থেকে এ রকম কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষাবিদ বজলুল করিম বাহার সমাপনী দিনে তার বক্তৃতায় তরুদের পড়ালেখার পাশাপাশি সৃজনশীল কাজের প্রতি মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'নেতৃত্ব তৈরির জন্য সংগঠনের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ সংগঠন একই ধরনের মন-মানসিকতার কতগুলো মানুষকে একতাবদ্ধ হতে শেখায় এবং তার মাধ্যমে সৃজনশীল কাজগুলো করাও সহজ হয়। তা ছাড়া এর ধারাবাহিকতাও রক্ষা করা যায়। এ ক্ষেত্রে সমকালের পাঠক সংগঠন সুহৃদ সমাবেশ অন্যন্য একটি সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি তারুণ্যের শক্তিতে উজ্জীবিত সুহৃদ আরও নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।'

কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমকাল সুহৃদ সমাবেশ বগুড়ার সভাপতি রাজেদুর রহমান রাজু। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সুহৃদ সমাবেশ বগুড়ার উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা সরিফুল মাসুদ, সাবেক সভাপতি মুন্সি তারিকুল আলম ডলার, সহসভাপতি সাজিয়া আফরিন সোমা, সাধারণ সম্পাদক অরূপ রতন শীল ও সমকাল বগুড়া ব্যুরো প্রধান মোহন আখন্দ।

সমাপনী বক্তৃতায় সুহৃদ সমাবেশ বগুড়ার সভাপতি রাজেদুর রহমান রাজু ঈদের এ মৌসুমে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, 'আমরা প্রতি বছরই বৃক্ষরোপণ করে থাকি। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। তবে এবার আমরা ফলদ বৃক্ষের পাশাপাশি ঔষধি বৃক্ষও রোপণ করব।'

হসুহৃদ বগুড়া