শৈলী

শৈলী

দূরে থেকেও কাছে থাকুন

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২০

ফ্লোরিডা এস রোজারিও

বছর ঘুরে চলে এসেছে কোরবানির ঈদ। কিন্তু অন্যান্যবারের মতো এবারের চিত্রটা নয়। মহামারিকালের এই ঈদে চাই বাড়তি সতর্কতা। তাই ঘরোয়াভাবে পরিবারের সঙ্গেই পালন হোক এবারের ঈদ। ঘরে বসেও জুড়ে থাকা সম্ভব প্রিয়জনের সঙ্গে। পৃথিবী যখন এক ভয়ংকর মহামারিতে কাঁপছে তখন সবার প্রার্থনা একটাই- খুব শিগগির এই দুঃসময় কেটে যাক। আবার নতুন ভোর আসুক নতুন পৃথিবীর বার্তা নিয়ে



বছর ঘুরে আবার এলো কোরবানির ঈদ। রোজার ঈদ পার হয়ে আবার আরেকটা ঈদ চলে এসেছে। কিন্তু করোনার দাপাদাপি এখনও শেষ হয়নি; বরং দিন দিন সংক্রমণ বাড়ছে। তাই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে এবারের ঈদটাও পালন করতে হবে ঘরোয়াভাবে। উৎসব-আনন্দ সবকিছুই যেমন জীবনের অংশ, তেমনি খারাপ সময়টাও ধৈর্যসহকারে, সঠিক বুদ্ধি দিয়ে পার করতে হবে।

প্রতিবার ঈদের নামাজ ও মোনাজাত শেষ হওয়ার পরই ঈদের মূল আনন্দ শুরু হয় কোলাকুলির মাধ্যমে। কিন্তু এবারের চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। হাতে হাত মিলিয়ে কিংবা কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করাটা স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে পড়ে না।

মহামারির এই সময়ে ঈদের আনন্দটা শুধু ঘরের মানুষের সঙ্গে উদযাপন করলে কেমন হয়? বিগত বছরগুলোর মতো এবারের ঈদ নয়। সময়টা একেবারেই আলাদা। হৈ হুল্লোড় করে বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের দিন বেরিয়ে পড়া কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করাটা এবারের ঈদে এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ানোর চেয়ে নিজ বাড়িতেই আনন্দের সঙ্গে পালন হোক এবারের ঈদ।

যেহেতু বাইরে যাওয়াটা নিরাপদ নয়, তাই ঘরকেই বানিয়ে ফেলুন মনোরঞ্জনের জায়গা। ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা-কাপড় কেনা ইতোমধ্যেই শেষ অনেকের। আর নতুন জামার আনন্দে এমনিই সবার মন ভালো থাকে। তারমধ্যে ঈদকে কেন্দ্র করে এতসব খাবারের আইটেম, এত আয়োজন। অন্যান্যবারের মতো বাড়িতে মানুষের সমাগম না হোক, শুধু পরিবারের মানুষ মিলেই আনন্দকে বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব এই ঈদে। ভিন্ন কিছুও অন্যরকম আনন্দ দেয়।

ঈদের দিন ছোটদের কাছে নতুম জামার আনন্দ, সেলামি পাওয়া, কোলাকুলি, মুরব্বিদের পায়ে ধরে সালাম করা, আত্মীয় কিংবা বন্ধুদের বাড়িতে ঘুরতে যাওয়া ঈদের চিরকালীন ঐতিহ্য, সংস্কৃতি। এ রকম ঈদ পালনেই অভ্যস্ত সবাই। কিন্তু মহামারির সময়ে আমরা চাইলেও অনেক কিছু করতে পারব না।তাই ঘরবন্দি পরিস্থিতে ঈদের আনন্দে ভিন্নতা এনে দিতে পারে অনলাইন।

ইন্টারনেটের এই যুগে ভিডিও কলের সঙ্গে পরিচয় কম-বেশি সবারই আছে। তাই ঘরে বসেও প্রিয়জনের সঙ্গে ভার্চুয়াল দেখা হওয়াটা সম্ভব। দূরে থেকেও একসঙ্গে জুড়ে থেকে ঈদ আনন্দ ভাগ করা যেতে পারে সহজেই। করোনাকালে আর যাই হোক, মানুষে মানুষে যোগাযোগ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরে থাকার ফলে অস্থির হয়েছে যখন সবাই, তখন কাছের মানুষটাকে দেখার একমাত্র উপায় করে দিয়েছে ইন্টারনেট। অনলাইনে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে জুড়ে থাকার আনন্দের স্বাদ গ্রহণ করা ছাড়া উপায় নেই এখন।

ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে সখ্য লকডাউনে অনেকটাই বেড়েছে সবার। সে সঙ্গে পরিবারকে অনেকটা সময় দেওয়ারও সুযোগ হয়েছে এই সময়ে। এবারের ঈদটাও তাই কাটুক পরিবারের সঙ্গেই ঘরোয়াভাবে এবং অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

তবে অনেক দিন বাড়িতে থেকে বাচ্চাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা চলে এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ওরাও একটা কঠিন সময় পার করছে। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা না হওয়া, ঈদের সময়ও বেড়াতে যেতে না পারার কষ্টটা ওদেরও। তাই ঘরবন্দি সময়েও ঈদের দিনটাকে স্পেশাল করতে বাচ্চাদের এবং সঙ্গে নিজেদের সময় দিন একটু ভিন্নভাবে। ভিডিও কলে কথা বলুন, পছন্দের কোনো সিনেমা দেখতে পারেন, বাচ্চাদের জন্য ঈদ স্পেশাল কোনো রেসিপি বানাতে পারেন। যেটা ওরা খেতে পছন্দ করে এমন কোনো খাবার বানাতে পারেন।

করোনাকালীন খাদ্যাভ্যাসের কথা কম-বেশি সবারই জানা। ইমিউনিটি বাড়ায় এমন খাবারের দিকে মনোযোগী হতে হবে। ঈদ বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। ঈদের বেশকিছু দিন ভারি খাবারের মধ্যেই থাকে সবাই। কিন্তু করোনাকালীন সতর্কতার কথা সবার জানা। তাই খাদ্য তালিকায় ইমিউনিটি বাড়ায় এমন খাবার রাখতেই হবে। সবার বেলাই তাই।

ঘরে থেকেও সবার সঙ্গে জুড়ে থাকা যায়। তাই পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য আত্মীয়স্বজন কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের খোঁজ নেওয়া উচিত। অনেক দিন যে বন্ধুটির সঙ্গে কথা হয়নি, কল করব করব করেও করা হয়ে ওঠেনি- তাকে এই ঈদে একটা কল করেই ফেলুন। সারপ্রাইজও দেওয়া হলো, সে সঙ্গে সুন্দর সময়ও কাটল। যেহেতু এবারের ঈদে বাইরে গিয়ে সময় কাটানোটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না, তাই ইন্টারনেটই হতে পারে উত্তম বন্ধু। সেটা ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে নতুন সিনেমা দেখা হোক কিংবা, ভিডিও কলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাই হোক।

করোনা আমাদের ঘরবন্দি করে রাখছে যেমন, তেমনি বঞ্চিত করছে একের পর এক আনন্দ-উৎসব থেকেও।

কিন্তু বাঙালি চিরকালের উৎসবপাগল জাতি। নিজের মতো করে ছোট্ট পরিসরেও আনন্দের শামিল আমরা হতে জানি। পৃথিবী যখন এক ভয়ংকর মহামারিতে কাঁপছে তখন সবার প্রার্থনা একটাই- খুব শিগগির এই দুঃসময় কেটে যাক। আবার নতুন ভোর আসুক নতুন পৃথিবীর বার্তা নিয়ে।া