শৈলী

শৈলী

ঈদের দিনের মিষ্টি

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২০

উৎসব-আনন্দ শুরু হয় মিষ্টিমুখ করে। ভোরবেলায় তাই চাই মিষ্টান্ন। ঈদের সকালের পরিপূর্ণতায় চাই সেমাই। সঙ্গে দুধের মাকুটির বৈচিত্র্য। কালোজাম আর ডোনাটে সব বয়সীদের তৃপ্তি। রেসিপি ও ছবি দিয়েছেন নাজরানা লোপা ও হাসিনা আনসার।

ছবি তুলেছেন রনি বাউল



কালো জাম

উপকরণ :ময়দা ২ টেবিল চা চামচ, গুঁড়া দুধ আধা কাপ, বেকিং পাউডার ১ চা চামচ, ঘি/তেল ১ চা চামচ, লাল খাবার রং, তরল দুধ ৫ টেবিল চামচ, চিনি ১ কাপ, পানি ২ কাপ ও ভাজার জন্য তেল।

প্রস্তুত প্রণালি :খামিরের জন্য তেল, চিনি ও পানি ছাড়া সব উপকরণ একসঙ্গে ভালো করে মেখে ডো বানান। হাতে তেল নিয়ে মিষ্টির শেপ দিয়ে গরম তেলে মধ্যম আঁচে ৮-৯ মিনিট ভাজুন। হাঁড়িতে চিনি ও পানি দিন। ভালো করে বলক তুলে ভাজা মিষ্টিগুলো হালকা আঁচে ১০-১২ মিনিট ঢেকে রাখুন। চুলা থেকে নামিয়ে ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। ২ ঘণ্টা পর সিরা থেকে তুলে ওপরে মাওয়া দিয়ে পরিবেশন করুন।



রসগোল্লা

উপকরণ :দুধ দেড় লিটার, সিরকা ২ টেবিল চামচ, চিনি ১ কাপ, পানি ৪ কাপ, ময়দা ২ চামচ, এলাচ গুঁড়া আধা চামচ, গোলাপজল ১ চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি :চুলায় দুধ দিয়ে জ্বাল দিন। দেড় লিটার দুধ ১ লিটার হলে সিরকা দিয়ে নামিয়ে রাখুন। ঢেকে দিন। ছানা ও পানি আলাদা হলে একটি ছাঁকনিতে ঢেলে পানি ভালো করে ঝরিয়ে নিন। ছানা প্লেটে ছড়িয়ে রাখুন। চিনির পানি দিয়ে জ্বাল দিয়ে সিরা তৈরি করুন। এবার ছানা, ময়দা, দুই চামচ চিনি ও এলাচ গুঁড়া দিয়ে মথে নিন। ছানা ১৫ ভাগ করে গোল করে রাখুন। ছানার বল চুলার সিরায় ছাড়ূন। রসগোল্লা কিছুক্ষণ পর ভেসে উঠবে। রসগোল্লা সিরায় ডুবিয়ে ঢেকে রাখুন। ঠান্ডা হলে সিরাসহ রসগোল্লা বাটিতে ঢালুন। গোলাপজল দিন। পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পর পরিবেশন করুন।



নারিকেল দুধে পায়েস

উপকরণ :পোলাওয়ের চাল ১ কাপ, নারিকেল কোরানো একটি, এলাচ ২টি, কিশমিশ ১ টেবিল চামচ, চিনি পৌনে ১ কাপ বা প্রয়োজন মতো, কাঠবাদাম কুচি ১ টেবিল চামচ, লিকুইড দুধ আধা লিটার।

প্রস্তুত প্রণালি :নারিকেল কোরানো কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। ব্লেন্ড করে নিন। নারিকেলের দুধ ছেঁকে রাখুন। এবার চুলায় দুধ দিয়ে জ্বাল দিন। দুধ ফুটে উঠলে চাল দিন। চাল ফুটে গেলে নারিকেলের দুধ ও অন্যান্য উপকরণ দিন। কিছুক্ষণ চুলায় রেখে ভালো করে নাড়ূন। যেন লেগে না যায়। ঠান্ডা হলে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।



দুধের মাকুটি

উপকরণ :দুধ ২ কেজি, মুগ ডাল ৪ টেবিল চামচ, পোলাও চাল ২ চা চামচ, চিনি আধা কাপ, মাওয়া ৫০ গ্রাম, বাদাম ১৪-১৫টা, জাফরান ১ চুটকি, কিশমিশ ১ টেবিল চামচ, পানি ১ কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ, ফ্রেশ ক্রিম ৩ টেবিল চামচ, এলাচ ২টা।

প্রস্তুত প্রণালি :চাল ও ডাল ২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তার পর প্রেশার কুকারে ১ কাপ পানি দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। নামিয়ে দুধ দিয়ে ঘুঁটতে হবে। এবার চুলায় দিয়ে ২ লিটার দুধ ১ লিটার করে নিতে হবে। চাল ও ডাল মিশিয়ে দুটি এলাচ দিতে হবে। এরপর অনবড়ত নাড়তে হবে মৃদু আঁচে। ঘন হলে চিনি দিতে হবে। কিশমিশ, বাদাম, ঘি, ফ্রেশ ক্রিম দিতে হবে। দুধে ভিজিয়ে রাখা জাফরান দিতে হবে। ঘন হলে নামিয়ে নিতে হবে। চিলারে ২ ঘণ্টা রেখে তার ওপর পেস্তা বাদাম দিয়ে পরিবেশন করুন।



সেমাইয়ের শীর খুরমা

উপকরণ :সেমাই ২৫-৩০ গ্রাম, বাদাম ১৫ গ্রাম, কাজুবাদাম ১৫ গ্রাম, শুকনা খেজুর ৪-৫টি, দুধ ২ কাপ, কনডেন্সড মিল্ক্ক ১৫০ গ্রাম, ঘি ৩ টেবিল চামচ, জাফরান সামান্য, এলাচ গুঁড়া ২-৩টি, পেস্তা কুচি ১৫ গ্রাম, কিশমিশ ১৫ গ্রাম।

প্রস্তুত প্রণালি :বাদাম ও খেজুর রাতে ভেজাতে হবে। ঘিয়ে শুকনা ফল ও কিশমিশ ভেজে নিন। বলকানো দুধে ঘি দিয়ে ভাজা সেমাই দিন। কনডেন্সড মিল্ক্ক দিন। এর ১০ মিনিট পর এলাচ গুঁড়া, জাফরান দিন। ঘন হলে নামিয়ে ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।