শৈলী

শৈলী


পরিচ্ছন্ন পা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২০      

ফ্লোরিডা এস রোজারিও

সঠিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী কে না হতে চায়। ব্যক্তিত্বের প্রকাশভঙ্গি সবার সামনে ফুটিয়ে তুলতে চায় সবাই। বেশকিছু দিক ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। যেমন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক-পরিচ্ছদ, দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটাতে পারে। মনের সৌন্দর্যের পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্যও বেশ প্রয়োজনীয়। তাই বাহ্যিকভাবে নিজেকে সুন্দর রাখার চেষ্টা করতে দোষ কি?

আমরা বেশিরভাগ সময়েই আমাদের চেহারা, চোখ কিংবা ঠোঁটের যত্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তাই নজর থাকে না আমাদের পা-যুগলের ওপর। অথচ ভেবে দেখুন, সবচেয়ে বেশি চাপ যায় কিন্তু আমাদের পায়ের ওপর দিয়েই। প্রতিদিনের ধকল আর অযত্নে পায়ের ত্বক নিজস্বতা হারায়। হয়ে যায় রুক্ষ আর মলিন। তাই পায়ের জন্য দরকার বিশেষ যত্ন।

রূপসচেতনরা সারাদিন কাজের শেষে কিংবা সপ্তাহে দু'দিন হলেও ত্বকের যত্ন নিয়ে থাকেন। পার্লারে যেতে না পারলেও অনেকে ঘরোয়া উপায়ে রূপচর্চা করেন বাড়িতেই। অথচ প্রিয় পা-যুগলের কথা আমরা অনেকেই ভুলে যাই। তাই পায়ের যত্নও নিতে হবে নিয়মিত।

বাইরের রোদ, ধুলোবালি কিংবা ময়লা সবচেয়ে বেশি লাগে পায়েই। অনেক সময় সারাদিনেও পা ধোয়া হয় না আলাদা করে। ফলে পায়ে ময়লা জমে এবং পায়ের ত্বক হয়ে যায় কালচে। অনেকের পা ফেটে যায় শুধু যত্নের অভাবে। সঠিক পরিচর্যার অভাবে পা হয়ে উঠে কালচে, রুক্ষ ও খসখসে। তাই নিয়মিত পায়ের ত্বকের পরিচর্যা করতে হবে। না হলে বিপাকে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব মুখের ত্বকের সঙ্গে সঙ্গে পায়ের ত্বকেও বেশ লক্ষ্য করা যায়। কখনও স্বাভাবিক মনে হয় আবার কখনও পায়ের ত্বক টানতে থাকে।

সবকিছুর প্রতিকার রয়েছে। ঘরে বসেই আপনি পায়ের যত্ন নিতে পারেন। এ ব্যাপারে কিছু টিপস এবং পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি। তিনি বলেন, মুখের ত্বকের যত্নের পাশাপাশি আমাদের পায়ের যত্নও খুব জরুরি। এখন অনেকেরই ঘরবন্দি সময় কাটছে। তাই নিজের যত্নের জন্য রয়েছে যথেষ্ট সময়। প্রতিদিন গোসলের সময় পা ঘষে পরিস্কার করা উচিত। যদি হাতে সময় থাকে তবে ১০ মিনিটের জন্য শাওয়ার জেল অথবা শ্যাম্পু গোলা পানিতে পা ভিজিয়ে রেখে, ভালোভাবে পরিস্কার করে নেবেন।

পায়ের যত্নে পেডিকিউর

১। পেডিকিউর করতে প্রথমে নিমপাতা দিয়ে পানি ফুটিয়ে নিন। তারপরে এতে পাতিলেবুর রস, অল্প লবণ ও শ্যাম্পু মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। এরপরে পিউমিস স্টোনের সাহায্যে গোড়ালি এবং পায়ের তলা ভালোভাবে পরিস্কার করুন। পা শুকনো করে মুছে ভালো কোন ক্রিম পুরো পায়ে লাগিয়ে নিন।

২। এক টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে হলুদ বাটা, নিম পাতা বাটা মিশিয়ে পায়ে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর হালকা গরম পানিতে ঘষে ঘষে পা ধুয়ে নিন। পা ভালো করে মুছে লাগিয়ে নিন হালকা একটু অলিভ অয়েল। এরপরে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে উঠে দেখবেন নরম মসৃণ পা।

৩। গোড়ালির শক্ত চামড়া তুলতে ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল এবং নারিকেল তেল সমপরিমাণে মিশিয়ে নিয়ে এর সঙ্গে মেশান ২ চা চামচ চিনি ও লেবুর রস। পায়ের শক্ত চামড়ায় ঘষতে থাকুন যতক্ষণ না তেল ত্বকে শুষে নিচ্ছে।

৪। পায়ের ক্লান্তি দূর করতে ঠান্ডা পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন। ক্লান্তিও দূর হবে, সান ট্যানও কমাবে।

৫। পায়ে গন্ধ হলে নিয়মিত পেডিকিউর রুটিন মেনে চলুন। পা পরিস্কার করে মুছে নিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান হালকা করে। এরপর একটুখানি ট্যালকম পাওডার লাগিয়ে নিন। সব সময় বন্ধ জুতা না পরে খোলা জুতা বা স্যান্ডেল পড়ুন।

পায়ের যত্নে কিছু টিপস

১। পা সবসময় পরিস্কার রাখুন।

২। পায়ের নখ সবসময় কেটে সাইজ করে রাখুন। বেশি বড় নখ ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। তাই নখ ছোট রাখাই ভালো।

৩। পেডিকিউর করতে ভুলবেন না। প্রতি সপ্তাহে একদিন পেডিকিউর করতে পারলে পা পরিস্কার থাকবে। ফলে পা এবং নখের ভেতর সঠিকভাবে পরিস্কার হয়।

৪। সঠিক জুতা পরিধান করুন। ঋতুভেদে জুতা বাছাই করুন। যেমন বর্ষাকালে আঙুল খোলা থাকে এমন জুতা পরুন। কাপড়ের জুতায় পা দীর্ঘক্ষণ ভিজে থাকার সম্ভাবনা থাকে। সব সময় পায়ের ত্বককে নোংরা পানি থেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। কারণ এই পানিতে রয়েছে হাজার রকমের জীবাণু। তাই কাদা এড়াতে চাইলে চপ্পল বা খোলা স্যান্ডেল পরা উত্তম বুদ্ধির কাজ হবে।

৫। প্রচুর পানি পান করুন। কারণ পানি হচ্ছে সব রোগের মহৌষধ। পানিশূন্যতার জন্যই মূলত শরীর শুস্ক হয়ে পড়ে। ফলে ত্বক জৌলুস হারায়, শুস্ক দেখায়। পা ফেটে যায়। তাই ত্বক ভালো রাখার জন্য বাইরে থেকে যেমন যত্ন নিতে হবে, তেমনই ভেতর থেকেও যত্ন নেওয়া জরুরি।

৬। নিয়মিত বাইরে থেকে ঘরে ফিরে হালকা গরম পানি দিয়ে পা ভালোভাবে পরিস্কার করতে হবে। ফলে যে কোনো ধরনের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে আসে। তবে বেশি সমস্যায় পড়লে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। া