শৈলী

শৈলী


বাড়িয়ে নিন জীবনীশক্তি

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২০      

মিনাক্ষী বিশ্বাস

এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম কভিড-১৯/করোনাভাইরাস। একথা এখন সবারই জানা। এ ভাইরাসের প্রকোপে বেড়ে চলেছে মৃত্যুর মিছিল। তাই প্রতিদিনের জীবনে চাই বাড়তি সতর্কতা। প্রাথমিকভাবে কী করা উচিত আর কী কী উচিত নয়, সেটা এখন সবার জানা।

প্রতিটি ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার যে মূলমন্ত্র, তা হলো ইমিউনিটি কিংবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেলে যে কোনো ভাইরাস দ্রুত শরীরে বাস করতে পারে। তাই ইমিউনিটি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে এই করোনাকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ভীষণভাবে জরুরি। শরীরে সেই ক্ষমতা থাকলে রোগ কিংবা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করা সহজ হবে।

শুধু করোনা নয়, ইমিউনিটি সিস্টেম ঠিক থাকলে আপনি যে কোনো রোগবালাই থেকে দূরে থাকবেন।

ইমিউনিটি সাধারণত তিন ধরনের হয়। প্রথমটি হলো প্রাকৃতিকভাবে। অর্থাৎ শিশু জন্মের সময় যে ইমিউনিটি নিয়ে জন্মায়। দ্বিতীয়টি হলো অ্যাডাপটিভ। অর্থাৎ সারা জীবন ধরে মানুষ যে ইমিউনিটি গ্রহণ করে থাকে এবং তিন নম্বরটি হলো প্যাসিভ ইমিউনিটি। শিশুদের ক্ষেত্রে যা হলো মাতৃদুগ্ধ।

ইমিউনিটিকে এককথায় বলা যায় মানবদেহের ডিফেন্স সিস্টেম। যে কোনো রকম ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তির জোগান দেয় ইমিউনিটি। তাই ইমিউনিটি সিস্টেমকে সবসময় চাঙ্গা রাখতে হবে। সঠিক খাবার, শরীরচর্চা, পরিমাণমতো ঘুম ইমিউনিটি বাড়াতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে।

আপনার খাদ্য তালিকায় কোন কোন খাবার থাকলে ইমিউটিনি বাড়বে আসুন জেনে নিই।

১. আদা চিকিৎসাশাস্ত্রে একটি উপকারী ওষুধের নাম।

ঠান্ডা কাশির জন্য আদার জুড়ি মেলা ভার। আদা ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। কাঁচা আদা চিবিয়ে কিংবা চায়ের মধ্যে দিয়েও খেতে পারেন।

২. প্রতিদিন চেষ্টা করুন ৬০ গ্রাম আলমন্ড খেতে। আলমন্ডে রয়েছে ভিটামিন ই। ফলে প্রাকৃতিকভাবেই বাড়বে আপনার ইমিউনিটি।

৩. ইমিউনিটি বাড়াতে ঘি খুব উপকারী। ঘিতে ফ্যাট থাকে ঠিকই কিন্তু শরীরচর্চা করে চাইলে আপনি এক্সট্রা ফ্যাট ঝরিয়ে নিতে পারেন। তবে ঘি ইমিউনিটি বাড়ায়।

৪. প্রতিদিন সকালে চেষ্টা করুন কয়েক কোয়া রসুন খেতে। রসুন শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এর মধ্যে থাকে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা সরাসরি ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে পারে।

৫. হলুদে রয়েছে একটি অত্যন্ত উচ্চমানের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। তাই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে জোরদার করতে নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখুন হলুদ। হলুদ সাধারণত রান্নায় খাওয়া হয়। কিন্তু সকালে খালি পেটে খেলে বেশি উপকার পাবেন। এক গল্গাস হালকা গরম জলে কাঁচা হলুদ আর একটি লেবুর রস মিশিয়ে খেতে হবে। দ্রুত ইমিউনিটি বাড়াতে হলুদ উপকারী বন্ধু হিসেবে কাজ করে।

৬. দুগ্ধজাত যে কোনো খাবারে বাড়ে ইমিউনিটি। তবে বিভিন্ন প্রডাক্টের মধ্যে দই দ্রুত ইমিউনিটি বাড়ায়।

বাড়িতে তৈরি দই কিংবা ইয়োগার্ট খেতে পারেন। এছাড়াও ভিটামিন বি-৬, জিংক জাতীয় খাবার, বিচিজাতীয়, বাদাম, সামুদ্রিক খাবার বেশি খেতে হবে।

৭. রোগ প্রতিরোধের শক্তি বাড়াতে সবুজ শাক-সবজির জুড়ি মেলা ভার। সবুজ সবজি বা বিভিন্ন রকমের ফল সব সময়ই ইমিউনিটি বাড়ায়। এখন হয়তো সব কিছু পাচ্ছেন না অনেকে। তবে, মৌসুমি ফলগুলো খেতে পারেন।

৮. চা পান করতে ভালবাসে না এমন মানুষ কম রয়েছে। তবে, গ্রিন টিতে উপকার পাবেন বেশি। গ্রিন টি ইমিউনিটি সিস্টেমকে সক্রিয় রাখে। এ সময় ঠান্ডা খাবার না খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৯. স্ট্রেস নেবেন না। কিছু স্ট্রেস অবশ্যই জীবনের একটা অংশ। কিন্তু এর কারণে যদি আপনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যেতে থাকেন তাহলে সেটা শরীরেও প্রভাব ফেলবে। খুব বেশি স্ট্রেসের মাঝে থাকলে মানুষ আরও গুরুতর অসুখে পড়তে পারে। ক্রমাগত স্ট্রেস নিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ধ্যান করুন, বুক ভরে শ্বাস নিন এবং যে সব কাজ বা মানুষ আপনার স্ট্রেস বাড়িয়ে চলেছে সেগুলোর সঙ্গে ব্যালেন্স করে চলতে শিখুন।

ওপরের তালিকার সবকিছু আপনার বাড়িতে নাও থাকতে পারে। সব না থাকলেও কয়েকটা জিনিস যদি খেতে পারেন, তাহলেও উপকার হবে। এর মধ্যে কিছু জিনিস প্রত্যেকের বাড়িতেই থাকে। তাই আলাদা করে জোগাড়ের বাড়তি ঝামেলা করতে হবে না।

এইসব খাবার আজ থেকেই মেন্যুতে যোগ করুন। ইমিউনিটি বাড়ান এবং সুস্থ থাকুন। া