শৈলী

শৈলী


সহজে সাজুন!

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      
বছরের এ সময়ে আবহাওয়া কথা দিয়ে কথা রাখে না। আকাশজুড়ে মেঘ করে কিন্তু বৃষ্টি আসে না। আবার মৃদু বাতাসে মন ছুঁয়ে যায়, কিন্তু শরীর জুড়োয় না। ভাদ্রের গরম বেশ অস্বস্তির। ঘেমে-নেয়ে চিটচিটে হতে হয়। দিনের কোনো অংশেই সেভাবে স্বস্তি নেই। তরুণরা তাই বাড়তি ভাবনা ভাবে এ সময়ের পোশাক নিয়ে।

গরমে আরামের জন্য পোশাকের রঙের আছে বেশ গুরুত্ব। যেসব রঙ আলোর প্রতিফলন ঘটায়, সেসব রঙের কাপড়ে গরম অনুভূত হয় কম। আর যেসব রঙ আলো শোষণ করে নেয়, সেসব রঙের কাপড়ে গরম অনুভূত হয় বেশি। এসব তথ্য মাথায় রেখেই বেছে নিতে হবে পোশাক। হালকা রঙের পোশাক যেমন সাদা, গোলাপি, আকাশি, পাতা রঙ, ছাই রঙ, লালের শেড, মাখন রঙ ইত্যাদি তাপমাত্রা শোষণ করে কম। আবার কালো, নীল এসব রঙ তাপমাত্রা শোষণ করে বেশি। দিনের কখন বাইরে বের হচ্ছেন অথবা উৎসব কিংবা দাওয়াতে যোগ দেওয়ার সময় কখন- দিন, নাকি রাত মাথায় রেখে যদি বেছে নেন পোশাকের রঙ তাহলে স্বস্তি পাবেন।

প্যাস্টেল রঙসহ যে কোনো রঙের হালকা শেড বেছে নিতে পারেন দিনের বেলার সাজ-পোশাকে। ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্যই এ পরামর্শ। সন্ধ্যার দাওয়াতে বেছে নিতে পারেন একটু গাঢ় রঙ। নীল, মেরুন, নেভি ব্লু, পার্পেল, কালো বেশ মানিয়ে যাবে এ সময়ে।

গোল গলা টি-শার্ট এ সময়ে এনে দেয় স্বস্তি। পরতে পারেন এমন ধরনের টি-শার্ট। রঙ হতে পারে উজ্জ্বল ধরনের। স্নিগ্ধ এবং উজ্জ্বল রঙ এ সময়ে মানিয়ে যাবে বেশ। চাইলে লেয়ার করে নিতে পারেন পোশাক। গোল গলা টি-শার্টের সঙ্গে বুক খোলা রেখে পরে নিতে পারেন ফুল হাতা শার্ট। হতে পারে তা প্রিন্ট কিংবা ছোট চেকের। লেয়ার করার ক্ষেত্রে দুটি পোশাকের রঙের দিকে নজর রাখুন। বিপরীত রঙ বেশ মানাবে এ ধরনের লেয়ারের ক্ষেত্রে। বাহুল্য বর্জন করুন এ সময়ে। কাটিং-এর বৈচিত্র্যে হয়ে উঠুন ট্রেন্ডি। মনে রাখবেন, যে কোনো পোশাক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরলে আপনাকে সাবলীল লাগবেই। জামার হাতার বিবর্তন বেশ কয়েক বছর ধরেই ফ্যাশনে ইন। স্লিভলেস পরতে পারেন। একঘেয়ে ডিজাইন এড়িয়ে ভিন্নতায় খুঁজে নিতে পারেন ফ্যাশন। তাই এবারের গরমের আয়োজনে ব্র্যান্ডের দোকানজুড়ে দেখা মিলছে নতুন ধরনের প্যাটার্নের পোশাকের। বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে মেয়েদের পোশাকের স্লিভে। থাকতে পারে বেল স্লিভ, অফ শোল্ডার এবং বেশ ফ্রিল দেওয়া স্লিভ। কনুই অব্দি নয়,





বরং কনুইয়ের একটু নিচ পর্যন্ত কাটিং এবারের ফ্যাশন। হাতার ঘেরের দিকে বৃদ্ধি পেয়েছে বেশ খানিকটা। কুর্তির ক্ষেত্রে নেক লাইনে করতে পারেন নতুন কিছু নকশার নিরীক্ষা। নিচের অংশের কাটিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পোশাকে নতুনত্ব নিয়ে আনা যেতে পারে পোশাকের নিচের অংশের নকশায় পরিবর্তন করে। পোশাকের নিচের অংশ সমান রাখতে যেমন পারেন, তেমনি অসমান কাটিং দিয়ে নিয়ে আসতে পারেন নতুনত্ব। মনে রাখবেন, এ সময়ের ফ্যাশনে বেশ জায়গা করে নিচ্ছে স্টাইল। অনেকেরই এখন রয়েছে নিজস্ব কিছু ভাবনা, যা তারা তুলে আনছেন পোশাকে এবং ফ্যাশন সচেতন সমাজ তাকে গ্রহণ করছে ভালোভাবেই।

বাতাসে বাড়ছে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ, ঘাম শুকাচ্ছে দেরি করে। তাই এ সময়ে ফেব্রিক বেছে নিতে হবে একটু চিন্তা করে। বাতাস চলাচল করতে পারে এবং ঘাম শুষে নেয় এমন ফেব্রিকে মিলবে স্বস্তি। হালকা বুননের কাপড়ে এ সময়ে স্বস্তি অনুভূত হবে। এড়িয়ে যেতে হবে ভারী ফেব্রিক। সুতি, খাদি, টু টোন, লিনেন ফেব্রিকে অনায়াসে আরাম খুঁজে পাওয়া যাবে। মসৃণ ফেব্রিক এ সময়ে তৈরি করবে না অস্বস্তি। সন্ধ্যার দাওয়াতে বেছে নিতে পারেন জ্যাকারড লিনেন, শিফন, ক্যাশমিলন অরগান্ডি এবং হাফ সিল্ক্ক ধরনের ফেব্রিক। এ ধরনের ফেব্রিকে ঘাম শুকিয়ে যায় তাড়াতাড়ি। তাই অস্বস্তির আশঙ্কা থাকবে কম। এ সময়ে সিলাত-এর মতো ভারী বুননের ফেব্রিক এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। সিল্ক্ক বরং তুলে রাখুন কিছু দিনের জন্য।

অলঙ্করণ ছাড়া পোশাক হয় না পরিপূর্ণ। এর বিষয় যেহেতু ছিমছাম অলঙ্করণ এ সময়ের পোশাক পরিধানকারীকে স্বস্তি এনে দেবে, তেমনি দর্শনকারীর চোখেও এনে দেবে স্বস্তি। ফুলেল নকশা এ সময়ে বেশ প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যাবে পোশাককে। ফুল নিজেই এক সৌন্দর্য। পোশাকের ক্যানভাসে ফুটে ওঠে তাতে তৈরি হয় অনন্যতা। জ্যামিতিক নকশাও রয়েছে এ সময়ের আয়োজনে। বেশ একটি কাঠামোগত সৌন্দর্য নিয়ে আসতে পারে পোশাকে জ্যামিতিক নকশা। সরল ধরনের নকশা এখন বেশ জনপ্রিয়। অলঙ্করণে খেয়াল রাখা হচ্ছে ছন্দের দিকে। বেশ একটি ছন্দ ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মোটিফ ব্যবহারের মাধ্যমে। যে মোটিফ আর যে মাধ্যমেই অলঙ্করণ করুন, মনে রাখবেন বর্তমানে ছিমছাম ডিজাইন আরামের আধার। বাহুল্য বর্জনে এ সময় পাবেন স্বস্তি।



লেখা : রেনেসা আফরিন

পোশাক : আর্টিজান হাট

মডেল : আমানি ও প্রিয়াম; ছবি : শৈলী