সাজে সতেজতা

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      
এ সময়ের রূপ সচেতনতা এবং রূপচর্চা দুই ক্ষেত্রেই এসেছে পরিবর্তন। নিয়মিত চর্চার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। বাহ্যিক সাময়িক সৌন্দর্যের প্রতি আগ্রহ আছে, তবে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী চর্চা এবং যত্ন। লিখেছেন সারাহ্‌ দীনা

রূপ সচেতনতা বহু পুরনো ধারণা। সৌন্দর্য সর্বদাই আকাঙ্ক্ষিত। এ সময়ের রূপ সচেতনতা এবং রূপচর্চা, দুই ক্ষেত্রেই এসেছে পরিবর্তন। নিয়মিত চর্চার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। বাহ্যিক সাময়িক সৌন্দর্যের প্রতি আগ্রহ আছে, তবে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী চর্চা এবং যত্ন। দেশের বাজার অনেক দিন দাপিয়ে বেড়িয়েছে ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম। গায়ের রঙ নিয়ে এক ধরনের তথাকথিত ধারণা বিশ্বের অন্য দেশের মতো এ দেশের জনগোষ্ঠীর মাঝেও ছিল এবং আছে। তবে বর্তমানে পালে লেগেছে বদলের হাওয়া। গায়ের ত্বকের শেডের বদলের বৈজ্ঞানিক কারণ নিয়ে এখন সচেতন অনেকেই। আবার আন্তর্জাতিক তারকাদের তামাটে গায়ের রঙে সাবলীলতাও শক্তিশালী প্রভাব তৈরি করেছে। এ বিষয়ে কথা হয় রূপবিশেষজ্ঞ বাপন রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'এখনকার মেয়েদের মাঝে গায়ের রঙ ফর্সা করার প্রবণতায় এসেছে পার্থক্য। নিয়মিত ত্বক চর্চায় এখন প্রধান আকাঙ্ক্ষার বিষয় সতেজতা এবং ত্বকের স্বাস্থ্য। এমনকি বর্তমান সময়ের কনে সাজতে আসা মেয়েরাও মেকআপ করে ফর্সা হতে চাইছেন না। বরং নিজের ত্বকের রঙকে একই রকম রেখে সাজ সম্পন্ন করতে চাইছেন। তাদের মাঝে নিজের ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে প্রসাধনী ব্যবহারের আগ্রহ রয়েছে। রঙ পরিবর্তন করে হালকা রঙা ত্বক তৈরিতে এখন আর আগ্রহ নেই। এ বিষয়টিকে আমি খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখি। কেননা, গায়ের রঙ নিয়ে অনেকের মুখেই শুনেছি মন খারাপের গল্প। নিজেকে নিজের সৌন্দর্য দিয়েই আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায় সঠিকভাবে। আরোপিত সৌন্দর্য নিজস্বতাকে ম্লান করে বলে আমি মনে করি।'

পরিবেশ দূষণ রোধে বিশ্ব সচেতন এখন। রূপ সচেতনরাও সচেতন তাদের রূপ প্রসাধনের ক্ষেত্রে। রাসায়নিক ব্যবহারেই তৈরি হয় প্রসাধনী। তালিকা করে লেখা থাকে প্যাকেটের গায়ে। রাসায়নিকের রসায়নের প্রভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া হয়েছে, এখনও হচ্ছে। কিন্তু রাসায়নিকের শুধু ইতিবাচক দিক রয়েছে এমন নয়। রয়েছে বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাব। যার ফলাফলে দীর্ঘদিন প্রসাধনের বিরূপ প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ত্বকে দেখা যাচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত দাগ এবং রেখা। এর থেকে মুক্তির জন্যও অনেকে ব্যবহার করছেন রাসায়নিকে ভরপুর প্রসাধনী। কিন্তু এতে স্বস্তির থেকে অস্বস্তির গল্প বেশি। তাই সমাধানে আগ্রহী বিউটি এক্সপার্টরা। দূষণরোধী প্রসাধনীর জোর খোঁজখবর চলছে। প্রকৃতির কাছেই এবার খুঁজতে হচ্ছে সমাধান। প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে তৈরি প্রসাধনীতে আগ্রহী হচ্ছেন রূপ সচেতনরা। প্রাকৃতিক ছোঁয়ায় দূষণে মুক্তি মিলছে। তাই প্রকৃতির জানা-অজানা অনেক উপাদান যুক্ত হচ্ছে প্রসাধনী তৈরির তালিকায়। এই পুরো ধারণাকে নামকরণ করা হয়েছে ক্লিন বিউটি। প্রসাধনে পরিপূর্ণতা আনা হচ্ছে প্রাকৃতিক উপাদানে।

আরও একটি ধারণা যুক্ত হয়েছে। পুস্তকি ভাষায় একে বলে ভেগান স্কিন কেয়ার। কোনো জীব কিংবা পশুর ক্ষতি না করে এ ধরনের প্রসাধনী তৈরি করা হয়। সঙ্গে কোনোভাবেই ব্যবহূত হয় না রাসায়নিক উপাদান।

প্রাকৃতিক উপাদানে রূপচর্চা ত্বকের ফলাহার। কয়েক বছর থেকে দেশের বিউটি বাজারে প্রযুক্তির প্রভাব দৃষ্টি কাড়ছে। বিউটি নিয়ে আগ্রহীরা বিউটি ব্লগ এবং বিউটি ভলগ দুইয়েই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন ইতিমধ্যে। সাজের নানা কায়দা দেখা যাচ্ছে ভিডিওতে, যার নাম হয়েছে বিউটি ভলগ। তৈরি করছেন রূপ সচেতন আধুনিকারা। নিজে সাজছেন অথবা অন্যকে সাজাচ্ছেন, এমন ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। পাওয়া যাচ্ছে ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। সাজের সম্পূর্ণ ধারাভাষ্য থাকছে। আবার বিউটি নিয়ে বিস্তর লেখালেখি করছেন অনেকে। নানান তথ্য আর টিউটোরিয়ালের স্থির ছবি দিয়ে বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে। বিউটি ব্লগ নামে বহুল পঠিত হচ্ছে। আমাদের দেশের বেশ কয়েকজন বিউটি ব্লগার এবং ভলগার পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। লাখ ছাড়িয়ে ভিউ হচ্ছে তাদের মেকআপ টিউটোরিয়ালের। সাজে যেহেতু স্বকীয়তা মেলছে পাখনা, তাই অবশ্যকরণীয় বলে বর্তমানে মেকআপ ডিকশনারিতে কিছু নেই। এখন সময় সতেজতার, বাহুল্য বর্জনের। অতিরঞ্জনে নয়, ফ্রেশনেসেই মুগ্ধতা।



মডেল :নিপুন

পোশাক :মিথ

ছবি :শৈলী

পরবর্তী খবর পড়ুন : পানাম আর মায়াদ্বীপে

অন্যান্য