শৈলী

শৈলী


পথ চলতে...

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      
একসময় স্যান্ডেল মানেই ছিল সাদাসিধে ধরনের। সেখানে খুব একটা ফ্যাশন বা আভিজাত্যের ব্যাপার ছিল না। এ ধারণা এখন বদলে গেছে অনেকটাই। বরং স্যান্ডেলে মানুষ নিজের ফ্যাশন সত্তাকে আরও বেশি করে ফুটিয়ে তুলতে পারে।

বৈচিত্র্যময় নানা নকশার জুতা বাজারে পাওয়া যায়। মানুষের মধ্যে এই ধারণা তৈরি করতে বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছে স্টেপ ফুটওয়্যার। স্যান্ডেলগুলোতে আছে বৈচিত্র্য। মানুষ স্বচ্ছন্দে গ্রহণ করছে এর নানা ডিজাইন।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ূয়া রাত্রি বলেন, 'বর্ষাকালে প্রতিদিন বাইরে বেরোবার জন্য স্যান্ডেল ছাড়া উপায় থাকে না। স্টেপের স্যান্ডেলগুলো ফ্যাশনেবল হওয়ায় জামার সঙ্গে ম্যাচিং করে সহজেই পরা যায়।' এনজিও কর্মী এমি বলেন, 'ফরমাল লুকে অফিসে আসাটা বেশ জরুরি। স্টেপের স্যান্ডেলগুলোতে সহজেই মানিয়ে নেওয়া যায়।' জুতার ক্ষেত্রে সচেতনতাও জরুরি। স্যান্ডেল ধরনের জুতা আরামদায়ক। এ ধরনের জুতার ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। যখন তখন বৃষ্টির আশঙ্কাই নয়, সঙ্গে রয়েছে আরও বেশ কিছু সমস্যা। আছে জলাবদ্ধতা। রাস্তার কাদা। এর সঙ্গে রয়েছে ভ্যাপসা গরম। গ্রীষ্ফ্মের বিদায়ে প্রকৃতিকে স্বস্তি দিতে বর্ষা আসে। সঙ্গে নিয়ে আসে নগর জীবনের একরাশ দুর্ভোগ। তাই এ সময়ে চাই সচেতনতা আর সঠিক পরিকল্পনা।

কয়েক বছর ধরে প্যাস্টেল রঙ রয়েছে পছন্দের তালিকার ওপরের দিকে। আর সাদার আবেদন চিরন্তন। বর্ষা এলেই ফ্যাশন বিষয়ক আলোচনায় অভিজ্ঞরা বলে দেন হালকা রঙের পোশাক আলমারিতে তুলে রেখে গাঢ় শেডের পোশাক বেছে নিতে। কিন্তু কতটা মেনে চলা যায় এ পরামর্শ? সব সময় কি আবহাওয়ার হিসাবে পরিকল্পনা হয়? এই ধরুন স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদের কথাই। স্কুল পোশাকে সাদা রঙ থাকলে তা বদলে অন্য রঙের পোশাক পরে স্কুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই। আর আমাদের দেশের স্কুল-কলেজের পোশাকের বেশিরভাগেই রয়েছে সাদা রঙের ব্যবহার। সাধারণত আমাদের জীবনযাত্রা ও ফ্যাশনের বিষয়বস্তুও তাই এই ষড়ঋতুকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। তেমনি করেই ভাদ্রে আমাদের পোশাক-আশাকের সঙ্গে জীবনে আরও একটি অতি কার্যকরী অনুষঙ্গ যোগ হয়। তা হলো ছাতা। কেননা, এ সময়ে রোদের তাপ এবং বৃষ্টি দু-ই দেখা দেয় যখন তখন। লম্বা ছাতার ব্যবহার আজকাল একটু কম চোখে পড়ে। হালকা, সহজেই বহনযোগ্য, ফ্যাশনেবল ও কাপড়ের সুন্দর ডিজাইনের জন্য ছোট আকারের ছাতার প্রচলনই বেশি। এ ধরনের কিছু ছাতা আবার বোতামে চাপ দিলে নিজে নিজেই খুলে যায় ও বন্ধ হয়ে যায়। ছোট ছাতা সাধারণত একজনের ব্যবহারের জন্যই তৈরি করা হয়। আবার মাঝারি আকারের ছাতাও পাওয়া যায়, যা দু'জন খুব সহজেই বৃষ্টি থেকে নিস্তার পেতে পারে। ডিজাইনের ক্ষেত্রে বলতে হয়, আমরা ছাতা কেনার সময়ও নিজেদের শৌখিনতার স্বাক্ষর রাখি। যদিওবা কালো রঙের ছাতার প্রচলন বেশি। অথবা বিভিন্ন রঙের ছাতা একসময় দেখা গেলেও বর্তমানের পরিস্থিতি বদলেছে। আজকাল প্রায়ই বিভিন্ন প্রিন্টের ছাতা চোখে পড়ে কালো কিংবা এক রঙের বদলে। নানারকম ফুল, লতাপাতা, গাছগাছালি, পশুপাখি কিংবা পছন্দের কার্টুন চরিত্রের সঙ্গে যোগ হয়েছে হালের ট্রান্সপারেন্ট বা স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ছাতা। যার সাহায্যে বৃষ্টির সময়ের আকাশটাকে খুব সহজেই উপভোগ করতে পারবেন।

সাধারণ ডিজাইনে আভিজাত্য, টেকসই, ফিনিশিং ভালো থাকায় জুতাগুলো মানুষের মনে খুব সহজেই জায়গা করে নিয়েছে। ফুটপাথের স্যান্ডেলগুলো দামে কম হলেও টেকসই না হওয়া আর মানের দিক দিয়ে খারাপ হওয়ায় অনেকে এর ওপর ভরসা রাখতে পারেন না। তাদের জন্য সমাধান হিসেবে আছে স্টেপসের স্যান্ডেল। ভাদ্র মাসের গরম আর বৃষ্টি দুটি বিষয়ই সবার জানা। দিনে হোক আর রাতে, প্রস্তুতি থাকা উচিত সবসময়ই। বৃষ্টি যতটাই উপভোগের বিষয় হোক না কেন, বাইরে বের হলে কাদাপানির ধকল সামলাতেই হয়। ফলে ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়। বিশেষ করে জুতার ক্ষেত্রে। কারণ, হুটহাট করে কখন বৃষ্টি হবে তা বোঝা মুশকিল। তাই দুই ফিতার স্যান্ডেল বা প্লাস্টিকের স্যান্ডেল খুবই উপকারী। পা-ঢাকা জুতা পরলে বৃষ্টিতে ভেজা পায়ে নানা ধরনের চর্মরোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। স্যান্ডেল পরলে পা ভিজে গেলেও তা শুকিয়ে নেওয়ার উপায় থাকে। পথে চলতে পায়ে কাদাপানি লাগলেও সহজেই পরিস্কার করে নেওয়া যায়। বর্ষার ক্ষেত্রে আরেকটি জিনিস মাথায় রাখতে হয়, তা হলো পা যাতে পিছলে না যায়। গাঢ় ধরনের রঙকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মূল কারণই হলো রাস্তার কাদাপানি লেগে জুতার ঔজ্জ্বল্য যাতে নষ্ট না হয়ে পড়ে। ফিতার ক্ষেত্রেও আছে বিভিন্ন রঙ আর ডিজাইনের বাহার। কখনও জরি আবার কখনও ফোমের বা প্লাস্টিকের ফুল বসানো হয়েছে। কখনও আবার পুঁতি বসানো হয়েছে রঙবেরঙের। স্টেপ বিজনেস ডেভেলপমেন্টের ম্যানেজার জাহিদুল হাসান জানান, সব সময়ই আরামদায়ক জুতা না হলে চলে না। এ শহরে হাঁটতে হয়, বাহনে উঠতে হয়। একই সঙ্গে রয়েছে বৃষ্টি ও খানাখন্দের বিড়ম্বনা। তাই আমরা তৈরি করি আরামদায়ক নকশার স্যান্ডেল। ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্যই। দাম নির্ধারণ করা আছে ৫০০ থেকে শুরু করে ২০০০ টাকা। এর মধ্যেই পেয়ে যেতে পারেন মনমতো স্যান্ডেল।