শখ থেকে আয়

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      
প্রিয় শখ জীবনের বিশাল অংশ জুড়ে থাকে। দিনের অনেকটা সময় কেটে যায় ব্যস্ততায়। শখ তার মাঝে এক টুকরো স্বস্তির নাম। দু'জন মানুষের শখ থেকে আয়ের গল্প বলছি আজ



নওশিন লায়লা মুনমুনের ছোটকাল থেকেই পশু-পাখির প্রতি টান। শখ করে একটি মোরগ কেনেন। তার নাম রাখেন লালী। সময়টা ছিল ১৯৯০ সাল। আজ থেকে ২৮ বছর আগের কথা। তখন মুনমুন পড়াশোনা করতেন। মুনমুন এরপর পোষা পাখি কিনে আনেন। বিদেশি খাঁচায় পোষা পাখি। বাজরিগার, ককাটেল, লাভ বার্ড। এরপর কেনেন খরগোশ। পশু-পাখির তার সঙ্গ বেড়েই চলে। মানুষের মতো পাখির অসুখ হয়। ঠাণ্ডা লাগে, ডায়রিয়া হয়। চিকিৎসক তো তখন তেমন ছিল না। অনেকে ভুল পরামর্শ দেয়। মুনমুনের অনেক পাখি মারা যায়। বিষয়টা তাকে মর্মাহত করে। তিনি পড়াশোনা শুরু করেন। মানুষের সঙ্গে পাখির অনেক মিল।

এদিকে নিজের পাখির সংখ্যা বাড়ে। পাখি বিক্রির টাকায় পাখির খরচ চলে। বর্তমানে তার পাখির সংখ্যা ৪০ জোড়ারও বেশি। পাখি সব করে রব- কবির এ কথার সত্যতা পাওয়া যায় তার বাসায় গেলে। নানা রঙের নানা প্রজাতির পাখি। লাভ বার্ড পাখি আছে, একে অপরের গা খুঁটে দেয়। বাচ্চাদের খাইয়ে দেয়। অপূর্ব সে দৃশ্য। ককাটেল যখন মাথা দুলিয়ে শিস দেয়, তখন তাকে গায়কের মতোই মনে হয়। একদিকে পড়াশোনা, অন্যদিকে নওশিন তার পরীক্ষা চালান নিজের পাখির ওপর। তিনি বহু জটিল রোগের ভেষজ ট্রিটমেন্ট বের করেন। তখন অবশ্য মুনমুনের পাখি বিক্রিতে বেশ ঝামেলা হয়। ইন্টারনেট এত সহজলভ্য ছিল না। পাখির বাজার বলতে কাঁটাবনে গুটি কয়েক দোকান। খাঁচার পাখির বিষয় মানুষ তেমন জানতই না।

মুনমুন চিন্তা করলেন, কিভাবে পোষা পাখি পালকদের সংখ্যা বাড়ানো যায়। তিনি ফেসবুকে খোলেন বাংলাদেশ বার্ড হেল্প গ্রুপ। এই গ্রুপ খাঁচার পাখির বিষয়ে মানুষকে সহায়তা করে। অসুখ-বিসুখ, পাখি পালন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়। পাখি বিক্রির টাকায় তিনি পাখির খরচ সামলান। বাড়তি কিছু অর্থ জমা থাকে। সেটা তিনি সংসারের কাজে লাগান। গৃহবধূরা তার মতো পোষা পাখি পালন করতে পারেন। বাড়তি অর্থে সংসারে সচ্ছলতা আসতে পারে- মুনমুন এমনটাই মনে করেন। বারান্দায় পোষা পাখি রাখা যায়। পাখির খাঁচা, খাবার, ওষুধ কাঁটাবনে পাওয়া যায়, যা অনেকের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। মুনমুনের মতে, শখ থেকে ভালোই আয় করা সম্ভব। সেটা যেমন পুরুষরা করতে পারেন, তেমনি নারীদের জন্য করা কোনো ব্যাপার নয়। যারা পোষা পাখির খামার করতে চান, তাদের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন তিনি। অনেকেই তাকে 'পাখি আপা' বলেও ডাকে।

পোষা পাখির মতোই বিচিত্র রঙে ভরা শখ অ্যাকুয়ারিয়াম।

এরফান কে এইচ হৃদয়। পুরোদস্তুর স্টুডেন্ট। এমবিএ পড়েন। পড়াশোনায় মেধাবী। আবার অ্যাকুয়ারিয়াম করে সাড়া ফেলেছেন। তিনি করেছেন প্ল্যানেট অ্যাকুয়ারিয়াম। প্ল্যানেট অ্যাকুয়ারিয়াম হলো যার মধ্যে ন্যাচারাল গাছ থাকে। নানা রকম গাছ তার অ্যাকুয়ারিয়ামের মধ্যে। দেখতে অদ্ভুত সুন্দর বটে। পানির মধ্যে গাছ বড় হয়। এরফান তা কেটে বিক্রি করেন। সেটা দিয়ে অ্যাকুয়ারিয়ামের খরচ তো হয়ই, আবার চা-নাশতার টাকাও পকেটে থাকে।

শখ তো শখই। তা থেকে আয়ের চিন্তা অনেকেই করেন না। তবে শখ থেকেও আয় করা সম্ভব। শখ থেকেই শখের বস্তুর পেছনে প্রয়োজনীয় খরচের জোগান দেওয়া সম্ভব। শখের কাজটা একটু পরিকল্পিত ও গোছানো হওয়া দরকার।



লেখা ও ছবি :মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

পরবর্তী খবর পড়ুন : সুগন্ধির মোহনীয়তায়

অন্যান্য