শৈলী

শৈলী


ফ্যাশন সার্কিটে ফিফটি এমের উদ্যোগ

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      
বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ডে তরুণ বা উদীয়মান ডিজাইনারদের কাজ থাকে না। তরুণ ডিজাইনারদের আকৃষ্ট করতে ভিন্ন ধরনের কিছু পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছে হার্ডিম্যান। তাদের মূল আগ্রহের জায়গাটি মূলত খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে। অভিজাত শোরুমের বাইরে থাকা ভোক্তাদের নিয়েই ভেবেছে ফ্যাশন ব্র্যান্ডটি



পোশাক শুধু মৌলিক চাহিদা হিসেবে নেই। একে এখন বলতে হয় মৌলিক চাহিদার চেয়ে বেশি কিছু। সময়, সমাজ আর স্বস্তিকে প্রকাশ করে পোশাক। ফ্যাশন হাউসগুলো বিষয়টি জানে। নিত্যনতুন কায়দায় পোশাক বিক্রি, পোশাক উপস্থাপনে তারা সক্রিয় আছেন।

সম্প্রতি আমস্টার্ডামভিত্তিক ফ্যাশন হাউস হার্ডিম্যান লন্ডনে খুচরা পর্যায়ে পোশাক উপস্থাপন ও বিক্রির নতুন কায়দা নিয়ে হাজির হয়েছে। ফ্যাশনের জন্য লন্ডনের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। হার্ডিম্যান তাই লন্ডনকেই বেছে নিয়েছে তাদের নতুন নিরীক্ষার জন্য।

বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ডে তরুণ বা উদীয়মান ডিজাইনারদের কাজ থাকে না। তরুণ ডিজাইনারদের আকৃষ্ট করতে ভিন্ন ধরনের কিছু পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছে হার্ডিম্যান। তাদের মূল আগ্রহের জায়গাটি মূলত খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে। অভিজাত শোরুমের বাইরে থাকা ভোক্তাদের নিয়েই ভেবেছে ফ্যাশন ব্র্যান্ডটি।

ফিফটি এম নামে এ প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে আছে ক্রিয়েটিভ স্টুডিও সামথিং অ্যান্ড সন। এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ডি ম্যারিট ও পল স্মিথ মনে করেন, তাদের এই উদ্যোগ তরুণ প্রতিভাবান ডিজাইনারদের জন্য ইতিবাচক। একই সঙ্গে বড় স্টোরের বাইরে থাকা বিপুল সংখ্যক খুচরা ক্রেতাসাধারণের কাজেও আসবে এটি। সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে ফিফটি এম এর আগেও বেশ কিছু সাড়া জাগানো কাজের জন্য আলোচিত ছিল। অ্যান্ডি ও পল ক'বছর আগেই নি জার্নাল নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে ছিল তরুণ ডিজাইনারদের কাজ। তারা সেখানে প্রকাশ করেছিলেন, প্রতিযোগিতার মধ্যে থেকে একটি ছোট ব্র্যান্ড কীভাবে প্রভাবশালী হতে পারে। এ বছর ফিফটি এম শুধু প্রতিভাবান নারী ডিজাইনারদের কাজ নিয়ে একটি প্রদর্শনী করে। তারা ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করেন। এটিকে তারা উল্লেখ করছেন সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে। এ উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন খ্যাতনামা ডাচ্‌ ফ্যাশন ডিজাইনার ডুরান ল্যানটিক। তিনি ক্রেতাদের পুরনো পোশাক নিয়ে আসার আহ্বান জানান। এরপর সেই পোশাকটিকেই তারা একটি অভিজাত বিলাসবহুল পোশাক হিসেবে তৈরি করে দেন। ক্রেতা পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল এ উদ্যোগটি।

ফিফটি এম তাদের নতুন এই উদ্যোগে গুরুত্ব দিয়েছে ইন্টারনেট মাধ্যমকেও। তাদের ই-কমার্স সাইটেও নতুন পোশাক সম্পর্কে ধারণা পাবেন ক্রেতারা। তাদের লন্ডন শোরুমে স্থান পেয়েছে ৫০টির মতো ছোট ব্র্যান্ড ও ডিজাইনারদের কাজ। এর সংখ্যা সামনের দিনে আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন ফিফটি এমের উদ্যোক্তারা। বিলাসবহুল পোশাকের দোকান নয়, ফিফটি এমের শোরুমটি একদম জৌলুসহীন, সাদামাটা। দাম বেশি ভেবে কোনো ক্রেতা এখানে প্র্রবেশ করতে দ্বিধায় থাকবেন না। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, এ যেন ফুটপাতে সাজিয়ে বসা পোশাকের পসরা। খুচরা ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে ভিন্ন ধরনের এই উপস্থাপন।

অ্যান্ডি ম্যারিট জানান, লন্ডন বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি ফ্যাশনেবল এলাকা। তাই তারা লন্ডনের প্রতি আরও মনোযোগী হবেন। সামনের দিনে আরও ছোট ছোট ব্র্যান্ড ও নতুন ডিজাইনারদের নিয়ে কাজ করবে ফিফটি এম।

এখন ফিফটি এমের শোরুমে শোভা পাচ্ছে পুরুষ, নারী ও শিশুদের পোশাক। আছে জুয়েলারি। সিরামিক দিয়ে তৈরি নানা পণ্যও এখানে শোভা পাচ্ছে। শুধু শোরুম নয়, প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্ব দিচ্ছে ডিজাইনারদের প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার ওপরেও। এটি হয়ে উঠছে এমন জায়গা, যেখানে তরুণ ডিজাইনাররা পরস্পর নিজেদের কাজ নিয়ে কথা বলতে পারেন। যে মিথস্ট্ক্রিয়া জন্ম দেয় নতুন সৃষ্টি। বাজার দখলের এই তীব্র প্রতিযোগিতার যুগে ফিফটি এমের এই উদ্যোগ অভিনব। পণ্য বিক্রিতে তারা কতটা সফল হয়েছে সে উত্তরের জন্য ভবিষ্যতের দিকে চোখ রাখতে হবে।



লেখা :হাসান শাওন