ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


মেধাবী মুখ

এই অনুভূতি অন্যরকম

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০১৯      

সানজিদা ইমু

অন্য দশ-বারো জনের মতোই আমিও সাধারণ ছাত্র ছিলাম। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমার জানার প্রতি আগ্রহ ছিল। তাই তখন থেকেই বিভিন্ন জিনিসের পেছনের কারণ খুঁজতাম। আমি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং বাংলাদেশ রাইফেলস কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করি। মাধ্যমিকে ৫.০০ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ৪.৭০ পেয়ে সাফল্যের সঙ্গে পাস করি।

ছোটবেলার গল্প থেকে আজকে একজন সফল এবং গর্বিত সন্তান হওয়ার গল্প বলেছিলেন মো. এজাজুল করিম। এজাজ বলেন, 'ইচ্ছে ছিল ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। এর চেয়েও প্রবল ইচ্ছে ছিল বিভিন্ন বিষয় এবং অবশ্যই জীবন সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি লাভ করা এমন একটি বিষয় নিয়ে পড়ার। আর তাই জগন্নাথে খ আর ঘ ইউনিটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংলিশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সোশ্যাল ওয়েফেয়ার, হেলথ ইকোনমিক্স এবং অন্যান্য সাবজেক্ট পাওয়ার পরও আমি দর্শনে আমার পুরো পরিবারের অসম্মতিতে নিজ ইচ্ছায় ভর্তি হই।'

'ভর্তির পর প্রায় প্রথম সেমিস্টার থেকেই প্রথম স্থান অধিকার করি। আর শেষ পর্যন্ত প্রথম স্থান পেয়েই অনার্স পর্ব শেষ করি। যার ফলে আমি ২০১৮ সালে কলা অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং ডিপার্টমেন্টের স্বর্ণপদক অর্জন করি।'

তিনি বলেন, 'প্রথম বর্ষ থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখিতে মনোযোগ দিই। আর এর সঙ্গে অন্যান্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট করার চেষ্টা করি। চেষ্টা করতাম শুধু দর্শনের জ্ঞান অর্জন না করে এর পাশাপাশি অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করতে এবং তা নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে। আর চেষ্টা করতাম আমার উপলব্ধিগুলো শুধু নিজের মধ্যে না রেখে অন্যদের কাছে তুলে ধরতে। এর ফলে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ছাত্রছাত্রীরা আমার কাছে দর্শন সম্পর্কে জানতে আসত।' ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং স্বর্ণপদক পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে এজাজ বলেন, 'এই অনুভূতি একেবারেই অন্যরকম। আমি কখনোই ভাবিনি যে, এত সম্মান পাব! এর সঙ্গে এটা বলতে চাই যে, আমার এই অর্জন শুধু একার নয়। এই অর্জন আমার পরিবারের, আমার শিক্ষকদের, আমার বন্ধু-বান্ধবদের এবং সর্বোপরি আমার ডিপার্টমেন্টের। তারপরও এটা মনে রাখা জরুরি যে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং স্বর্ণপদকের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা যে স্কিল ও উপলব্ধি অর্জন করেছি, এসব অনেক দূরে নিয়ে যাবে।' এজাজ বর্তমানে আমেরিকায় স্কলারশিপসহ দর্শনে মাস্টার্স করছেন। তিনি বলেন, 'আমার ইচ্ছা একাডেমিক পর্যায়ে কাজ করার এবং দেশে ফিরে আসা। এর কারণ আমি মনে করি, আমার এই দেশকে কিছু দেওয়া উচিত। আমাদের প্রত্যেকের ভাবা উচিত, সে জীবন থেকে আসলে কী চায়। একজন তার জীবন থেকে যা-ই চাক না কেন- এর মধ্যে বাংলাদেশের উন্নতির স্বপ্নও থাকা উচিত। আমি আশাবাদী, একদিন আমাদের দেশ উন্নতির শিখরে উঠবে।'