'বাড়ি আসছি ..'

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০১৯      

জাহিদ খান

বাবা, আমি শিগগির বাড়িতে আসছি। মাকে আমার জন্য কোনো চিন্তা না করতে বলো। আমার প্রথম বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তাই এবার অনেক দিন বাড়িতে থাকতে পারব। এবার ঈদে সবাইকে নিয়ে অনেক মজা করব। কতদিন তোমাদের দেখি না! ভাইয়া-আপু ভালো আছে তো? আর দাদুর খবর কী? বাড়ি ফেরার খবরটি এভাবেই উচ্ছ্বসিত মনে মোবাইল ফোনে বাবাকে জানাচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফৌজিয়া রহমান। আকাশছোঁয়া আনন্দ নিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আসছে আবারও খুশির ঈদ। দু'মাস পর আবারও এই ঈদ সারাবিশ্বের মানুষকে সাম্য, মৈত্রী আর ভালোবাসার বন্ধনে কিছুক্ষণের জন্য হলেও এক কাতারে নিয়ে আসবে। ভুলে যাবে সব ভেদাভেদ। ঈদের কারণে ইট-পাথরে গড়া যান্ত্রিক নগরী ঢাকা ক্ষণিকের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াবে। এবারের ঈদের অন্যতম আকর্ষণ কোরবানির পশু কেনা। এ জন্য ইতিমধ্যে ভিড় পড়েছে বাজারগুলোতে। ঈদের ছুটিতে দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেমে এসেছে নীরবতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী তানিয়া জানান, 'যাদের বাড়ি ঢাকা থেকে একটু দূরে তাদের ঈদের আনন্দটা একটু অন্যরকম।'

অনেকদিন পর তারা মিলিত হবেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। তবে তার আগে তাদের জন্য রয়েছে অনেক প্রতিকূলতা। তার অন্যতম হলো টিকিট পাওয়ার সমস্যা। যারা ইতিমধ্যে টিকিট করে ফেলেছেন তারাই একমাত্র নিশ্চয়তা দিতে পারেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের ছাত্রী রিমি জানান, 'আমার বাড়ি সিলেটে। বাড়ি যাওয়ার জন্য অনেক কষ্ট করে টিকিট পেয়েছি। এখন খুব ভালো লাগছে।' চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র রাজীব জানান, 'ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি, আমরা চাই ঈদে সব বৈষম্য ভুলে সারা বিশ্বের মানুষ মেতে উঠুক শান্তি-সুখের উল্লাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধুদের গল্প এবার বাড়িতে গিয়ে শোনাব সবাইকে। যারা এই আনন্দটা ক্যাম্পাসে কাটাবে তাদের কাছে এটা হবে অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী নানা কারণে ক্যাম্পাসে ঈদ উদযাপন করবে।'

অনেকে শিক্ষাজীবনের শেষ বছরের ঈদটা ক্যাম্পাসে কাটানোর চেষ্টা করেন। এবারের ঈদে বাড়ি যেতে পারছেন না রাজীব। 'হঠাৎ করেই পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করে, এমন সময় ঠিক হলো, বাড়ি গেলে প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটবে। মা বলেছেন অন্তত একদিনের জন্য হলেও যেন বাড়ি যাই।' রাজীবের ঈদটা এবার হলেই কাটবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুহসিন হলের আঙিনায় কথা হচ্ছিল শুভ, রাকিব, আনিসদের সঙ্গে। তারা এবার ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছেন। 'আমার গত রোজার ঈদ হলে করতে হয়েছিল একটি কারণে। যখন সিদ্ধান্ত নিলাম বাড়ি যাব না, তখন তো কান্না পেয়েছিল। পরে দেখলাম খুব একটা খারাপ লাগছে না। দেশের একপ্রান্তে যখন মানুষ তার চরম ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে বন্যা মোকাবিলার মাধ্যমে, তখন আমরা ধনী ও বিত্তবান সমাজ যদি একসঙ্গে এগিয়ে আসি তবেই দূর হবে সব অশুভ শক্তি। বাঙালি জাতি সব সময় শত দুর্যোগে একসঙ্গে লড়েছে। জয় করেছে সব বাধা। ঘুরে দাঁড়িয়েছে আবার। তাই সবার প্রচেষ্টায় এবারও এ দুর্যোগ জয় করব। ঈদ হবে সবার উৎসব। এ প্রত্যাশাই সবার।

পরবর্তী খবর পড়ুন : এই অনুভূতি অন্যরকম

অন্যান্য