ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

শিক্ষা সফরে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯

জাহিদ খান

শিক্ষা সফরে বাংলাদেশ

রাশিয়া থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২১ জন মেধাবী শিক্ষার্থী প্রায় দু'মাসের শিক্ষা সফরে এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন- ছবি :হামিদুল হক

প্রবাদে আছে- জ্ঞান অর্জনের জন্য পূর্বদেশে যাও। আর এখন জ্ঞান অর্জনের জন্য বিদেশিরা বাংলাদেশে আসছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমের স্টুডেন্ট কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের এক দল উদ্দীপ্ত তরুণ ছাত্র-ছাত্রী এসেছেন বাস্তবিক জ্ঞান অর্জনের জন্য নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এই মেগা প্রজেক্টের সুপার কনস্ট্রাকশনের বিভিন্ন খুঁটিনাটি দিক জানতে, বুঝতে ও হাতেকলমে শিক্ষা অর্জনের জন্য ২১ জন মেধাবী শিক্ষার্থী প্রায় দু'মাসের শিক্ষা সফরে এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। সমগ্র রাশিয়া থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানান বিষয়ে অধ্যয়নরত এসব তরুণ-তরুণীরা গত ৯ জুলাই বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন। কেউ-বা সুদূর সাইবেরিয়া থেকে, আবার কেউ-বা উরাল মাউন্টেন এলাকা থেকে বহুদূর পাড়ি দিয়ে অতিথি পাখির মতো দুই মাসের জন্য বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছেন কাজের নিমিত্তে। এসব স্বপ্নবাজ তরুণ আগামী দিনে রাশিয়ার নিউক্লিয়ার ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি। তাদের মাঝে একজন রয়েছেন বাংলাদেশি। রাশিয়ার মস্কোয় অবস্থিত জাতীয় পারমাণবিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেশালিস্ট কোর্সে অধ্যয়নরত মোহাম্মদ হামিদুল হক। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার পল্গান্ট ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন ও অপারেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র ময়মনসিংহের ছেলে মোহাম্মদ হামিদুল হক বলছিলেন- স্টুডেন্ট কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড একটি অনন্য বিশেষ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, যারা রাশিয়ায় ও রাশিয়ার বাইরে বিভিন্ন নিউক্লিয়ার সাইটে গ্রীষ্ফ্মকালে কাজ করে হাতেকলমে বাস্তব জ্ঞান লাভ করেন। যা একটি অসাধারণ সুযোগ। যেখানে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের পূর্ণ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর ছাত্রছাত্রীরা সহপাঠ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডে যোগদান করেন। সংখ্যাটি শুনে অবাক হওয়ার মতোই, প্রায় দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার ছাত্রছাত্রী এই সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত। এবার আসি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে। প্রতিবছরই গ্রীষ্ফ্মের ছুটিতে দু'মাস ব্যবহারিক জ্ঞান লাভের জন্য কাজ করার সুযোগ আসে। এ জন্য প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে কিছু যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। তাছাড়া ভলান্টারিয়ান কাজে আগ্রহী হতে হয়। রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে নানা কাজে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে হয়। রাশিয়ার বাইরে যেমন বাংলাদেশ, তুরস্ক প্রভৃতি দেশের জন্য কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের আবেদনের জন্য নূ্যনতম রাশিয়ার ভেতরে দুই বছর কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। আবেদন করার সময় নিজের সম্পর্কে সাত পৃষ্ঠার প্রেজেন্টেশন- যেখানে নিজের অর্জন, দক্ষতা ও প্রাপ্ত বিভিন্ন সার্টিফিকেট উল্লেখ করতে হয়। তা ছাড়া নিজের জীবনবৃত্তান্ত ও মোটিভেশনাল লেটার লিখতে হয়। তারপর রোসাটম প্রোফাইল দেখে ছাত্রছাত্রীদের নির্বাচন করে থাকে। এখন বলি কাজের পরিধি সম্পর্কে। রিয়েল টাইম নিউক্লিয়ার পাওয়ার পল্গান্ট কনস্ট্রাকশন কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টরের মূল কনটেইনমেট বিল্ডিং, কোর ক্যাচার, টারবাইন হল, কুলিং টাওয়ারসহ সব অক্সিলারি কাজের সাইটে ঘুরে ঘুরে চক্ষু-কর্ণে জ্ঞান লাভ করা যায়। এমনকি স্বয়ং নিজেকে নির্মাণ কাজে অংশ গ্রহণ করতে হয়। যা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখে। তা ছাড়া বিভিন্ন কন্ট্রোলিং, সমীক্ষা ও নিরীক্ষা, দাপ্তরিক কাজ-কর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়। প্রতিদিন বিভিন্ন সেকশনের অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব থেকে ওই প্রজেক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। এরপর অনেকে শিক্ষানবিশ শেষে এই প্রতিষ্ঠানে কর্মী হিসেবে যোগদান করে থাকেন। এমনকি বর্তমানের অধিকাংশ কর্তাব্যক্তি একসময় এই স্টুডেন্ট কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডে কাজ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্রের ডিরেক্টর, প্রধান প্রকৌশলী, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রধানসহ অনেকে আগে এই ব্রিগেডে কাজ করেছেন। এই ব্রিগেড ছাত্রদের করপোরেট কর্মী হিসেবে তৈরি করে এবং নেতৃত্বের গুণাবলি সৃষ্টি করে।