ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


মেধাবী মুখ

মা-ই আমার অনুপ্রেরণা

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯      

সানজিদা ইমু

ছোটবেলা কেটেছে ভীষণ আনন্দে। কখনও পড়াশোনার চাপ সৃষ্টি করা হয়নি, যা বিরক্তির কারণ হতে পারে। আমরা যমজ দুই বোন। যার ফলে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনাটা প্রতিযোগিতার সঙ্গে চলত। ছোটবেলায় দু'জন এক সেকশনে ছিলাম। আমার যমজ বোন 'মোহনা'কে আমি কখনও টপকাতে পারতাম না। ফলে মা কঠিন সিদ্ধান্তে এসে আমাকে অন্য সেকশনে দিয়ে দিলেন। মূলত তখন থেকেই মা আত্মবিশ্বাস অর্জনে সহায়তা করেছিলেন। তখন থেকেই আমি প্রথম স্থান অর্জন করতে থাকি। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে 'জয়নুল বৃত্তি', এরপর 'জুনিয়র বৃত্তি' পেয়েছি। ছোটবেলার সাফল্যের হাত ধরে বর্তমানে এগিয়ে চলার গল্প বলেছিলেন শতাব্দী দাস। যিনি প্রথম বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো তার একাডেমিক সাফল্যের জন্য স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

শতাব্দী বলেন, 'মা শিক্ষক হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই স্কুল ব্যাগ নিয়ে ছাত্রীদের আসা-যাওয়া দেখতে দেখতে আমাদের স্কুলে যাওয়ার আগ্রহটা সময়ের আগে থেকেই তৈরি হয়েছে। ভালো করে পড়াশোনা করতে হলে শিক্ষকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে- এ কথাটা মা সবসময় বলেন এবং আমার বাবা একজন প্রকাশক হওয়ায় বইয়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠেছিল ছোটবেলা থেকেই। বাবা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বাইরের প্রচুর রাশিয়ান শিশুতোষ গ্রন্থ, জীবনী গ্রন্থ এবং শিক্ষামূলক বিভিন্ন বই এনে দিত, যার কারণে ছোটবেলা থেকেই কেবল পাঠ্যবই নয়, অন্যান্য বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ে। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে পরিবারের সহযোগিতা ছিল সবসময়। শুধু পড়াশোনা নয়, আমাদের যোগ্যতা অনুযায়ী সব রকম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি পরিবার থেকে।'

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে সাফল্যের সঙ্গে অর্জন করেছিলেন সর্বোচ্চ জিপিএ। এরপর সুযোগ পেয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক এবং ঘ উভয় ইউনিটে। শতাব্দী বলেন, 'ঢাবিতে পড়ার সময় জানতে পারি ভারতের সরকারি সেরা ইনস্টিটিউটের মধ্যে অন্যতম একটিতে সুযোগ হয়েছে আমার। সরকারি বৃত্তি নিয়ে পড়ার মধ্যে একটা সম্মান, পাশাপাশি আত্মমর্যাদাবোধ বাড়ে, মা-বাবার মুখে কথাটি অনেকবার শুনেছি। এ কারণেই সেখানে ভর্তি হয়ে যাই। পরে মাস্টার্স করার জন্য সুযোগ পাই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে।' এরপর যেন শুধুই এগিয়ে যাওয়ার সময়। সিজিপিএ ১০-এ ৯.৮ পেয়ে শতাব্দী দাস প্রথম বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো তার একাডেমিক সাফল্যের জন্য স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। তিনি বলেন, 'ক্যাম্পাস লাইফটা মিশ্র অনুভূতির জায়গা। এখানকার সহপাঠী, পরিবার, দেশ ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা বিভিন্ন দেশের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কম্পিটিশন সবকিছু মিলিয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতির আশ্রয় এই ক্যাম্পাস।

এ ছাড়া কালচারাল কো-অর্ডিনেটর হিসেবে যুক্ত ছিলাম দু'বছর এনআইটিতে। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেছি।' ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে শতাব্দী বলেন, 'ঝঠঘওঞ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যে অকৃপণ সহযোগিতা ও পরামর্শ পেয়েছি, তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করতেই হয়। ভবিষ্যতে গবেষণামূলক কাজ চালিয়ে যেতে চাই। কাজ শুরু করার জন্য তৈরি হচ্ছি এবং নিজের দেশের কল্যাণে সেই কাজগুলোকেই প্রয়োগ করতে চাই।'