'কুইজ ম্যানিয়া-৭' 'কুইজ ম্যানিয়া-৭'

প্রস্তুত টিম বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ২৭ জুলাই ২০১৯      

আজাদ হোসাইন খান

প্রস্তুত টিম বাংলাদেশ

বিজয়ী সেন্ট যোসেফের দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী সামি এবং তাজোয়ার- ছবি :সংগ্রহ

নেপালের ক্রিয়েটিভ মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের প্রযোজনায় আয়োজিত কুইজ অনুষ্ঠান 'কুইজ ম্যানিয়া-৭' ওয়ার্ল্ডওয়াইডে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পর্বের বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২০ জুলাই সকালে রাজধানীর বিজ্ঞান কলেজে এ বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪০০-এর বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। প্রথমে ৫০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর খাতায় দেয় প্রতিযোগী দলগুলো। সেখানে সর্বোচ্চ সঠিক উত্তরদাতা চারটি দল বেছে নিয়ে করা হয় 'র‌্যাপিড ফায়ার রাউন্ড', প্রত্যেক দলের হাতে ছিল এক মিনিট। সেই এক মিনিটে করা হয় নয়টি প্রশ্ন। সর্বোচ্চ সঠিক উত্তরদাতা পেয়ে যায় মূল পর্বে অংশ নেওয়ার টিকিট। যে দু'জন প্রতিযোগী মূল পর্বে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়, তারা হলো- সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মো. আব্দুল্লাহ আস সামি এবং সৈয়দ তামজিদ তাজোয়ার। বাছাই পর্ব অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে সনদপত্র তুলে দেন নেপালের প্রখ্যাত অভিনেতা রাজেশ হামাল। কুইজ ম্যানিয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর শেখ শরফুদ্দিন রেজা আলী চৌধুরী বলেন, 'বাংলাদেশে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। অবশেষে বাংলাদেশ পর্বটি সফলভাবে সম্পূর্ণ করতে পেরেছি। আমি মনে করি, কুইজ ম্যানিয়া প্রত্যেক দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেবে। এটি বিভিন্ন দেশের মধ্যে বন্ধন জোরদার করবে।' কুইজ ম্যানিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ফাইনাল রাউন্ড নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হবে চলতি বছরের ১২ থেকে ২২ আগস্ট। যেখানে বিশ্বের ৬০টি দেশ থেকে ১২০ প্রতিযোগী (৬০টি দল) অংশগ্রহণ করবে। সব দেশের বিজয়ী শিক্ষার্থীরা টেলিভিশন শো রেকর্ডিংয়ে অংশ নেবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নেপালের পোখারা ও চিতওয়ানে ভ্রমণের সুযোগ পাবে। নেপালের ইন্টারন্যাশনাল ফাইনাল রাউন্ডের শেষ দিন 'গ্লোবাল ইয়থ কনক্লেইভ' সব দেশের বিজয়ীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হবে। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু হওয়া কুইজ ম্যানিয়া এ অনুষ্ঠানের পঞ্চম আসর সিএমসি কুইজ ম্যানিয়া-৫-এ সার্কভুক্ত দেশগুলো থেকে প্রতিযোগী নেওয়া শুরু করে। সেই আসর থেকেই এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। গত আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশের নটর ডেম কলেজের দল। মূল পর্বে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত বিজয়ী দলের মো. আব্দুল্লাহ আস সামি তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলে, 'কুইজ নিয়ে ছোটবেলা থেকেই ব্যাপক আগ্রহ ছিল আমার। টিভিতে নানা কুইজ প্রোগ্রাম দেখে স্বভাবতই নানা বিষয় জানার প্রতি আগ্রহ বাড়ে। মূলত সাধারণ জ্ঞানের যত বই ঘেঁটেই আমার ছুটির দিনগুলো কাটে। সে থেকেই কুইজে অংশ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়। অষ্টম শেণির শেষ দিকে এসে নিয়মিত বিভিন্ন স্টু্কলের কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুরু করি। শুরুর দিকে আশানুরূপ ফল না পেলেও এই বলে নিজেকে সান্ত্বনা দিতাম যে, 'অংশগ্রহণ করাটাই বড় ব্যাপার।' তবে ধীরে ধীরে পারদর্শিতা অর্জন করি এবং ইতিমধ্যে অনেক পুরস্কার লাভ করতে সক্ষম হই। বিজয়ী দলের আরেক সদস্য সৈয়দ তামজিদ তাজোয়ার বলে, 'আমি কুইজিং জগতে যুক্ত রয়েছি ২-৩ বছর ধরে। এই স্বল্প সময়ে বেশ কিছু অসাধারণ কুইজার এবং কুইজ মাস্টারের সঙ্গে আমার পরিচয় হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। কুইজ ম্যানিয়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক কুইজের সুযোগ করে দিয়েছে'।

পরবর্তী খবর পড়ুন : হাত বাড়িয়ে দাও

অন্যান্য