ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০১৯      

আফফান ইয়াসিন

 প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস

উৎসবে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন- ছবি :জেসিয়া ভুইয়ান

বসতবাড়ি কিংবা রাস্তাঘাট প্রায় সব জায়গাতেই পল্গাস্টিক পণ্যের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। দিন যত যাচ্ছে এর চাহিদা এবং ব্যাপ্তি ততই বাড়ছে। সব পেশার সবাই দৈনন্দিন কাজে কোনো না কোনোভাবে পল্গাস্টিকজাত পণ্য ব্যবহার করি। বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী সামুদ্রিক অধিকাংশ প্রাণী প্লাস্টিকের কারণেই মারা যাচ্ছে। আমরা কোল্ড ড্রিংকসের বোতল এবং পলিথিন এখানে সেখানে বা পানিতে ছুড়ে ফেলে দিই।

অথচ এই পল্গাস্টিকগুলোই অন্য কেউ তুলে নিয়ে ব্যবহার করে রোগাক্রান্ত হচ্ছে বা সামুদ্রিক প্রাণী খেয়ে মারা যাচ্ছে। পানি বা কোল্ড ড্রিংকসের বোতলগুলোর তলায় ত্রিভুজ আকৃতি বানিয়ে ঠিক মাঝখানে ৭টি ধাপ যথাক্রমে (১-৭) পর্যন্ত দেওয়া থাকে। যার মধ্যে শুধু ২, ৪ এবং ৫ এই সংখ্যা দেওয়া বোতলগুলোই বারবার ব্যবহারযোগ্য। অন্য সংখ্যা যথাক্রমে ১, ৩, ৬ এবং ৭ দেওয়া থাকলে সেটা দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু আমরা অনেকেই না জেনে এগুলো ব্যবহার করে আসছি। আর এই প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে আনতে ও ব্যবহূত প্লাস্টিক পণ্যের পুনঃব্যবহারে নগরবাসীকে উৎসাহিত করতে 'ওয়েস্ট টু হোপ' নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি), চট্টগ্রাম জেলা। ভিবিডি-চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক এবং চবি শিক্ষার্থী মো. কাউসার হোসেনের নেতৃত্বে চবি ক্যাম্পাসেও চালানো হয়েছে প্লাস্টিক সংগ্রহ অভিযান।

এই প্রকল্পের অধীনে ভিবিডির স্বেচ্ছাসেবকরা শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গিয়ে নগরবাসীকে পল্গাস্টিকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি সংগ্রহ করছে পুরনো প্লাস্টিক, কাগজ ও লোহা জাতীয় পুনঃব্যবহারযোগ্য দ্রব্য। পরবর্তীতে এসব পুরনো দ্রব্য বিক্রীত অর্থ ব্যয় করবে বিভিন্ন স্কুলে ওয়াটার পিউরিফিকেশন সিস্টেম স্থাপন করার কাজে। ফলে কিছু স্কুল শিক্ষার্থী পাবে নিরাপদ পানির সুবিধা, আমাদের পরিবেশটাও থাকবে সুরক্ষিত। চবি শিক্ষার্থী মো. কাউসার হোসেন বলেন, 'পল্গাস্টিক পদার্থ তৈরির সময় বিপুল পরিমাণ কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, ওজন, বেনজিন এবং মিথেনের মতো দূষিত পদার্থের নির্গমন ঘটে, যা জলবায়ু পরিবর্তনে বিরাট প্রভাব ফেলছে। প্রতি বছর প্রায় ৮০০ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী সমুদ্রযানের বর্জ্য পদার্থ দিয়ে আক্রান্ত হয়। আর এসবের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হচ্ছে প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ পাখি প্লাস্টিক সৃষ্ট দূষণের শিকার হচ্ছে।

এখনই এসব পরিযায়ী পাখির প্রায় ৯০ শতাংশের পাকস্থলীতেই পাওয়া যাচ্ছে পল্গাস্টিক জাতীয় দ্রব্য।' এর সাথে যোগ করে তিনি আরও বলেন, 'নালা-নর্দমায় পলিথিন বা পল্গাস্টিকের বোতল ফেললে তাতে পানি আটকে দূষণ হয় এবং জলাবদ্ধতারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পল্গাস্টিক ও মাইক্রোবিডসের ফলে মানুষ থাইরয়েড, হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণ, কিডনি রোগ, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি সমস্যাতে ভোগে এ ছাড়াও পল্গাস্টিক মাটির উর্বরতাশক্তি নষ্ট করে দেয় এতে ফলনও কমে যায়। আর তাই আমরা এই প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে আনতে ও ব্যবহূত প্লাস্টিক পণ্যের পুনঃব্যবহারে নগরবাসীকে উৎসাহিত করতে 'ওয়েস্ট টু হোপ' নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী আমাদের সঙ্গে কাজ করছে নগরবাসীকে সচেতন করে তুলতে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝেও পল্গাস্টিক ব্যবহারে সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা একটি ইতিবাচক দিক।' চবি ক্যাম্পাসে তাদের এই অভিযান বেশ সাড়া ফেলেছে। এখন অনেক শিক্ষার্থী নিজ থেকে সচেতন হওয়া শুরু করেছে। সেই সঙ্গে আশপাশের মানুষকেও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।