ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


একুশ পেরিয়ে বাইশ

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০১৯      

অনিক আহমেদ

 একুশ পেরিয়ে বাইশ

একুশ পেরিয়ে বাইশ বছরে পদার্পণ করেছে সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়- ছবি :সংগ্রহ

৩৪ একরের ছোট্ট ক্যাম্পাস, কিন্তু হাজারো নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ভবিষ্যৎ গড়ার মাধ্যম। উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন নিভে যাওয়ার শঙ্কা থাকে শুধু আর্থিকভাবে খুব বেশি সচ্ছল না হওয়ার কারণে। এদের কথা বিবেচনা করে, তাদের ভবিষ্যৎকে একটি সুন্দর পরিণতি দিতে বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে গড়ে ওঠে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের বদৌলতে হাজারো শিক্ষার্থীর সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বলছিলাম একুশ পেরিয়ে বাইশ বছরে পদার্পণ করা সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। গত ১৪ জুলাই ছিল দেশের অন্যতম এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

রাজধানীর অদূরে সাভার উপজেলার নলাম গ্রামে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গণবিশ্ববিদ্যালয়। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গ্রাম্য আবহের মিশেলে গড়া প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে 'উ' আকৃতির বিশাল একাডেমিক ভবন। বর্তমানে এখানে চারটি অনুষদের আওতাধীন ১৭টি বিভাগ চালু রয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি মাস্টার্স কোর্সও চালু আছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য যাবতীয় সব পূরণ করা হয়েছে এবং বাকিগুলো পূরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির জন্য বিষয়ভিত্তিক হাজারো বইসমৃদ্ধ সুবিশাল গ্রন্থাগার, আধুনিক উপকরণ সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি, এজলাস, ভেটেরিনারি হাসপাতাল, ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা ইত্যাদি সবই রয়েছে। গণবিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমধর্মীর আরেক পরিচয় 'গণবিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ' তথা গাকসুর উপস্থিতি। দেশের প্রথম ও একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শুধু গণবিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে ছাত্র সংসদ। দুই বছর পরপর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অত্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচন হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে গণবিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (গবিসাস)। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়া গবিসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। গণবিশ্ববিদ্যালয়ের সব গৌরবময় অর্জন তথা সাফল্যের ক্ষেত্রে খেলাধুলার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিতে রয়েছে কেন্দ্রীয় ফুটবল ও ক্রিকেট মাঠ, বাস্কেটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ও টেনিস কোর্ট। প্রতিষ্ঠানটি ক্রীড়া ক্ষেত্রেও রেখেছে বিশেষ অবদান। এতদিন ক্রিকেট বাদে খেলাধুলার প্রতিটি ইভেন্টে মেয়েরা অংশগ্রহণ করলেও এবারই প্রথমবারের মতো মেয়েদের ক্রিকেট চালু করেছে প্রশাসন। সম্প্রতি গত মার্চ-এপ্রিলে দেশের সরকারি- বেসরকারি ৬৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্প-১৯।

এতে মোট ১০টি ইভেন্টের সাতটিতে অংশগ্রহণ করে চারটিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে গণবিশ্ববিদ্যালয়।