ব্রেকআপের কিচ্ছা

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০১৯      

-

ঈদের নামাজ শেষে গরুটা জবাই দিয়ে হাত ধুয়ে ফোনটা নিয়েই দেখি ৮১টা মিসকল। বয়ফ্রেন্ডটা পারেও। বিরক্ত হয়ে ফোন অফ করতে যাব, তার আগেই আবার কল এলো। বাধ্য হয়ে রিসিভ করলাম।

হ্যালো!

দিয়া! বাবু, ফোন তুলছিলে না কেন? কাঁদো কাঁদো গলা শুভ্রর।

মেজাজটা চরমে উঠল। এই ছেলের ন্যাকামি আমার মাথাটা খেয়ে ফেলছে। রাগ চেপে বললাম, কেন বাবু? এতবার ফোন দিছ কেন? বোঝো না, গরু জবাই হয়েছে, একটু ব্যস্ত তো থাকতেই হয়।

দিয়া বাবু, আমি টেনশনে মরে যাচ্ছিলাম জানো? পাশের বাসার জরিনা আন্টিকে জবাইয়ের আগে গরু ভীষণ গুঁতা দিছে। উনি এখন বিছানায়।

হইছে, এসব টেনশন বাদ দিয়ে যাও, আমার হবু শাশুড়িকে একটু কাজে হেল্প করো। আমিও বিজি থাকবো সারাদিন, বোঝোই তো, কোরবানির ঈদ।

শোনো না, বিকেলে একটু অনলাইনে আইসো জানু। তোমার মেহেদি দেখব, ঈদের ড্রেস দেখব। আমারটাও দেখাব।

দেখা যাক। এখন আপাতত আন্টিকে হেল্প করো। আমাদের বাসায় যখন জামাই হয়ে আসবা, অথচ কোনো কাজ পারবা না, তখন সবাই আমাকে কথা শোনাবে। বুঝলে বাবু?

আচ্ছা, যাচ্ছি। বিকেলে আসবা কিন্তু। উম্মাআআহ্‌! আহদ্মাদি সুরে কথাটা বলে ফোন রাখল শুভ্র।

দুপুরে ঘরে এলাম কলিজা ভুনা খেতে। একি! কলিজা রান্না হয়নি!! রাগে গা কাঁপছে। একটা গরু কেটেকুটে তৈরি করা কি চাট্টিখানি কথা? ভাইয়াকে ইচ্ছেমতো ঝাড়লাম। সারাটা দিন ঘরে বসে বসে হাতি হচ্ছে। কলিজাটা রান্না করতে পারেনি। রাত-দিন শুধু মেকআপ আর ফোন।

বিছানায় শুয়ে ফোন দিলাম শুভ্রকে। কলিজা খাইনি শুনেই সে হাহাকার করে উঠল। বাবু, তুমি এখনই বাসার সামনে আসবা, আমি নিজের হাতে তোমাকে আমার লুকিয়ে রাখা কলিজা খাওয়াবো।

তোমার কলিজা! আঁৎকে উঠলাম আমি, কী বলো এসব? আমি কি সাইকো নাকি?

আরেহ্‌, আমি তোমার জন্য আমার রুমে আলাদা এক বাটি লুকিয়ে রেখেছি, সেটা বললাম।

অহ, তাই বলো।

বাসার সামনে গিয়ে দেখি, তোয়ালেতে মুখ গুঁজে হাজির শুভ্র। চারদিকে শঙ্কিত চোখে তাকিয়ে ও এক টুকরো কলিজা আমার মুখে তুলে দিল। এরপর বক্সটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়েই ঘরে চলে গেল। আমি মেয়ে মানুষ, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ও তো একটা ছেলে। এলাকার কেউ দেখলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। তাই আমিও আর কিছু না বলে ফিরে এলাম।

বাসায় ফিরতেই শুভ্রর ফোন। উফ্‌! ছেলেটা আমাকে ভালোবাসতে বাসতে ফতুর করে দেবে।

বাবু, ভিডিও কল দাও, প্লিজ প্লিজ!

কিন্তু এখন কেন, শুভ্র? এইমাত্র আমাদের দেখা হইছিল।

তোমাকে দেখব তাই। তখন বাবার ভয়ে গেছি আর আসছি।

কিন্তু একটা শর্ত আছে, বাবু। এবার আহদ্মাদি সুর আমার।

বলো, কী শর্ত?

তোমার ন্যুডস দেখাতে হবে।

ছি, দিয়া ছি! আমি তোমাকে অন্য মেয়েদের চেয়ে আলাদা ভেবেছিলাম। একবার ভেবে দেখো, যদি তোমার ভাইয়ের কাছে কোনো মেয়ে এই আবদার করত, তুমি কি মেনে নিতে পারতা? তোমাকে আমি খুব বিশ্বাস করেছি, মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছি, তার এই প্রতিদান? আর কক্ষনো আমার সঙ্গে কনটাক্ট করবা না, বাই।

এক দমে কথাগুলো বলে ফোনটা রেখে দিল শুভ্র। সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিতেই দেখি, আমার নম্বর ব্লকড। দ্রুত ডাটা অন করে মেসেঞ্জারে গিয়েই দেখি, সেখানেও ব্লক!

এখনও বুঝতে পারছি না আমার কী দোষ? আমি তো সরল বিশ্বাসেই আবদারটা করেছিলাম।

পরবর্তী খবর পড়ুন : প্রাক্তন

অন্যান্য