প্যাচআল

প্যাচআল


সস্তার তিন অবস্থা

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০১৯      

জেলী আক্তার

পরিকল্পনা করেই ঘুরতে যাওয়া

তানু, সোহা আর আমি মোট তিনজন। আমাদের কাঁধে যে একটা করে ব্যাগ আছে তাতে কেজি সাত-আটেক মাংস রাখা যাবে, ব্যাগটা দেখতে মাকাল ফল; কারণ তিনটা ব্যাগ ঝেড়ে এক কেজি মাংসের টাকাও বের হবে না।

এদিকে ঘুরতে ঘুরতে ভীষণ ক্লান্ত, ঠাণ্ডা খাওয়া দরকার। কিন্তু খালি পেটে তো ঠাণ্ডা জাতীয় জিনিস খাওয়া যাবে না। এ নিয়ে তিনজন মহাঝামেলায়। টাকা-পয়সা হিসাব করে দেখা গেল মোট ৪২০ টাকা।

কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে, যে জায়গায় এসেছি যেখানে একটা পানের মূল্য মাত্র ২০ টাকা আর নামিদামি হোটেলে ঢুকলে হয়তো বের হতে পারব না।

যা হোক হঠাৎ তানুর চোখে পড়ল একটা চার্ট। হেডলাইনে বড় করে লেখা- হতাশ হওয়ার কিছু নেই, অল্প টাকায় ভর্তি প্লেট।

কিছু না ভেবে তিনজন ঢুকে পড়লাম ভেতরে। পরিবেশ বেশ উন্নত। সোহা বলল, কী রে পরিবেশ এত ভালো, খাবারও নিশ্চয় ভালো হবে; শেষমেশ ফেঁসে যাব না তো?

আমি শুধু ভাবছি।

তানু বলল, পজিটিভ ভাব রে। আর আমাদের কাছে তেমন কী আছে যে নেবে?

আমি বলে ফেললাম বলিস কী-

যদি আমার লাভা ফোনটা নিয়ে নেয়?

সোহা :চুপ থাক তোর ভাঙাচোরা জিনিস কটকটিওয়ালাও নেবে না।

শেষে খাবার দিল, বেশ পেট পুরে খেয়ে নিলাম। বিল হলো ৩২০ টাকা, বেশ খুশিতেই আছি কিন্তু বের হওয়ার সময় ওয়েটার এসে ছয়টা ট্যাবলেট হাতে ধরিয়ে আমাকে দিল দুটি গ্যাসের ট্যাবলেট, একজনকে বমির ট্যাবলেট আর একজনকে পেটের অসুখের।

ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগল।

জিজ্ঞেস করলাম, এসব কেন?

ওয়েটার :মুরগির ডিম, মাছ ভাজা, ডাল আবার সবজি এতকিছু সস্তা টাকায় খেলেন। আপনারা জানেন না সস্তার তিন অবস্থা?

মানে-মানে হচ্ছে, ওসব বেশ কয়েকদিনের বাসি খাবার আবার কোনোটা কারও খাবার থেকে বেছে যাওয়া; তাই সস্তার তিন অবস্থা বিবেচনা করে তিন রকমের ওষুধ দেওয়া হলো- ভালো থাকবেন।

এটা শোনার পর কোনো রকমে বাড়ি ফিরলাম আর ভাবলাম, সস্তায় রাস্তায় আর না।



হরসুলপুর, কুড়িগ্রাম