নন্দন

নন্দন

ওয়েবেও সাফল্য

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২০

বিশ্ব বিনোদনে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। দিন দিন বাড়ছে ওয়েব সিরিজের জনপ্রিয়তা। বলিউডের অনেক প্রথম সারির তারকা এখন ঝুঁকছেন ওয়েব প্রযোজনার দিকে। ইতোমধ্যে অনেক তারকাই পেয়েছেন সাফল্যের দেখা। প্রথমবার ওয়েব সিরিজে আত্মপ্রকাশ করেই যেসব তারকা সাফল্যের দেখা পেয়েছেন, তাদের নিয়ে এ আয়োজন...

সুস্মিতা সেন

১৯৯৪ সাল। ছিপছিপে সুন্দরী মিষ্টি মেয়েটির বুদ্ধিদীপ্ততা ও সৌন্দর্যে মাতাল হয়েছিল পুরো দুনিয়া। মিস ইউনিভার্সের মুকুট তার মাথায়। তিনি সুস্মিতা সেন। মডেলিং, বিজ্ঞাপনের সিঁড়ি বেয়ে ১৯৯৬ সালে 'দস্তক' ছবি দিয়ে বলিউডে পা। একের পর এক ছবি মুক্তি পায় তার। এর পর ২০১৫-তে 'নির্বাক' শিরোনামে শেষ ছবিতে অভিনয়। মাঝে পাঁচ বছর তিনি ছিলেন না বলিউডে। দুই দত্তক কন্যার 'সিঙ্গেল মাদার' তিনি। পাঁচ বছর পর কাজে ফিরলেন 'আরিয়া' নামের একটি ওয়েব সিরিজ দিয়ে। এই সিরিজে তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ সিনেমা জগৎ। কেন মিডিয়ায় ছিলেন না এতদিন তিনি? এ প্রশ্ন উঠে আসছে বারবার। সুস্মিতা যেন এই প্রশ্নের জন্যই অপেক্ষা করছিলেন।

তবে ভক্তরা এমন প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে না কেন? দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে আসার ক্ষেত্রে কম প্রস্তুতি নেননি সুস্মিতা। একেবারে আটঘাট বেঁধেই নেমেছিলেন। এই চরিত্রের খাঁটি 'লুক' আনতে ৩০টি ভিন্ন লুক টেস্ট করেছেন। সুস্মিতা বলেন, আরিয়ার জন্য আমরা ৩০টি লুক দেখেছি। এই সিরিজের স্টাইলিশ একের পর এক নতুন লুক দেখাচ্ছিল। কিন্তু কোনোটাই যেন ঠিক ঠিক আরিয়ার মতো লাগছিল না। অবশেষে ৩০ বার লুক পরিবর্তন করে আরিয়া দেখতে কেমন হবে, তা ঠিক হলো। সবারই মনে ধরল এই লুক। 'আরিয়া'র জন্য যদি আরও লুক পরীক্ষার দরকার হতো, যতবার প্রয়োজন, ততবারই লুক টেস্ট দিতাম। এই চরিত্র যা যা চেয়েছে, যেভাবে চেয়েছে, আমি তার সবই করেছি। একচুলও ছাড় দিইনি। ছাড় না দেওয়ার ফলও মিলছে এখন। ওয়েব সিরিজটি ডিজনি প্লাস হটস্টারে ১৯ জুন প্রচার শুরু হয়।

দিয়া মির্জা

২০০০ সালে মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন দিয়া। সে বছরই 'মিস এশিয়া প্যাসিফিক' খেতাব পান তিনি। তবে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় খেতাব লাভের আগেই ছবিতে আত্মপ্রকাশ দিয়ার। ১৯৯৯ সালে প্রথম অভিনয়। তামিল ছবিতে অতিথি শিল্পীর ভূমিকায় ছিলেন। এরপরে 'রহেনা হ্যায় তেরে দিল মে', 'পরিণীতা', 'দশ', 'কোই মেরে দিল মে হ্যায়', 'ফিরে হেরা ফিরি', 'কুরবান'সহ বেশ কয়েকটি সফল ছবি দিয়ে জানান দিয়েছিলেন, সিনে জগতে লম্বা রেসের জন্য এসেছেন তিনি। তবে ধারণাটি ভূল প্রমাণ করেন তিনি। সেভাবে আর কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যায়নি তাকে। মাঝে ২০১৮ সালে 'সঞ্জু' ছবিতে দিয়া অভিনয় করেন সঞ্জয় দত্তের স্ত্রী মান্যতার ভূমিকায়। তবে ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় কি আর মন ভরে! তাই তো অভিনয় করেন ওয়েব সিরিজে। গত বছরের জুনে জি ফাইভে মুক্তি পায় 'কাফির'। কাশ্মীরি তরুণীর চরিত্রে দিয়ার অভিনয় দর্শকের মন জয় করে। এই ওয়েব সিরিজটি দিয়ার ক্যারিয়ারে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

আরশাদ ওয়ার্সি

অভিনেতা আরশাদ ওয়ার্সি বেশ কয়েক বছর ধরেই কমেডিতে থিতু হয়েছেন। তার অভিনীত কমেডি চরিত্রগুলো দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু একজন অভিনেতা তো একটি গণ্ডির মধ্যে আঁটকে থাকতে পারে না। এই বিষয়টি অনুধাবন করেই একজন ফরেনসিক অধ্যাপকের চরিত্রে অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ নিলেন তিনি। যারা এতদিনে 'অসুর' ওয়েব সিরিজটি দেখেছেন, তারা দেখেছেন কী নিপুণভাবে আরশাদ সেই চ্যালেঞ্জ উতরে গিয়েছেন। এমন নিরীক্ষাধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ভক্তদের অকুণ্ঠ প্রশংসা পেয়েছেন আরশাদ। তবে পরিচালক অনি সেনও এই ক্ষেত্রে প্রশংসার দাবিদার আরশাদকে নতুনভাবে ভক্তদের সামনে উপস্থাপনের জন্য। মার্চে মুক্তি পাওয়া এই সিরিজটি নির্মিত হয়েছে মিথলজিক্যাল ক্রাইম থ্রিলারের ওপর ভিত্তি করে।

ইমরান হাশমি

বলিউডে সবাই স্বীকার করেন, ইমরান হাশমির আলাদা ভক্তমহল আছে। তার অভিনীত সিনেমাগুলো যেমন প্রশংসিত হয়েছে, ঠিক একই সমান্তরালে সমালোচিতও হয়েছে। ২০১৬ সালে মুক্তি পেয়িছিল তার সর্বশেষ সিনেমা। এরপর পর্দায় তাকে সেভাবে দেখা যায়নি। ভক্তদের মনে কিছুটা শঙ্কা জেগেছিল, হুট করে কী ঘটেছে ইমরানের জীবনে? না, ইমরান নিরাশ করেননি। গত বছর নেটফ্লিক্সের ওয়েব সিরিজ 'বার্ড অব ব্লাড' নিয়ে পর্দায় ফিরলেন তিনি। ভক্তদেরও বুঝতে দেরি হলো না, প্রথমবার ওয়েব যাত্রার জন্যই এমন দীর্ঘ বিরতি নিয়েছেন এ অভিনেতা। শাহরুখ খানের রেড চিলি প্রযোজিত সিরিজটিতে ইমরানকে দেখা গেছে এক গোয়েন্দা চরিত্রের ভূমিকায়। অভিনয়ে বৈচিত্র্য থাকার জন্য ইমরানের এমনিতেই আলাদা সুনাম আছে। ওয়েব সিরিজটি সেই সুনাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আগামীতে এই মাধ্যমে ইমরান নিয়মিত হবেন, এমনটাই আশা ভক্তদের। া