নন্দন

নন্দন

যে ছবি দেখতে পারেন

প্রিয় ৫ গোয়েন্দা

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২০

রহস্যের গোলকধাঁধা জয় করে বুদ্ধি খাটিয়ে অপরাধীদের ধরা আর অজানা সত্য উদ্‌ঘাটন করাই গোয়েন্দাদের কাজ। বিশ্বজুড়ে রহস্য সাহিত্য কিংবা ডিটেকটিভ ফিকশনের জনপ্রিয়তাও রয়েছে দারুণ। কালে কালে বিখ্যাত সাহিত্যিকদের হাতে সৃষ্টি হয়েছে কালজয়ী অসংখ্য গোয়েন্দা চরিত্র।

কাল্পনিক এই চরিত্রগুলো নিয়ে তৈরি হয়েছে হাজারো সিনেমা। জনপ্রিয় এমনই পাঁচ গোয়েন্দা

চরিত্রের কথা বলেছেন আহমাদ শামীম

ফেলুদা

প্রদোষ চন্দ্র মিত্র তথা ফেলুদা সত্যজিৎ রায়ের অনবদ্য সৃষ্টি। ১৯৬৫ সালে 'ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি' গল্পের মাধ্যমে ফেলুদার যাত্রা শুরু হয়। ফেলুদার মতোই জনপ্রিয় তার দুই সহকারী তপসে ও জটায়ু। ১৯৭৪ ও ১৯৭৯ সালে সত্যজিৎ রায় নিজের গল্পের মাধ্যমে ফেলুদাকে নিয়ে দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 'সোনার কেল্লা' ও 'জয়বাবা ফেলুনাথ' সিনেমায় ফেলুদা চরিত্রে অভিনয় করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যয়। এই দুই সিনেমার পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপ রায় ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মোট সাতটি সিনেমা নির্মাণ করেন। সাতটির ছয়টিতে অভিনয় করেন বর্ষীয়ান অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। সিনেমাগুলো হলো- 'বোম্বাই বোম্বেটে' [২০০৩], 'কৈলাশে কেলেঙ্কারি' [২০০৭], 'টিনটোরেটোর যিশু' [২০০৮], 'গোরস্থানে সাবধান' [২০১০], 'রয়েল বেঙ্গল রহস্য' [২০১১], 'ডবল ফেলুদা' [২০১৬]। ২০১৪ সালে আবীর চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে নির্মাণ করেন 'বাদশাহি আংটি'। এছাড়াও একই বছর স্বগত চৌধুরীর পরিচালনায় সব্যসাচীর অভিনয়ে নির্মিত হয় 'দূরবীন' নামের আরেকটি সিনেমা। া



শার্লক হোমস

স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের অমর সৃষ্টি শার্লক হোমস, সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার চিত্রায়িত চরিত্রের নামও এটি। ১৮৮৭ সালে 'আ স্টাডি ইন স্কারলেট' প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যে আলোড়ন তোলে শার্লক হোমস ও তার সহকারী ডক্টর ওয়াটসন। ১৯০০ সালে প্রথম একটি সাইলেন্ট শর্ট ফিল্মের মাধ্যমে শার্লকের সেলুলয়েড যাত্রা শুরুর পর থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গল্প নিয়ে এবং নানান নামে শতাধিক পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের সিনেমা মুক্তি পায় ব্রিটেন ও আমেরিকাজুড়ে, যার অধিকাংশ অবশ্য ছিল নির্বাক চলচ্চিত্র। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত শার্লক চরিত্রে বাসিল রাথবোন ও ওয়াটসন চরিত্রে নাইজেল ব্রুস অভিনীত ১৪টি সিনেমার কথা উল্লেখ করতেই হয়। শার্লককে নিয়ে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে 'দ্য প্রাইভেট লাইফ অব শার্লক হোমস' [১৯৭০], 'দে মাস্ট বি জায়ান্ট' [১৯৭১], 'ইয়াং শার্লক হোমস [১৯৮৫]। সর্বশেষ ২০০৯ ও ২০১১ সালে শার্লক চরিত্রে রবার্ট ডাউনি জুনিয়র অভিনীত দুটি সিনেমাও ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয়তা লাভ করে। া

হারকিউল পোইরট

রহস্য সাহিত্যের সম্রাজ্ঞী আগাথা ক্রিস্টির জনপ্রিয়তম গোয়েন্দা চরিত্র হারকিউল পোইরট। ১৯২০ থেকে '৭৫ সাল পর্যন্ত ৩৩টি উপন্যাস, ৫০টি গল্প এবং দুটি মঞ্চ নাটক লিখেছেন পোইরটকে কেন্দ্র করে। বাঁকা মোচের গোয়েন্দা পোইরটকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে বেশ কয়েকটি সিনেমা। সর্বপ্রথম ১৯৩১ সালে অস্টিন ট্রেভর অভিনীত দুটি সিনেমা 'আলিবি' ও 'ব্ল্যাক কফি' ও ১৯৩৪ সালে 'লর্ড এডওয়ার ডাইস' মুক্তি পায়। ১৯৬৫ সালে নির্মিত হয় 'দ্য আলফাবেট মার্ডার'।

১৯৭৪ সালে 'মার্ডার ইন ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস' সিনেমায় পোইরট চরিত্রে অভিনয় করে আলবার্ট ফিনি অস্কারের জন্য মনোনয়নও লাভ করেন! পিটার উস্তিনভ ১৯৭৮-৮৬ পর্যন্ত 'ডেথ অন দ্য নাইল', 'ইভিল আন্ডার দ্য সান', 'অ্যাপয়ন্টমেন্ট উইথ ডেথ', 'থারটিন অ্যাট ডিনার', ডেড মেন'স ফলি' ও 'মার্ডার ইন থ্রি অ্যাক্টস'- এ ছয়টি সিনেমায় পোইরট রূপ দেন। ২০১৭ সালে কেনিথ ব্রানাঘ পরিচালিত ও অভিনীত 'মার্ডার ইন ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস' মুক্তি পায়, এ বছর অক্টোবর মাসে 'ডেথ অন দ্য নাইল'-এর রিমেকও মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। া



ইন্সপেক্টর ক্লুসো

আমেরিকান নির্মাতা ব্লেক এডওয়ার্ডের সৃষ্টি 'পিংক প্যানথার' মুভি সিরিজের গোয়েন্দা চরিত্র ইন্সপেক্টর ক্লুসো। হাস্যরসে ভরা গোয়েন্দা চরিত্রটি নিয়ে নির্মিত হয়েছে ১১টি চলচ্চিত্র। ইন্সপেক্টর ক্লুসো চরিত্রে ব্রিটিশ কমেডিয়ান পিটার শিলারসের অভিনয়ে ১৯৬৩ সালে প্রথম মুক্তি পায় 'দ্য পিংক প্যান্থার'। পরের বছর আরেকটি সিনেমা মুক্তি পেলেও ক্লুসোর মুখ্য চরিত্র ছিল না। ১৯৬৮ সালে 'ইন্সপেক্টর ক্লুসো' শিরোনামে অ্যালান আরকিনের অভিনয়ে মুক্তি পায় আরেকটি সিনেমা। শিলারস ইন্সপেক্টর ক্লুসো হয়ে ফিরে আসেন ১৯৭৫ ও '৭৬ সালে ' দ্য রিটার্ন অব দ্য পিংক প্যান্থার' ও 'পিংক প্যান্থার স্ট্রাইকস এগেইন'-এ। '৭৮ সালে আংশিক অভিনয় করেন 'রিভেঞ্জ অব পিংক প্যান্থার'-এ। ১৯৮০ সালে শিলারসের মৃত্যুর পর '৮২ সালে আগের সিনেমাগুলোর ফুটেজ নিয়ে নির্মিত হয় আরেকটি সিনেমা। ১৯৮৩ ও '৯৩ সালে মুক্তি পায় আরও দুটি সিনেমা। সর্বশেষ ২০০৬ ও ২০০৯ সালে স্টিভ মার্টিনের অভিনয়ে 'দ্য পিংক প্যান্থার' ও 'দ্য পিংক প্যান্থার-২' সিনেমার মাধ্যমে ইন্সপেক্টর ক্লুসো আবারও পর্দায় ফিরে আসে। া



ব্যোমকেশ বক্সী

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী। শরদিন্দু ১৯৩২ সালে ব্যোমকেশকে নিয়ে প্রথম গল্প লিখেন। মোট ৩৩টি গল্প লিখেছেন ব্যোমকেশকে নিয়ে। ১৯৬৭ সালে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় উত্তম কুমারের অভিনয়ে 'চিড়িয়াখানা' সিনেমার মাধ্যমে ব্যোমকেশের রূপালি পর্দায় অভিষেক হয়। ১৯৭৪ ও ২০০৯ সালে দুটি সিনেমা মুক্তি পেলেও ২০১০ সালে অঞ্জন দত্তের হাত ধরে এবং আবীর চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ে ব্যোমকেশ আবারও জনপ্রিয়তা লাভ করে। আবীর একাই সাতটি সিনেমায় ব্যোমকেশ রূপ দান করেন। অঞ্জন দত্ত পরিচালনা করেন মোট ছয়টি সিনেমা। এছাড়াও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সুজয় ঘোষ, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় ও যীশু সেনগুপ্তকে নিয়ে স্বপন ঘোষাল, ঋতুপর্ণ ঘোষ, স্বাগত চৌধুরী, শৈবাল মিত্র ও অরিন্দম শীল বেশ কয়েকটি সিনেমা নির্মাণ করেন গত এক দশকে। সদ্যপ্রয়াত বলিউডের অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতকে নিয়ে দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৫ সালে হিন্দিতে নির্মাণ করেন 'ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী' নামের একটি চলচ্চিত্র। া