নন্দন

নন্দন


সব গুছিয়ে আনার চেষ্টা করছি

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯      
সব গুছিয়ে আনার চেষ্টা করছি

সালাহউদ্দিন লাভলু

সালাহউদ্দিন লাভলু। অভিনয় ও নির্মাণ- দুই ক্ষেত্রেই সাফল্য পেয়েছেন তিনি। চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করে চরিত্র ধারণে তিনি যেমন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনি সৃষ্টিতে দূরদর্শিতার ছাপ রেখেছেন। দায়িত্ব পালন করছেন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতির। মিডিয়ার বর্তমান অবস্থা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন-

বেশ বিরতির পর প্রেক্ষাগৃহে আপনার অভিনীত 'সাপলুডু' চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। একজন গোয়েন্দা অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

রাজধানীর কয়েকটি হলে নিজেও ছবিটি দেখছি। দর্শক সাড়ায় আমি অভিভূত। ১৩ বছর পর সিনেমায় বড় ধরনের কোনো চরিত্রে অভিনয় করেছি। চরিত্রটিতে অনেক চমক ছিল, তাই দর্শক এটি বেশ গ্রহণ করেছে। নির্মাতা গোলাম সোহরাব দোদুল আমার কোনো লুকই আগেভাগে প্রকাশ করেননি। তাই চরিত্রটি নিয়ে সবার অনেক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সব মিলিয়ে ভালোই সাড়া পেয়েছি।

ডিরেক্টরস গিল্ডের কার্যক্রম কেমন চলছে?

সংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে অনেক কাজই করার ইচ্ছা রয়েছে। ধাপে ধাপে তা শুরু করেছি। দায়িত্ব নিয়েছি গত বছরের নভেম্বরের শেষে। জানুয়ারি থেকে কমিটির কাজ শুরু করেছি। জাতীয় নির্বাচন, ঢাকা সিটি মেয়র নির্বাচন, দুই ঈদ- সব মিলিয়ে কাজের সময় কম পেয়েছি। সেটা এখন পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভার পর থেকে নতুন উদ্যোগে কাজে নেমেছি। এখন সব গুছিয়ে আনার চেষ্টা করছি। চ্যানেলগুলোর সঙ্গে বসেছি। এর আগে শিল্পীদের চুক্তি স্বাক্ষর নিয়েও কাজ হয়েছে। পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা শহরে অনেক পার্ক রয়েছে। যেসব পার্কে খুব সহজেই শুটিং সবিধা পেতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের কথা চলছে। এছাড়া নির্মাতাদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি ভাবছি। এ জন্য কয়েকটি হাসপাতালের সঙ্গে ডিরেক্টরস গিল্ডের আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। হাসপাতাল থেকে সংগঠনের সদস্য ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ব্যয়ে ছাড় পাবেন। নির্মাতাদের কাজের জায়গা বাড়াতে চ্যানেলের সঙ্গে নতুন চুক্তি শুরু করেছি। ইতিমধ্যে চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে আরও চ্যানেলের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করব। সর্বোপরি সংগঠনের সদস্যদের স্বপ্নপূরণ ও পরিচালকদের সম্মান পুনরুদ্ধার করতে চাই। তাদের সম্মান ও পেশাদারি মর্যাদা ফিরিয়ে আনা জরুরি। পাশাপাশি তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও পারিশ্রমিকের বিষয়টি ভাবছি। নির্মাতাদের কাজের সুন্দর পরিবেশ দিতে চাই।

মিডিয়ার বর্তমান অবস্থা কেমন মনে হয়?

টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য খারাপ সময় যাচ্ছে। বড় অঙ্কের বিজ্ঞাপন চলে গেছে দেশের বাইরের চ্যানেলে। পেশাদার শিল্পীদের জন্য সময়টা প্রতিকূল। তার ওপর যোগ হয়েছে ওয়েব সিরিজের প্রভাব। আমরা মুক্ত অর্থনীতির যুগে বাস করি। অর্থনীতির একটা সর্বগ্রাসী চরিত্র আছে। সেখানে সবাই আমরা ধরাশায়ী। আর মিডিয়ার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত আকাশের কারণে সারা পৃথিবীতে ওয়েব সিরিজ হচ্ছে। সেখানে নির্মাতাদের বেশ স্বাধীনতা রয়েছে, যা ভাবছে তাই করতে পারছে। এটা একটা ইতিবাচক দিক। কিন্তু অসুবিধা হচ্ছে- এখানে কোনো সেন্সরশিপ নেই, অনেক ওয়েব সিরিজ ড্রইংরুমে বসে দেখা দায়! ওয়েব সিরিজের বিষয়গুলো যদি আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম না হয়, বিদেশি সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়, তাহলে বিপদ। ওয়েব সিরিজে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। ভিউয়ার বাড়লেই অর্থ বাড়ে, তাই কেউ কেউ অসুস্থ প্রতিযোগিতায়ও মেতে উঠছে। সেই জায়গাটায় শঙ্কা রয়েছে। বিবেকের কাছে দায়বদ্ধতা থেকে নির্মাতাদের ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করা উচিত বলে মনে করি।

আপনার পরিচালনায় এখনকার নাটকে নতুন শিল্পীদের প্রাধান্য রয়েছে। এর কারণ কী?

এখন নতুন শিল্পী নিয়েই বেশি কাজ করি। তাদের নিয়ে কাজ করা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তারকা শিল্পীদের নিয়ে সবাই নাটক কিংবা টেলিছবি নির্মাণ করেন। নতুনরা অনেক মনোযোগী। তাদের শেখার আগ্রহ রয়েছে। দর্শকদের কাছে সবসময়ই নতুন শিল্পীর অভিনয় বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। চরিত্রটা তাদের কাছে মনে হয় পাশের বাড়ির ছেলে কিংবা মেয়ের কথা। আমার পরিচালিত সর্বশেষ দুই ধারাবহিকে 'সোনার পাখি রূপার পাখি', 'প্রিয় দিন প্রিয় রাত' নাটকেও নতুন শিল্পীদেরই প্রাধান্য ছিল। আমরা যদি শিল্পীদের তৈরি করতে না পারি তাহলে পরবর্তী সময়ে ভালো অভিনয়শিল্পী তৈরি হবে কী করে?

অনেক অভিনেতা সালাহউদ্দিন লাভলুকে বেশ মিস করছেন। এ রকম অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। বিষয়টি কি আপনাকে পীড়া দেয় না?

হ্যাঁ, এটা সত্যি যে গত বেশ কয়েক বছর পরিচালনায় ব্যস্ত সময় কেটেছে। অভিনয়ের জন্য যে প্রস্তুতি দরকার তারও সময় পাচ্ছিলাম না। আমি তো দর্শককে ঠকাতে চাই না। ভালো গল্পে ও চরিত্র না পেলে নাটক কিংবা ছবিতে মুখ দিখিয়ে কী লাভ। তবে ঈদের নাটকে নিয়মিতই অভিনয় করছি। নতুন জেনারেশনের দর্শকের কাছে অভিনেতা লাভলুর পরিচিতি একটু কম। সেই চিন্তার জায়গা থেকে মাঝে মধ্যে একটু অভিনয় করি।