নন্দন

নন্দন


মঙ্গল অভিযান

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০১৯      

মসৃণ আফরোজ

মঙ্গল অভিযান

'মিশন মঙ্গল'

বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের ক্যারিয়ার গ্রাফে এখন শুধুই মঙ্গলের দশা। দেশপ্রেমের পতাকা উড়িয়ে বক্স অফিসে একের পর এক ছক্কা হাঁকাচ্ছেন তিনি। বলিউডে তিন খানের ছবিও যখন মুখ থুবড়ে পড়ছে, তখন দেশপ্রেমের বার্তা দিয়েই বাজিমাত করছেন এই অভিনেতা। যদিও চলতি বছরে লোকসভা নির্বাচনের সময়ে অক্ষয়ের কানাডার নাগরিকত্ব নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। তবু তার মঙ্গলযাত্রা অব্যাহত। গত সপ্তাহে ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র 'মিশন মঙ্গল'। এতে তার সঙ্গে আছেন বলিউডের পাঁচ অভিনেত্রী। তারা হলেন- বিদ্যা বালান, তাপসী পান্নু, কীর্তি কুলহারি, নিত্যা মেনন ও সোনাক্ষী সিনহা।

২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'ইসরো' মাত্র ৪৫৪ কোটি টাকা বাজেটে প্রথম প্রচেষ্টায় মঙ্গলগ্রহে 'মঙ্গলযান' পাঠিয়েছিল। তবে তাদের এই পথ খুব একটা কুসুমকোমল ছিল না। আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো দুই দেশ যেখানে একবারে মঙ্গল বিজয় করতে পারেনি, সেখানে ভারত তো নগণ্য শিশু! অতএব ধরেই নেওয়া হয়, মঙ্গল অভিযান শুরুর আগেই ব্যর্থ। এর আগে তারা চন্দ্রযান 'ফ্যাট বয়' প্রথমবার উৎক্ষেপণে চরম ব্যর্থ হয়। বিশ্বের কাছে রাতারাতি হাসির পাত্র হয় 'ইসরো। 'ফ্যাট বয়'-এর কাণ্ডারি রাকেশ ধবনকে বদলি করে দেওয়া হয় 'মঙ্গল মিশন'-এ। কর্তাব্যক্তিরা ভেবেছিলেন, এত কঠিন প্রজেক্টে ভয় পেয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেবেন রাকেশ। কিন্তু না, রাকেশ স্বপ্ন দেখেন। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই নিজের সব ঢেলে দিয়েছেন বাকি বিজ্ঞানীরা। নিজের ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধা গৌন হয়ে গিয়েছে সেখানে। তাই তো দিনে ১৫ ঘণ্টা কাজ করতেও তারা পিছপা হননি। সরকার টাকা দিতে চাইছে না নতুন প্রজেক্টের জন্য। ভারত মঙ্গলে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাবে শুনে আড়ালে হেসেছিল বাকি দুনিয়া। চারদিকে হাজারো বাধা সত্ত্বেও একদল মহাকাশ বিজ্ঞানীর হাল না ছাড়ার গল্প বলে 'মিশন মঙ্গল'।

একটি সত্য ঘটনাকে কল্পনার পাঁচফোড়ন দিয়ে বিনোদনের মোড়কে কীভাবে পরিবেশন করতে হয়, তা দেখিয়ে দিল টিম 'মিশন মঙ্গল'। ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অক্ষয় ও তার দলের মঙ্গলযাত্রা একবারের জন্যও পলক ফেলতে দেয় না দর্শককে। এর জন্য কৃতিত্বের পুরোটা না হলেও সিংহভাগেরই দাবিদার চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক জগন শক্তির।

ছবিতে তাপসী, কীর্তি, সোনাক্ষী- সবার অভিনয়ই নজর কাড়বে। তবে প্রজেক্ট ডিরেক্টর তারা সিন্দের চরিত্রে বিদ্যা বালান যেন সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছেন। তথাকথিত নায়িকাসুলভ ফিগার নেই। তা সত্ত্বেও শুধু অভিনয়শৈলী দিয়ে দাপিয়ে গিয়েছেন পুরো ছবি। অক্ষয়ের চরিত্রটি অন্যরকম। চরম টেনশনের মুহূর্তে তিনি গুনগুনিয়ে গান গান, রাতের পর রাত জেগে থাকেন কাজের জন্য, সবাই যখন মুষড়ে পড়ে, সাহস জোগান। তবে শুধু সত্যি ঘটনাকে সেলুলয়েডে তুললেই তো আর সিনেমা হয় না। চাই কল্পনার মিশেল। 'মিশন মঙ্গল' ছবিতে সেটিও উপস্থিত। যদিও ঘটনা ও পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচালক তার কল্পনাকে যেভাবে মিশিয়েছেন, তাতে দুটোকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব। ছবিতে একেবারেই ব্রাত্য পুরব কোহলি, সঞ্জয় কাপুর ও মহম্মদ জিসান আইয়ুব। তাদের চরিত্রটি নিতান্তই ছোট। কিন্তু অবশ্যম্ভাবী। চিত্রনাট্যের দৌলতে সোনাক্ষী ও শারমন জুটির প্রেমের হালকা চোরাস্রোত দর্শককে খুব সিরিয়াস হওয়া থেকে আরাম দেয়। ছবির টানটান উত্তেজনা ছবির প্রথমার্ধেও যেমন; বর্তমান, শেষার্ধেও। বরং মাঝে মধ্যে পর্দার বিজ্ঞানীদের সঙ্গে চাপা টেনশন সঞ্চারিত হবে আপনার মধ্যেও।