নন্দন

নন্দন


শিল্পের সংগ্রামে আপস অসম্ভব

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০১৯      
শিল্পের সংগ্রামে আপস অসম্ভব

মোহাম্মদ বারী

মোহাম্মদ বারী। অভিনেতা ও নাট্যনিদেশক। দীর্ঘ সময় ধরে থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি তার নেতৃত্বে নাট্যাঙ্গনে যুক্ত হয়েছে অনুস্বর নামের নতুন একটি নাট্যদল। থিয়েটার আর্ট ইউনিট ছেড়ে নতুন নাট্যদল গড়ার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন এই নাট্যজন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হেমন্ত প্রাচ্য

থিয়েটার আর্ট ইউনিট ছেড়ে নতুন নাট্যদল গড়লেন। এ প্রসঙ্গেই জানতে চাই।

ঢাকায় আমার নাট্যচর্চা শুরু ১৯৮৯ সালে ঢাকা পদাতিকে। এরপর ১৯৯১ সালে ঢাকা পদাতিকের প্রতিষ্ঠাতা এস এম সোলায়মান দলত্যাগ করলে তার গুণভক্ত আমরাও বেশ ক'জন দলত্যাগ করি। তিনি 'অন্যদল' নামে একটি দল প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিনি দলপ্রধান আর আমি প্রধান সমন্বয়ক। কিন্তু অল্প সময়েই দলটি ভেঙে যায়। পরে ১৯৯২ সালে থিয়েটার আর্ট নামে আমরা নতুন করে যাত্রা শুরু করি। পরে নাম পরিবর্তণ করে থিয়েটার আর্ট ইউনিট রাখা হয়। শুরু থেকেই দলের নেতৃত্বে আমি আর সোলায়মান ভাই ছিলাম। তার মৃত্যুর পর ২০০১ সালে দলপ্রধানের দায়িত্ব নেন রোকেয়া রফিক বেবী।

দল ছাড়তে হলো কেন?

সে তো অনেক কথা বলতে হয়। তবে ছোট্ট করে বলি, এ দলটির কেউ কেউ যারা আমার অনুজপ্রতিম, তারা আমার সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করেছেন, যা কল্পনা করতে পারি না। দ্বিতীয়ত, এমন একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে তারা আমার সঙ্গে এমন ব্যবহার করেছেন, তার দায়ভাগ আমার নেই এবং ইস্যুটিও ফাঁপা। তৃতীয়ত, যারা এই দুর্ব্যবহারটা করলেন তাদের জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেচনার সঙ্গে আর যাই হোক, আমার মতো নগণ্য মানুষের শিল্পযাত্রা অসম্ভব ভেবে দলত্যাগ করেছি।

ইস্যুটি কী?

সেটা আরও পরে বলব। তখন আরও অনেক কথাই বলব।

অনুস্বর নাট্যদলের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই।

অনুস্বরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, দলের কার্যক্রম হবে মানুষকেন্দ্রিক। মানুষের সার্বিক মুক্তি, অসাম্প্রদায়িক মানবিক সমাজ আর নন্দনচর্চা এ দলের মূল লক্ষ্য। আমাদের থিয়েটার চর্চায় এ বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাবে। খুব শিগগির আমার নির্দেশিত নাটক 'অনুসরণীয়' আমরা মঞ্চে আনব।

নাট্যাঙ্গনে দল ভাঙার বিষয়টিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

দেখুন, প্রকৃতিতে ভাঙাগড়া একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। নদীর একূল ভাঙে ওকূল গড়ে। তবে দলভাঙার বিষয়টি কষ্টদায়ক। কারণ এখানে মানে থিয়েটারের দলে মানবিক সম্পর্ক তৈরি হয়। থিয়েটারের মতো স্নায়ুক্ষয়ী শিল্পসংগ্রামে এ সম্পর্কগুলোর মূল্য খুব দামি। একটা পরিবারের মতো আবহ তৈরি হয় এখানে। সুখ-দুঃখমাখা সে সম্পর্ক ভাঙলে তো কষ্ট হবেই। তবে এটাও সত্য, শিল্পের সংগ্রামে আপস অসম্ভব। তাই হয়তো আদর্শিক জায়গা থেকে দল ভাঙে। আবার ব্যক্তিত্বের সংঘাতেও দল ভাঙে। আমার নাট্যশিক্ষক সোলায়মান ভাইও অনেকবার যখন বনেনি তখন দল থেকে সরে এসেছেন। আমিও তার পথ অনুসরণ করেছি।

থিয়েটার নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত পরিকল্পনার কথা জানতে চাই।

অনুস্বর নিয়ে স্বপ্ন দেখি। এটা আমার শিল্প-সংগ্রামের শেষ লড়াই। এ লড়াই তো একটা রিলে রেস। নতুনদের হাতে লাঠিটা দিয়ে যাব, তারা সেটা বয়ে নিয়ে তার আগামীকে দেবে। এই তো।