মনে মনে

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯      
বন্ধু, কী খবর বল?

বন্ধুত্ব প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ অলিখিত একটা সম্পর্কের নাম। এই সম্পর্কটা জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে এর যত্ন নিতে হয়। কখনও-সখনও হাসিমুখে নিজের ইচ্ছাটাও লুকিয়ে রাখতে হয়। ত্যাগ করতে শিখতে হয় বন্ধুর জন্য। বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা যতটা কষ্টসাধ্য, এর ফল ততটাই মিষ্টি। এই বন্ধুত্বের শিকড় হচ্ছে বিশ্বাস। বন্ধুবিহীন জীবন অবিশ্বাস্য ও অপরিপূর্ণ। জীবনে চলার পথে অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় কিন্তু সময় ও বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এমনিভাবে প্রয়োজনের কারণে কিছু মানুষ দূরে চলে গেলেও সবাইকে আবার ভোলা যায় না। যদিও স্থান এবং কালভেদে আবার কারও সঙ্গে গড়ে ওঠে নতুন বন্ধুত্ব। এভাবে জীবনে অনেকে বন্ধু হয় বটে, কিন্তু প্রকৃত বন্ধু খুব কমই জোটে। আমি খুব ছোটবেলা থেকেই

মা-বাবা, ভাই-বোন থেকে বেশ দূরে থাকি। পরিবারের মেজ সন্তান ছিলাম। শুনেছি, মেজরা নাকি একটু বৈরী প্রকৃতির হয় আমিও এর ব্যতিক্রম ছিলাম না। মা-বাবাকে ফাঁকি দিয়ে ঘুড়ি উড়ানো, পাখির বাসার ডিম চুরি, চৈত্রদিনে দিনভর পানিডুবি খেলা, সাঁঝবেলা জোনাকির পিছে দৌড়ানো- এসবের সঙ্গেই মিশে ছিল আমার শৈশব; কিছুটা কৈশোরও বটে। অনেকটা রবিঠাকুরের ছুটি গল্পের ফটিকের মতো বলা যায়। লেখাপড়ার জন্য খুব ছোটবেলায়ই বাড়ি ছেড়েছিলাম। ওখানে পূর্বপরিচিত কেউ ছিল না আমার। প্রথম দিনগুলোয় নিঃসঙ্গতাই যেন আমার সঙ্গ ছিল। তখন আমার শৈশবের স্মৃতি মনে হলে ভেতরটা খুব করে পোড়াত। মাঝেমধ্যে গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে গাঁয়ের দলছুট ছেলেদের কথা মনে করে খুব কান্না করতাম। আমার কাছের সহপাঠীরাই তখন আমাকে সান্ত্বনা দিত। আদরমেখে কত করে বোঝাত। খুব শিগগির ওদের অতি আপন হয়ে গিয়েছিলাম আমি। ওই দিনগুলোতে ওরা আমাকে সান্ত্বনা, সঙ্গ না দিলে হয়তো আজ এই পর্যন্ত আসা হতো না। তাই আজও স্কুলজীবনের সেই বন্ধুদের বড্ড মিস করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

পরবর্তী খবর পড়ুন : চাই সমঅধিকার

অন্যান্য