মঞ্চের বাইরে

মঞ্চের বাইরে


সময়ের প্রয়োজনে

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০১৯      

মাহবুবা সুলতানা

সময়ের প্রয়োজনে, জীবিকার তাগিদে অনেক মেয়ে চাকরি করলেও সংসারের কাজে তাদের সচেষ্ট থাকতে হয়। ইদানীং পুরুষরা বেশ সচেতন ও সহযোগী। তারাও দিন-শেষে ঘরে ফিরে সাধ্যমতো মা কিংবা সঙ্গীকে সাহায্য করছে। কিন্তু আমাদের সামাজিক ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে উঠেছে, কোনো সংসারে মেয়ে চাকরি করুক বা না করুক, ঘরের কাজে তার সম্পূূর্ণ অবদান না থাকা মানে সে কোনো গর্হিত কাজ করে ফেলল। চিত্র খানিকটা পাল্টালেও সমাজব্যবস্থা পুরোপুরি এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। আমরা প্রায় সময়ই ভুলে যাই, একটি মেয়ে যখন বাইরে কাজ করে সেও বাড়ির পুরুষ সদস্যের মতো পরিশ্রম করে। দিন-শেষে মেয়েটারও ক্লান্তি লাগে, বিশ্রাম নিতে হয়।

দীর্ঘদিন অসহযোগ পরিবেশে থাকতে থাকতে এক সময়ে মেয়েরা বিভিন্ন রকম মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। পরিবার-পরিজন থেকে প্রয়োজনীয় মানসিক সহযোগিতা পেলে খুব সহজেই মেয়েরা এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। তার জন্য প্রয়োজন- দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন :সমাজে কন্যাশিশুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের চর্চা করতে হবে। নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে। মেয়েদের চারদেয়ালে বন্দি রেখে নিরাপত্তা দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং তা কতটুকু সম্ভব, সেটাও বিবেচ্য বিষয়। সবাই মিলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা যায়।

যে কোনো মূল্যে নির্যাতন বন্ধ :দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার চর্চা ও বিচারিক কার্যক্রম প্রভাবিত করার এক ধরনের অস্থির সংস্কৃতির  কারণে সামাজিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরা সে ধরনের উদাহরণ তৈরি করতে পারিনি। যে কারণে প্রভাবশালী অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। আবার যেসব বিচার সম্পন্ন হচ্ছে, তাও ততটা সন্তোষজনক নয়, যা দেখে মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। আইনের ফাঁক গলে একেকটা বিচারকাজ সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে, যা নির্যাতন বন্ধ না হওয়ার প্রধান কারণ।

আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলা :অধিকাংশ সময়ে পরিবার শেখায়- 'তুমি মেয়ে, তোমার এ কাজ মানায় না।' মূলত ছোটবেলা থেকেই মেয়েরা এক ধরনের মানসিক বিপর্যস্ততা নিয়ে বড় হয়। এই পরিবেশই একটা মেয়েকে মানসিকভাবে দুর্বল করে বড় করে। মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে একটি মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই সুন্দর পরিবেশ দিতে হবে। সামাজিক বাস্তবতায় অধিকাংশ মেয়ে মন খুলে কথা বলতে পারে না। একটু মন খুলে কথা বলার পরিবেশ নিশ্চিত করলে মেয়েদের অনেক মানসিক সমস্যা থেকেই দূরে রাখা সম্ভব।

লোকলজ্জা দূর :বেশিরভাগ পরিবারে পুরুষরাই উপার্জন করে থাকে। ধরে নেওয়া হয়, পরিবারের বাইরের কাজ পুরুষরাই করবে। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলেও মেয়েরা পারিবারিক বাধা ও লোকলজ্জার ভয়ে বাইরের কাজে অংশ নিতে অনিচ্ছুক থাকে। প্রাচীন এ সংস্কারও মেয়েদের কর্মবিমুখ করে, যা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।