মুক্ত করো ভয়

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০১৯      

জেলী আক্তার

তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার এক হাতিয়ারের নাম মাদক। হাজার হাজার তরুণ মাদকাসক্ত। যে নেশায় আসক্ত হলে পরিবারে নেমে আসে মতবিভেদ, দ্বন্দ্ব, কলহ, বিচ্ছেদ। মাদকাসক্তির ছোবলে নিমজ্জিত হয় অন্ধকারের অতল গহ্বরে। স্পষ্ট হয়ে কাছে আসে অধঃপতনের সুর। ঠিক তেমনি করে তরুণ সমাজকে দিনে দিনে বশ করে নিচ্ছে মোবাইল ফোন। মাদকাসক্তির মতো মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। শুধু তরুণ নয়, ছোট্ট শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণী- সবাই এক আসক্তিতে আসক্ত।

আজকাল ছোট্ট শিশু কাঁদলে তাকে প্লাস্টিকের পুতুল দিয়ে কিংবা ঝুনঝুনি দিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করা হয় না, কান্না শুরু হলেই স্মার্টফোনটা হাতে নিয়ে বের করে দেই নানান ধরনের গেম।

আজকাল সকাল-বিকেল খেলার মাঠে হৈহুল্লোড় নেই। সেই কিশোর-কিশোরীরাও ব্যস্ত মোবাইল ফোন নিয়ে, তরুণ-তরুণীরা দিনরাত আধুনিক প্রযুক্তির মায়াবী বেড়াজালে বন্দি। এত প্রযুক্তির কবলে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক কিছু। ভেসে আসছে নিত্যনতুন জটিলতা।

মাদকাসক্তির যেমন ক্ষতিকর দিক রয়েছে, তেমনি মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিতেও রয়েছে ক্ষতিকর দিক। মাদকাসক্তি যেমন যুব সমাজকে গ্রাস করে ফেলছে, ঠিক তেমনি করে ফোন আসক্তিও সমাজকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে ফেসবুক, যখনই ফ্রি হচ্ছে তখনই নেট ব্রাউজিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। এই আসক্তি এতটাই বেশি যে, রাস্তা পারাপার হতে, ক্লাসে মনোযোগী না হয়ে ক্লাসরুমে কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত পড়ে থাকে ফেসবুকে। কখনও ছবি আপলোড, কখনও ভিডিও, কখনওবা চ্যাটিং। আর এই মাত্রাতিরিক্ত ফোন চালানোই পতনের দিকে এগিয়ে দিচ্ছে রোজ।

আমরা কিশোর-কিশোরীর হাতে ফোন তুলে দিচ্ছি। একটু ভেবে দেখলেই স্পষ্ট প্রতীয়মান হবে এর ভয়াবহতা। দিনের পর দিন ফোন আসক্তিতে মগ্ন হয়ে থাকা ছেলেমেয়েটি ভুলে যাচ্ছে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, আপন করে নিচ্ছে একাকিত্ব।

যখন একজন তরুণ-তরুণী নিজেদের ভালোমন্দ বোঝার মতো ক্ষমতা রাখে না, পরিমিত ব্যবহার-অপব্যবহার সম্পর্কে যার কোনো জ্ঞান থাকে না- তার হাতে মোবাইল ফোন থাকা কতটা যৌক্তিক?

মনের ভেতর প্রশ্নটা থেকে যায়।

পরবর্তী খবর পড়ুন : সময়ের প্রয়োজনে

অন্যান্য