মঞ্চের বাইরে

মঞ্চের বাইরে


চিঠি এলো

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০১৯      
দেখার কেউ নেই

উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর মোটামুটি উন্নত একটি জেলা। কিন্তু ইদানীং এ জেলা সদরের লেবুর মোড় নামে একটি এলাকায় মানুষ বসবাস করার অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। ৩-৪ বছর ধরে এই এলাকার রাস্তা ও এর পাশের ড্রেনের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে আছে যে, এটি একটি পৌরসভা এলাকা হিসেবে মানতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ড্রেনের পানি ঠিকমতো নিস্কাশন না হওয়ায় বর্ষাকালে ড্রেনসহ রাস্তা পর্যন্ত ডুবে যায়। যার কারণে চলাফেরাসহ সব ধরনের যাতায়াত ব্যবস্থা এক দুর্বিষহ অবস্থায় পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বর্ষাকালে এই এলাকায় কোনো অটো ও সিএনজি চলাচল করতে চায় না। চাইলেও ২০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা চেয়ে বসে, যা সাধারণ জনগণের পক্ষে মোটেই সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, গতবার ডিসিকে ওই বিষয় সম্পর্কে অবহিত করার পরও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। তাই অনতিবিলম্বে বিষয়টিকে নজর দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আবদুর রহমান
দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

কাপুরুষের দল

পান থেকে চুন খসলেই বউয়ের গায়ে হাত। ছেড়ে দেওয়ার হুমকি। একদল তথাকথিত স্বামীদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। সংবাদপত্র এ ধরনের খবর প্রায়ই দেখা যায়।

শুধু মারধর না। কখন কখনও আগুনে শরীর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই নৃশংসতা, বর্বরতা যারা করছে, তারা শিক্ষিত, ভালো ডিগ্রিও তাদের আছে। যদিও আচারণটা বর্বর। বউয়ের ওপর তাদের সব খবরদারি। সব পুরুষত্ব, পেশি শক্তির নোংরা প্রকাশ। মতের মিল না হতে পারে। বুঝালেই হয়। তাই বলে মারধর। যিনি নির্যাতিত হন তিনি ঘটনা চেপে যান। লোকলজ্জার ভয়ে। ফলে বিচার-আচার হয় না। গুমড়ে কেঁদে মরে নারী। কাউকে বলা যায়- স্বামী মারধর করে। এত যে সে ছোট হয়ে যাবে। বউকে তো ভালোবাসা দিয়েই জয় করা সম্ভব। মারধর কেন? প্রতি উত্তর, পাল্টা জবাব আসে না। হয়তো শারীরিক কারণে। এই সুযোগটাই তথাকথিত পুরুষরা নেন। নির্লজ্জভাবে বউয়ের গায়ে হাত তোলেন। পরিবারের শান্তি নষ্ট হয়। সন্তান বিপদগামী হয়ে পড়ে। চোখের সামনে বাবা মাকে মারছে। একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তার মনে বসে যায়। কেবল মারধর নয়। এ সময় গালাগাল চলে। যা ছোট ছেলেমেয়েরা শিখে ফেলে। সংসারটা আগলে রাখেন নারী। কত ত্যাগ, কত পরিশ্রম তারা করেন। সেটা কি কখনও নির্যাতনকারী ভেবে দেখেছেন? ভুলভাল কিছু হলে বুঝিয়ে বলতে হবে। গায়ে হাত নয়। নারীর গায়ে হাত দেওয়া পুরুষত্ব নয়। এটা কাপুরুষত্ব।

এমএ মজিদ
শ্রীপুর,গাজীপুর।

পাসপোর্টে ভোগান্তি

পাসপোর্ট পাওয়া নাগরিকদের অধিকার। কিন্তু পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে নাগরিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়, পুলিশ ভেরিফিকেশন যার অন্যতম। পুলিশ ভেরিফিকেশনে আপত্তি থাকার কথা নয়, যদি তা সঠিকভাবে করা হতো। বস্তুত, ভেরিফিকেশনের নামে টাকা আদায় করাই মুখ্য। টাকা না দিলে পাসপোর্ট পাওয়া কঠিন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে এই পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। কিন্তু স্বাধীন দেশে এখনও কেন এ ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে, তা বোধগম্য নয়।

তা ছাড়া এখন নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। সরেজমিন যাচাই করেই এটা দেওয়া হয়েছে। তাহলে পরিচয়পত্র দাখিলের পর আবার পুলিশ ভেরিফিকেশন কেন? অপরাধীর পলায়ন ঠেকাতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন নেই। কেননা, পাসপোর্টধারী অপরাধীকে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া সম্ভব। অপরাধী শনাক্ত করার জন্য মুষ্টিমেয় অপরাধীর তালিকা পাসপোর্ট অফিসে জমা দিলেই হয়, তাহলে অন্যান্য আবেদনকারীর পুলিশি ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।

সম্প্রতি র‌্যাব দেশের সব অপরাধীর একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছে। এ তথ্যভাণ্ডারে পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকেও প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাই পাসপোর্ট ইস্যুর সময় আবেদনকারীর নামে থানায় মামলা আছে বা সে দাগি আসামি কি-না, তা পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ওই তথ্যভাণ্ডারে ঢুকেই জানতে পারে। তাই এখন পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।

সানজিদা ইয়াসমীন
নোয়াখালী।