'করোনার শুরুর সময়ে আমরা তখন ঘরবন্দি, থমকে গেছে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম। পিছিয়ে পড়ছে দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী, সে সময়টায় আমরা ৬ জন মিলে অনলাইনে শিক্ষাকেন্দ্রিক কিছু করতে চেয়েছিলাম। যারই ফলাফল 'অ্যাডভাইভ', আলাপের শুরুতে কথাগুলো মহিদুলের কাছ থেকে শুনছিলাম। মো. মহিদুল আলম নটর ডেম কলেজ থেকে সম্প্রতি শেষ করেছেন জীবনের উচ্চ মাধ্যমিক অধ্যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম মহিদুলের 'অ্যাডভাইভ'। শিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার লক্ষ্যে করোনার শুরুতে নটর ডেম কলেজপড়ুয়া ৬ জন তরুণের হাত ধরে যার যাত্রা শুরু করা 'অ্যাডভাইভ' কাজ করছে মূলত বিনামূল্যে অনলাইন শিক্ষা, শিক্ষাগত কৌশল উন্নয়ন, ক্যারিয়ার-বিষয়ক দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর অধ্যয়ন পরামর্শ ইত্যাদি নিয়ে। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীরা যেন শেখার জন্য, নিজেকে প্রকাশ করার জন্য একটি সুস্থ একটি প্ল্যাটফর্ম

খুঁজে পায়। ইংরেজি ব্যাকরণের 'মডিফায়ার্স' নিয়ে মাত্র চারটি ভিডিও দিয়ে শুরু করে এক নিমেষেই পৌঁছে গেলেন লাখো শিক্ষার্থীর কাছে। প্রথম দিকে ঘরে বসে থাকা শিক্ষার্থীদের অনলাইন পাঠদান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করেই অ্যাডভাইভের পদক্ষেপগুলো গৃহীত হলেও পরে ক্রমেই বৃদ্ধি পায় কার্যক্রম। অ্যাডভাইভের পরিচালিত কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম সদস্য তাসফি-উল-ইসলাম বলেন, বহির্বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের সহায়তায় কাউন্সেলিং ও ইন্টারন্যাশনাল আউটরিচ কোলাবোরেশন, বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অনলাইন কোর্স, শিক্ষামূলক ভিডিও ও ইনফোগ্রাফিকস ছাড়াও আছে লাইভ শো, শিক্ষাবিষয়ক অনলাইন কনটেস্ট। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম 'কোহোর্ট লার্নিং মেথড' নামক ত্রিস্তরবিশিষ্ট কারিকুলামের মাধ্যমে স্কিল ডেভেলপমেন্ট কার্যধারা। কী এই 'কোহোর্ট লার্নিং মেথড'? তাসফি যোগ করেন, এ পাঠ্যক্রমে মূলত

একজন শিক্ষার্থী একটি বিষয়ের ওপর মোট তিনটি স্তরের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্জন ও হাতে-কলমে অনুশীলন করতে পারে।

প্রথম স্তরে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের ওপর সরাসরি প্রশিক্ষকের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করে থাকে, দ্বিতীয় স্তরে সমসাময়িক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রুপভিত্তিক আলোচনার পাশাপাশি কার্যক্রম সম্পাদনা ও তৃতীয় স্তরে ব্যক্তিগত পর্যায়ের অনুশীলনের মাধ্যমে ওই বিষয়ের ওপর দক্ষতা অর্জন করার সুযোগ লাভ করে। এ পর্যন্ত গ্রাফিক ডিজাইনিং ও আইইএলটিএসের ওপর সফলভাবে দুটি কোহোর্ট কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে 'অ্যাডভাইভ'। চলতি মাসেই ওয়েব ডিজাইনিং নিয়ে আসছে তাদের তৃতীয় অন ডিমান্ড কোহোর্ট প্রোগ্রাম। পথচলার সময়কালটা খুব বেশি পুরোনো না হলেও কার্যক্রমের পরিসরটা মোটেই অল্প নয়। বর্তমানে অ্যাডভাইভের ইন্টারন্যাশনাল আউটরিচ কোলাবোরেশনের সংখ্যা ৩৫; হয়েছে ১৫০টিরও বেশি লাইভ শো। অর্ধশত শিক্ষামূলক ভিডিওর সঙ্গে আছে নিজস্ব অনলাইন কোর্সও। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রতিদিন সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী।

পেছনের মানুষগুলো এত কম বয়সে কীভাবে পরিচালিত করছে নিজেদের কার্যক্রম? মহিদুল স্মরণ করলেন অ্যাডভাইভের যাত্রায় প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পাশে থাকা নটর ডেম কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা রীটা জোসফিন রোজারিওর অবদান। মূল দলে ১৩ সদস্যের সঙ্গে ছয়জন অ্যাসোসিয়েটসহ বর্তমানে কার্যরত ১৫ জন ইন্টার্ন নিয়ে চলছে অ্যাডভাইভের কাজ। শিক্ষা খাতে পরিবর্তন আনতে কাজ করে যাওয়া মহিদুল থেকে জানতে চেয়েছিলাম আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে। মহিদুল বললেন, 'ভবিষ্যতে বহির্বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো শিক্ষাগত প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশও একটি ভালো অবস্থানে জায়গা করে নেবে এবং দেশের এই পরিবর্তনে আমরাও একটি অংশীদার হবো। স্বপ্ন এটিই।'

মন্তব্য করুন