গাঁও-গ্রামের অতি পরিচিত একটি গাছের নাম ধুতুরা। এটি গুল্মজাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ। একদিকে ঔষধিগুণ, আরেকদিকে দৃষ্টিনন্দন। ধুতুরা সাধারণত বনবাদাড়ে, পথে-ঘাটে, পুকুরপাড়ে, ডোবা-নালার ধারে, পরিত্যক্ত দালানের ফাঁকা জায়গায়, ভিটে জমির আলে এমনিতেই বেড়ে ওঠে। ধুতুরা জাতের দিক দিয়ে তিন রকমের- শ্বেত, নীল ও কৃষ্ণ। এসব ধুতুরা কোথাও কোথাও দেখা যায়। ফুলের রং ভিন্ন হয়ে থাকে। গাছের ধরন দেখতে একই রকম। অন্যান্য ধুতুরা না দেখা গেলেও শ্বেত ও কৃষ্ণ ধুতুরার দেখা মেলে পার্বত্য চট্টগ্রামে। তবে শ্বেত ধুতুরা গাছে সাদা ফুল আর কৃষ্ণ ধুতুরা গাছে সাদা আর বেগুনি ফুল ফোটে।

বর্ষার ফুল ধুতুরা হলেও হেমন্তকালের শেষের দিকেও ফুল ফুটতে দেখা যায়। গাছের শাখা-প্রশাখায় ফুল ধরে, ফুলের ধরনও মনোরম। ফল মার্বেলের মতো গোলাকার, এর গাজুড়ে ছোট-ছোট কাঁটা থাকে। ফল পাকলে এমনিতে ফেটে যায়। গাছ পাঁচ থেকে ছয় ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। গাছের পাতাগুলো দেখতে অনেকটা বাসক পাতার মতো, ফুলগুলো দেখতে লঞ্চ, স্টিমারের হর্নের মতো লম্বাকৃতির। ফুলে কিছুটা মিষ্টি গন্ধও আছে। সন্ধ্যায় গাছের ফুল ফুটতে শুরু করে। সকালবেলা সূর্য যখন আলো ছড়ায়; তখন ফুলও আস্তে আস্তে ঊনতে থাকে।

ধুতুরা গাছে রয়েছে অনেক গুণ- ফুল, ফল, মূল পাতায় ব্যাপকভাবে উপশম হয়; যেমন শ্বাসকষ্ট, মাথায় টাক, বুকে ও স্তনের ব্যথা, বাতের ব্যথা নিরাময়ে অনেক ভূমিকা রাখে।

প্রাপ্তিস্থান- বাংলাদেশ, ভারত এবং উপমহাদেশের প্রায় দেশে কমবেশি দেখা যায়। ধুতুরার বৈজ্ঞানিক নাম :  Dutura, metel পরিবারের Datura এক প্রকারের বিষাক্ত উদ্ভিদ।

অন্যান্য বৃক্ষ এখানে-সেখানে কিংবা বাড়ির আঙিনায় রোপণ করলেও ঔষধি গাছ ধুতুরা কেউ ইচ্ছে করে রোপণ করে না। গাছটি খুবই বিষাক্ত, অভিজ্ঞ না থাকলে ব্যবহার না করাই উত্তম। আশির দশক থেকে নব্বই দশকের দিকে নানা এলাকায় দেখা গেলেও ধুতুরা এখন দুষ্প্রাপ্য; ইট-পাথরের জঙ্গলে গাছটি চোখে পড়ে না। া

মন্তব্য করুন