বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েকটি অচিন বৃক্ষ রয়েছে। এগুলো বটজাতীয় বৃক্ষ। পরে কয়েকটি বৃক্ষ শনাক্ত করা গেছে। তেমনই একটি বৃক্ষ রয়েছে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দায়। স্থানীয়দের কাছে এটি 'মনপবনের গাছ' নামে পরিচিত। বৃক্ষটি দেখতে গিয়েছিলাম গত ৩০ আগস্ট সকালে। ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা-ধোবাউড়া সড়কের ভুষাগঞ্জ বাজারের পশ্চিম পাশে গাছটির অবস্থান। চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ গাছে পাতা ঝরে গিয়ে নতুন পাতা গজায়। পাতা মসৃণ ও ডিম্বাকৃতি ফলার মতো। গাছটিতে ছোট ছোট গোলাকার সাদা রঙের ফল ধরে। এই ফল পাখির প্রিয় খাবার। সাধারণত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে গাছটিতে ফল ধরে।

স্থানীয় মানুষের মধ্যে গাছটি সম্পর্কে কিছু অলীক কাহিনি প্রচলিত আছে। তা হলো- তিনশ বছর আগে একদিন সকালে হঠাৎ গ্রামের রাস্তার পাশে দেখা যায় বিশাল আকৃতির এই গাছ। ভারতের কামরূপ-কামাক্ষায় সে রাতে তুমুল ঝড় হয়েছিল। সেই ঝড়ে সেখান থেকে গাছটি উপড়ে গিয়ে ঘূর্ণি বাতাসের তোড়ে চলে এসে শেকড় গাড়ে এখানে। গাছটির গোড়া থেকে অসংখ্য শেকড় গজিয়ে অন্তত ৭ শতক জমি নিয়ে ছড়িয়ে আছে। ওপরের ডালপালা ছড়িয়ে রয়েছে অন্তত ৮০ শতক জায়গাজুড়ে। সেই ছায়ায় গড়ে উঠেছে বাতিয়া গ্রামের ঈদগাহ। গরমের দিনে মানুষ এ গাছের ছায়ায় বসে শরীর জুড়িয়ে নেয়। শীতকালে গাছটি পত্রশূন্য হয়ে যায়। বসন্তে আবার পত্রপল্লবে সবুজ হয়ে ওঠে। বসন্তকালে সবুজ পাতায় ভরে যায় গাছটি। লোকজন জানালেন, এখন গাছটির যতটা বিস্তার, কিছুকাল আগেও এর দ্বিগুণ ছিল। গাছের চেহারা, ফলের চেহারা আর পাতা দেখে গাছটিকে অশ্বত্থ প্রজাতির বৃক্ষ বলে মনে হয়। কিন্তু বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে অশ্বত্থের চরিত্রের মিল নেই। গাছটির বিভিন্ন অংশ পর্যবেক্ষণ করে বৃক্ষটিকে সাদা পাকুড় বলে শনাক্ত করেছি। বৃক্ষটির বৈজ্ঞানিক নাম Ficus virens,, এটি Moraceae পরিবারের এবং ইংরেজিতে white fig  নামে পরিচিত। বটগাছের মতোই ডালপালা ও ঝুরি বের হয়ে ঝুলতে ঝুলতে একসময় মাটিতে পৌঁছে। ঝুরিগুলো গাছের গোড়ার চারদিকে এমনভাবে পেঁচিয়ে রাখে যে, গাছের মূল কাণ্ডকেই আর খুঁজে পাওয়া যায় না। গাছটিতে ছোট ছোট গোলাকার সাদা রঙের ফল ধরে। ফল ডুমুরের মতো হলেও ডুমুর অপেক্ষাকৃত ছোট এবং সাদা বর্ণের হয়। সাদা পাকুড় পাতা ঝরা গাছ। সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় এই গাছ দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ও এর তৎসংলগ্ন অঞ্চলে এই বৃক্ষ বিরল।

মন্তব্য করুন