এই লতানো গাছটি একসময় দেশের সব জেলাতেই পতিত জমিতে রেললাইন ও বনের ধারে অল্পবিস্তর দেখতে পাওয়া যেত। এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নামAbrus precatorius, 
এটি Fabaceae  গোত্রের উদ্ভিদ। কুঁচ ইংরেজিতেCrab's eye, rosary pea, John Crow Bead, precatory bean, Indian licorice  নামে পরিচিত। গাজীপুরের শালবনে এবং মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের ভেষজ অংশে কুঁচ গাছ রয়েছে। রাজশাহী ও চট্টগ্রামের কিছু কিছু অঞ্চলে এখনও কুঁচ পাওয়া যায়।

বন উজাড় হওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। এর মোট প্রজাতির সংখ্যা ১২। তিনটি প্রজাতি আমাদের দেশে বেশি জন্মে। এটি পরগাছা কাষ্ঠল লতাজাতীয় গুল্ম। শীতের পর পাতা ঝরে যায়। পাতা ডিম্বাকার বা আয়তাকার। এর শাখা নরম, ৫-৭ সেন্টিমিটার লম্বা। একদণ্ডের দু'ধারে ১০-২০ জোড়া পত্রক পরপর বিপরীত দিকে সাজানো থাকে এবং দেখতে সুন্দর। পুষ্পদণ্ডে ঘন ঘন অনেক ফুল জন্মে। ফুল রক্তাভ, গোলাপি বা শ্বেত বর্ণের হয়। ফল শিমের মতো। ফল পাকার কিছুদিন পরে শুকিয়ে ফেটে যায় এবং বীজ চোখে পড়ে। প্রায় মোটর দানার মতো গোলাকার ও লাল টুকটুকে বীজে গোলাকার কালো দাগ থাকে। সব বীজ একই ওজন ও আয়তনের হয়। লাল কুঁচের মুখটি কালো রঙের আষাঢ়-ভাদ্র মাসে ফুল ফুটে এবং অগ্রহায়ণ-মাঘ মাসে ফল পাকলে বীজ সংগ্রহ করা হয়। ফলের নাম রতি ফল। এর আরেক নাম সোনাকুঁড়ি। কুঁচ ফলের বীজের দুধে আলতা রং থেকেই কুঁচবরণ কন্যার নামকরণ।

কুঁচের অনেকগুলো নাম রয়েছে- চুরামনি, সৌম্যা, শিখি, তাম্রিকা, রক্তা, উচ্চটা, বন্যাসা ইত্যাদি। কুঁচের বৈদিক নাম শাগ্ধগুষ্ঠা। চরক সংহিতায় শাগ্ধগুষ্ঠা এবং গুঞ্জাস্ন- এ দুটো নামের উল্লেখ দেখা যায়। আদিনিবাস ইন্দোনেশিয়া। এ গাছ বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমারসহ গোটা অঞ্চলে পাওয়া যায়। এ ফল দিয়ে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নারীরা বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কারও তৈরি করেন। ফলটি সুই দিয়ে ফুটো করে মাঝখান দিয়ে সুতা বা তার পরিয়ে অলঙ্কার তৈরি করা হয়।

মন্তব্য করুন