মেঘনা নদীর তীরে বিস্তীর্ণ বালুকাময়ে আকন্দ গাছের মেলা। এসব গাছ নদীর তীরে, বালুচরে, বাড়ির সীমানায়, মেঠোপথে, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিত্যক্ত ফাঁকফোকরে, মহাসড়কের ধারে অনাদরেই বেড়ে ওঠে।

এটি একটি মাঝারি ধরনের ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ। আকন্দ ফুল দুই রকমের- একটি সাদা, আরেকটি বেগুনি রঙের। ফল সবুজ, বীজে থাকে লোমযুক্ত। এর বর্ণ ধূসর কিংবা কালচে ধারণ করে। আকন্দ সাধারণত সাত থেকে আট ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এর পাতা পাঁচ থেকে সাত ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। গাছের পাতা, শাখা-প্রশাখা ভাঙলে দুধের মতো সাদা আঠা বের হয়।

ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মাঝামাঝি আকন্দ গাছে ফুল ফোটে এবং মে থেকে জুন মাসের শেষের দিকে ফল ধরে। ফল পাকে আগস্ট থেকে নভেম্বর মাসে।

আকন্দের রয়েছে অনেক ভেষজ গুণাগুণ। যেমন- হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, দাঁতের ব্যথা, গর্ভপাত, খোসপাঁচড়া, অ্যাকজিমা, বহুমূত্র রোগ, পা মচকালে, পেট জ্বালাপোড়া, হজম শক্তি, ফোড়া, ব্রণ, বিছা কামড়ালে, বায়ুনাশক, পাকস্থলীর ব্যথা, হজমকারক, শরীরের কোনো স্থানে ক্ষত হলে আকন্দ গাছের পাতা, ছাল, ফুল, ফল, মূল ও কষ মানবকল্যাণে রোগ নিরাময়ে ব্যাপক উপশম হয়।

আকন্দের প্রাপ্তিস্থান :বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত, চীন, পাকিস্তান ও নেপালে পাওয়া যায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্যালোট্রপিস গিগান্টিয়া। এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ আকন্দ প্রতিটি বাড়ির কোণে একটি গাছ লাগানোও মহৎ কাজ বলে লোকসমাজে সমাদৃত। া

মন্তব্য করুন