কিছু আলো নীল

কিছু আলো নীল


উদ্যোগ

বইপ্রেমী একজন হারুনের গল্প...

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০      

কৌশিক

বইপ্রেমী একজন হারুনের গল্প...

বইপ্রেমী হারুন-অর-রশীদ

অনলাইন মার্কেটে সব পণ্যের বিজ্ঞাপন হলেও কেনো বই নিয়ে হয় না বিস্তর আলোচনা- এই প্রশ্নটি হয়তো প্রতিদিনই কড়া নাড়ছে অনেক বইপ্রেমী মানুষের মনে। অন্য দশজনের মতো বিষয়টি ভুলে না গিয়ে তিনি খুঁজেছেন এর পেছনের উত্তর। এই মানুষটার গল্প বলার আগে তার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক কিছু কথা।

বইপ্রেমী মানুষটির পুরো নাম মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ। তবে তিনি হারুন নামেই পরিচিত বইয়ের অলিগলিতে। নানাবিধ কারণে যেখানে প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে বইয়ের পাঠকের সংখ্যা, সেখানে এই মানুষটি নিরলস কাজ করছেন পাঠকের সংখ্যা বাড়াতে। হারুন পেশায় একজন ব্যাংকার। ২০০৭ সালে প্রশিক্ষণার্থী কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন গ্রামীণ ব্যাংকে। ব্যাংকের হিসাবের মতোই বইয়ের পাঠকের হিসাব বাড়াতেই তার লড়াই। অনলাইনের অলিগলিতে হাজারো তথ্য ঘুরে বেড়ালেও তেমন একটা উপস্থিতি নেই বইয়ের। অনলাইন মার্কেটে সব পণ্যের বিজ্ঞাপন হলেও বই নিয়ে তেমন আলোচনা না হওয়ায় বিষয়টিই ছিল পেশার পাশাপাশি হারুনের অন্যতম ভাবনা। সেই ভাবনা থেকেই শুরু করেন বইয়ের রিভিউ লেখা, যার উদ্দেশ্য ছিল তরুণ সমাজকে বইমুখী করে অন্য জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

এ ভাবনা থেকে ব্যাংকার হারুনের পাশাপাশি শুরু হয় লেখক হারুনের যাত্রা। রিভিউ লিখে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি নিয়ে তার নতুন সত্তার পথচলা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অনলাইনের প্রতিটি অলিগলিতে শুরু করেন বইয়ের রিভিউ লিখে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ। তার এই একার উদ্যোগে তেমন কি কোনো পরিবর্তন এসেছে কিংবা প্রভাব ফেলেছে? শোনা যাক হারুনের মুখেই- 'সত্যি বলতে প্রথম দিকে তেমন সাড়া পায়নি, তাই বলে দমেও যাইনি। যার ফলে ধীরে ধীরে একটা পাঠকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। আমার রিভিউ পড়ে উৎসাহী হয়ে বই পড়ার জগতে পা রেখেছে এ সময়ের অসংখ্য তরুণ। যে ছেলেটি আগে ইউটিউবে বেশি সময় কাটাত, সেই ছেলেটিই এখন তার দিনের একটি অংশ ব্যয় করছে বই পড়ার পেছনে। রিভিউতে বইয়ের গল্পটা কিছুদূর পড়ে আগ্রহী হচ্ছেন পুরোটা পড়তে।' এভাবে অনলাইনে বইয়ের রিভিউ করে হারুন অনেকের হাতে তুলে দিয়েছেন বই। এখন তারা বইয়ের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে, এটিই যেন হারুনের সফলতা।

অনলাইনে বইয়ের সমালোচক হিসেবে যেন জুড়ি নেই তার। নিজে পড়েনও প্রচুর, পড়তে উৎসাহও জুগিয়ে যাচ্ছেন। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে এ পর্যন্ত ২০০-এর বেশি বইয়ের রিভিউ করেছেন তিনি ইতোমধ্যে। কাজ করছেন দেশের সর্ববৃহৎ বইয়ের আলোচনার ফেসবুক গ্রুপ 'বইপোকাদের আডাখানা'য়। বইয়ের কথা ছড়িয়ে দিতে অনলাইনে কাজ করছেন প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। ১৯৯৯ সালে এসএসসি ও পরে ইসলামী ইতিহাস ও সভ্যতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে কর্মসূত্রে হারুনের অবস্থান নবাবগঞ্জে।

শুধু বুক রিভিউ লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখেননি নিজেকে, বইপ্রেমী হারুনের আছে লেখক পরিচয়ও। নিজের লেখা প্রথম মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস '২৯' বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল থ্রিলার প্রেমীদের কাছে। চাকরির পাশাপাশি অনলাইনে বই নিয়ে তার এই অগ্রযাত্রার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাটাও কিছুটা অভিনব। অনলাইনে পাঠক তৈরির মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছেন জেলাভিত্তিক অনলাইন পাঠক ফোরাম সৃষ্টি করতে। স্বপ্ন দেখেন একদিন এ সময়ের তরুণরাই হয়তো টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে জেলাভিত্তিক পাঠাগার স্থাপন করে বই নিয়ে মেতে থাকবে দিনমান। প্রতিটি জেলায় একটি করে উন্মুক্ত পাঠাগার স্থাপন করে বইয়ের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য বুকে ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছেন ৩৭ বছর বয়সী এই বইপ্রেমী।