কালের খেয়া

কালের খেয়া


পদাবলি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২০     আপডেট: ১৯ জুন ২০২০      

মুহূর্ত
হাবীবুল্লাহ সিরাজী


একটাই গুলি
মরে দুইজন
যাকে গুলি করে
এবং যে গুলি করে

রাত ফিরে গেলে
দোষ ধরে দিন
প্রভু নষ্ট হ'লে
উঁকি মারে ঋণ

জন্ম কোনো বিন্দু নয়
বৃত্তে চলাচল
মৃত্যু তার পরিধির
অন্ধ যোগফল

জীবন ও সময়
কিছু নয়
যখন তখন ভাব হয়

জঙ্গল কাটিয়া যবে
সোহরাব হাসান

জঙ্গল কাটিয়া যবে প্রথম বুনেছি শস্যদানা
পাহাড় কাটিয়া যবে প্রথম লাগাই তরু-চারা
মৎস্যের সন্ধানে যবে একসঙ্গে নৌকায় ভেসেছি
তখনো বিভেদ করো নাই; খাটাওনি তো জোর
বলো নাই তুমি পাবে দুই ভাগ, এক ভাগ আমি
উদিত দুঃখের দেশে নারী আরও বেশি দুঃখশীলা।
পক্ষিণীর বিরহে যতটা কান্দে পক্ষী দিনে রাতে
তোমরা মানুষ পক্ষী মানবীর জন্য কান্দ নাই।
এমন পুরুষ আছে, মাতৃগর্ভে জন্ম লয় নাই?
এমন যুবক আছে যুবতীর ভালোবাসা চায় নাই?
প্রেমের অক্ষয় স্মৃতি ধরে রাখতে তোমরা বানাও
তাজমহল অমর সৌধ; অথচ নারীকে তার
প্রাপ্যটুকু দিতে নাহি চাও; এতই কৃপণ তুমি?
অসাম্যে হয় না প্রেম, হৃদয়ের উষ্ণ লেনদেন।

ওরা
রিমঝিম আহমেদ

আমি বিপণি বিতান, সারল্য ঝুলিয়ে রাখি
মাঝেমধ্যে ওরা কথা কিনতে আসে
অর্থ কড়ি ফেলে না কিছুই
দেয় মায়া, ছদ্ম আবরণ

ওরাও বুঝেছে, আমি নিরর্থ বিকোই
গরলে অমৃত আছে, ভেবে
ঢোক গিলে খেয়ে নিই সমুদ্রসমান হলাহল

ওরা আসে কথা কেনে চলে যায়
পাপোশে জুতোর কাদা লেগে থাকে
মানুষ থাকে না।


দেবী
পীযূষ সিকদার

কেন যে তোমাকে বলতে গেলাম
ভালোবাসি!
কেন যে তোমার ওষ্ঠে আঙ্গুল ছোঁয়ালাম!
মিথ্যে সবই মিথ্যে!
অভিনয়ে দক্ষ আমি-
নিয়ত বপন করে চলেছি
ভালোবাসার বীজমন্ত্র
যেই তুমি আমার দিকে ঝুঁকলে
আমি তোমার থেকে দূরে সরে গেলাম
এ আমার হটকারিতা নয়!
তোমাকে আমি দূরে ঠেলে দিয়েছি
আপন ইচ্ছেয়!
তুমি তো আমার দেবী, বহ্নিরূপিনী
তাই রক্তে মাংসে ছুঁতে চাইনি!
কেন যে তোমাকে বলতে গেলাম
ভালোবাসি!