ঢাকা সাহিত্য উৎসব

উষ্ণতায় মুখরিত অঙ্গন

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০১৭     আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৭      

আহমাদ মোস্তফা কামাল

উষ্ণতায় মুখরিত অঙ্গন

ঢাকা লিট ফেস্ট-এ সাহিত্য অনুরাগীদের ভিড়

যে কোনো উৎসবই আমাকে আনন্দ দেয়। আর সেটি যদি হয় শিল্প-সাহিত্যকেন্দ্রিক; তাহলে আনন্দটি আরও বাঙ্‌ময় হয়ে ওঠে। মনে হয়- এ আমারই উৎসব। আমার জন্যই এত আয়োজন। বড় আপন মনে হয় এ ধরনের উৎসবকে। তার কারণ হয়তো এই যে, যা নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি- এই লেখালেখি, এই বই পড়া বা শিল্প-সংস্কৃতির বিবিধ শাখার স্বাদ আস্বাদনের ভেতর দিয়ে- আমাদের সমাজ জীবন বা জাতীয় জীবনে তার কোনো বিশেষ স্থান নেই, বিশেষ কোনো মর্যাদাও নেই। ফলে একটি বেদনাবোধ জেগে থাকে মনের ভেতর। মনে হয়- যা কিছু করছি, তার কোনো উপযোগিতাই নেই কোথাও। আর তখন যদি একটি উৎসব আসে এ সবকিছুকে ঘিরে, যদি বাংলা একাডেমির নির্জন-বিষণ্ণ প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে জমকালো সব আয়োজনে- ভালো লাগে; ভীষণ ভালো লাগে।

বছর ঘুরে আবার এসেছে ঢাকা সাহিত্য উৎসব, বিশ্বজুড়ে সাহিত্যানুরাগীদের কাছে যার পরিচিতি 'ঢাকা লিট ফেস্ট' বা ঢাকা লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল নামে। যদিও নাম শুনে মনে হয়- এ কেবল সাহিত্যেরই উৎসব, আসলে তা নয়। এই উৎসবের নানা পর্বে আলোচনা চলে বিজ্ঞান ও দর্শন নিয়ে, চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত নিয়ে, রাজনীতি ও সমাজতত্ত্ব নিয়ে, সামাজিক বাস্তবতা ও স্বপ্ন নিয়ে, ধর্ম ও মানুষ নিয়ে এবং আরও অনেক কিছু নিয়ে। সেটিই হওয়ার কথা। সাহিত্য তো এগুলোর কোনোটি থেকেই বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয় সাহিত্যের জগৎ। এই উৎসব এখন সাহিত্যামোদীদের কাছে দারুণ এক আগ্রহের বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে তার এই বহুমাত্রিক চরিত্রের কারণেই। তবে এই পর্যায়ে উঠে আসতে তাদের যাত্রাপথটি ততটা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, বরং কণ্টকাকীর্ণই ছিল বলা যায়। ২০১২ সালে যখন এ উৎসবের যাত্রা শুরু হয়েছিল 'হে লিট ফেস্ট' নামে, তখন এ নিয়ে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। এমনকি কিছু অতিউৎসাহী লেখক-কবি-সংস্কৃতিকর্মী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মানববন্ধন করে এ আয়োজনের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কেউ একে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, কেউ ঔপনিবেশিক হ্যাঙওভার হিসেবে, কেউ আবার 'বড়লোকদের সাহিত্যচর্চা' হিসেবে। এই প্রতিক্রিয়া হয়তো অস্বাভাবিক নয়। উৎসবের যে ধরনের সঙ্গে আমরা পরিচিত, এ উৎসব সে রকম নয়, বরং চরিত্রের দিক থেকে বেশ আলাদা।

গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক ফোক ফেস্ট, ক্লাসিক্যাল মিউজিক ফেস্ট, লিট ফেস্ট হচ্ছে ঢাকায়- এর সবই আমাদের কাছে নতুন। এর আগে এ ধরনের উৎসব আমরা দেখিনি; অংশগ্রহণ তো দূরের কথা। এই জমকালো, চাকচিক্যময়, অভিজাত উৎসবগুলো যেন আমাদের নয়। এ যেন 'তাহাদের', মানে ওই অভিজাতদের, বড়লোকদের, পুঁজিপতিদের- এ রকম মনে হওয়া খুব বেশি অস্বাভাবিকও নয়। এ দেশের শিল্প-সাহিত্যের ভোক্তা বা পৃষ্ঠপোষক প্রধানত মধ্যবিত্ত শ্রেণির; উচ্চবিত্তরা এর আগে এসব নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখাননি। এখন দেখাচ্ছেন, নানা আয়োজন করছেন; বিনা চ্যালেঞ্জে তাদের সেটি করতে দেওয়া হবে না- এ রকম একটি ব্যাপার বোধ হয় ছিল প্রতিবাদকারীদের মধ্যে। আমাদের সমাজে গোপনে বা প্রকাশ্যে শ্রেণিদ্বন্দ্ব আছে- অস্বীকার করার উপায় নেই। মুশকিল হলো, সেই শ্রেণিদ্বন্দ্ব কখনও কখনও শ্রেণিবিদ্বেষ কিংবা শ্রেণি-ঘৃণায় রূপান্তরিত হয়। শুরুর দিকে কারও কারও সমালোচনার ভেতরে সেটি খুব দৃষ্টিকটুভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিল। সত্যি বলতে কি, উৎসব নিয়ে আপত্তি না থাকলেও শুরুর দিকে এর নাম নিয়ে আমার মনেও কিছুটা দ্বিধা-সংশয় ছিল। 'হে ফেস্টিভ্যাল' কেন ঢাকায় করতে হবে- এ প্রশ্নের কোনো উত্তর ছিল না। প্রথমদিকে এ দেশের অনেক লেখকই এত আলোচনা-সমালোচনার বাধা পেরিয়ে উৎসবে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে এত কটু সমালোচনা, এত তীব্র বাদানুবাদ সত্ত্বেও আয়োজকরা অবিচল থেকে পরের দু'বছরও একই নামে ফের উৎসবের আয়োজন করেন এবং সমালোচনা, কটূক্তি, নিন্দা অব্যাহত থাকে। আয়োজকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি ছিল- উৎসবে বাংলাদেশের লেখক-শিল্পীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। কারণ তারা এ উৎসবের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্যকে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন এবং বিভিন্ন দেশের লেখকদের সঙ্গে এ দেশের লেখকদের চিন্তা-বিনিময় ও মিথস্ট্ক্রিয়ার সুযোগ তৈরি করার কথা বরাবরই বলে এসেছেন। কিন্তু দেশের লেখক-শিল্পীরা যদি ব্যাপক সংখ্যায় অংশগ্রহণ না-ই করেন, তাহলে উৎসবটি রয়ে যায় কতিপয়ের; তা সবার হয়ে ওঠে না। মজার ব্যাপার হলো, ২০১৫ সাল থেকে যখন উৎসবের নাম পরিবর্তন করে 'ঢাকা লিট ফেস্ট' করা হয়, তখন সমালোচনা যেমন কমে আসে, তেমনি অংশগ্রহণও বাড়তে থাকে। শুধু লেখকদের নয়; বাড়ে পাঠক-শ্রোতা-সাহিত্যপ্রেমীদের অংশগ্রহণও। গত বছর উৎসবের পঞ্চম আয়োজনে তার প্রমাণও পাওয়া গেল। তিন দিনের আয়োজন মুখরিত ছিল লেখক-পাঠক-দর্শক-শ্রোতার অংশগ্রহণে, হেমন্তের মৃদু-মায়াময় শীতের দিনগুলোতে উষষ্ণতায় সচকিত হয়ে উঠেছিল বাংলা একাডেমির নির্জন প্রাঙ্গণ। এটি যে আয়োজকদের সফলতা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সহস্র সমালোচনার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তারা অবিচলভাবে কাজ করে গেছেন। এ উৎসবকে 'তাহাদের উৎসব' ইমেজ থেকে বের করে এনে 'আমাদের উৎসব' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা যে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছিলেন, তা বোঝা যায় ওই নাম পরিবর্তনের ঘটনা থেকেই। 'হে ফেস্টিভ্যাল' থেকে 'ঢাকা লিট ফেস্ট'- নামের এই পরিবর্তনকে আমি আয়োজকদের চিন্তার উত্তরণ হিসেবেই দেখি। একটি আন্তর্জাতিক উৎসবের সঙ্গে নিজেদের প্রিয় শহরটির নাম জড়িয়ে থাকলে এমনিতেই তা নিজেদের হয়ে ওঠে এবং শহরটির নামও পৌঁছে যায় বিশ্বের সাহিত্যানুরাগীদের কাছে- এটি নিশ্চয় তারা অনুভব করেছিলেন।

অবশ্য অনুযোগ-অভিযোগ একেবারে শেষ হয়ে যায়নি, তবে এর ধরন বদলেছে। এখন অভিযোগ আসে প্রধানত ব্যবস্থাপনার ত্রুটি নিয়ে। উৎসবে অনেক সেশনে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বাংলাদেশের লেখকদের নামও থাকে আলোচক হিসেবে। কিন্তু কে কোন বিষয়ের ওপর আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তা জিজ্ঞেস না করেই কোনো একটি সেশনে নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়- এ রকম একটি অভিযোগ শুনেছি গত বছর কারও কারও কাছ থেকে। আবার এও শুনেছি- আলোচনার বিষয় তো জানানো হয়ই না; অনেক লেখককে নাকি সময়মতো জানানোও হয় না যে, অমুক দিন অমুক সেশনে আপনার একটা আলোচনা আছে! এগুলো নিঃসন্দেহে ব্যবস্থাপনার ত্রুটি। একটি বড় আয়োজন করতে গেলে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ই। কিন্তু কোনো অজুহাতেই এসব ত্রুটিকে জায়েজ করার উপায় নেই। আশা করি, আয়োজকরা এসব ত্রুটি কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে যথাযথ দৃষ্টি দেবেন।

যা হোক, পৃথিবীর নানা প্রান্তের লেখকদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং চিন্তা বিনিময়ের সুযোগ যেমন ঘটে এ উৎসবে; তেমনই পরপর তিনদিন সাহিত্য নিয়ে বিবিধ আলাপ শোনারও সুযোগ ঘটে। বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে যেমন পরিচয় ঘটে অতিথি লেখকদের; তেমনই বাংলাদেশের মানুষ সম্বন্ধেও একটি ইতিবাচক ধারণা নিয়ে ফিরে যান তারা। এগুলো এ উৎসবের অর্জন। কিন্তু এগুলো ছাড়াও আরও একটি বড় অর্জন আছে। নানা কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সংবাদ শিরোনামে আসে প্রধানত নেতিবাচক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে একের পর এক লেখক-প্রকাশক-ব্লগার হত্যা, বিদেশি নাগরিক হত্যা, পুরোহিত-যাজক হত্যা, এমনকি সুফিবাদী ইসলামপন্থিদের হত্যা, ব্লগারদের দেশত্যাগ, উগ্রপন্থিদের অবিরাম হামলা ও হুমকি-ধমকি এবং হলি আর্টিসানের মর্মান্তিক হত্যাকা বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিল এক জঙ্গি দেশ হিসেবে। গত বছর হলি আর্টিসানের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর, লিট ফেস্টের আয়োজন করা ছিল দারুণ ঝুঁকিপূর্ণ এক ব্যাপার। আয়োজকরা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই সেই ঝুঁকি নিয়েছেন। যারা এসেছিলেন গত বছর, তাদের সবার মনেই এসব নিয়ে শঙ্কাও ছিল। অনেকের সঙ্গে আমার কথাও হয়েছে। তারা প্রধানত এ বিষয়টিই বারবার জানতে চেয়েছেন- এ রকম ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে আমরা লেখালেখি করি কীভাবে? এক ফরাসি সাংবাদিক ঠধহবংংধ উড়ঁমহধপ আমার সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় মেতেছিলেন। আর সেই সাক্ষাৎকারের বেশিরভাগ প্রশ্নই ছিল এই উগ্রপন্থা, জঙ্গি কর্মকাণ্ড, এ দেশের মানুষদের ধরন-ধারণ নিয়ে। তিনি যে ইতিবাচক ধারণা নিয়েই ফিরে গিয়েছিলেন- সেটা বোঝা গিয়েছিল তার পরবর্তী লেখাগুলো থেকেই। একই রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে পেন ইন্টারন্যাশনালের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপচারিতায়ও। লেখকদের এ সংগঠনটির বিস্তার বিশ্বব্যাপী। তাদের নানাবিধ কাজের একটি হচ্ছে- নিজ দেশে আক্রান্ত বা হুমকিগ্রস্ত লেখকদের অন্য কোনো নিরাপদ দেশে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া। বাংলাদেশের ব্লগারদের দেশত্যাগেও তারাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এ দেশের লেখক-প্রকাশকদের ওপর প্রতিটি হামলা-হুমকি-নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে তাদের লিখিত ডকুমেন্টও আছে। সেটি যখন দেখালেন, বেশ অবাক হলাম আমি। এত খবর রাখেন তারা! তো, দীর্ঘ আলাপের পর তারা জানালেন- আমাদের ধারণা ছিল, এত বিরূপ পরিবেশে এ দেশের লেখকদের লেখালেখি চালিয়ে যাওয়া সম্ভবই নয়। কিন্তু এখানে এসে, সবকিছু দেখে, আপনাদের সঙ্গে আলাপ করে আমাদের সেই ধারণা বদলে গেছে। আপনাদের সাহস ও শক্তি দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি, আশান্ব্বিত হয়েছি। এসেছিলাম দারুণ শঙ্কা নিয়ে; খুব ভালো একটি মন নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।

এই ঘটনা দুটোর উল্লেখ করলাম আন্তর্জাতিক পরিসরে এ উৎসবটি কত ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করছে, সেটি বোঝানোর জন্য। যা প্রচারিত হয়, অর্থাৎ ওই নেতিবাচক খবরগুলো, তার বাইরেও যে বাংলাদেশের মানুষের আরেকটি রূপ আছে- মায়াময়, অতিথিপরায়ণ, মরমি, কর্মঠ- তা নিজেদের চোখেই দেখে যাওয়ার সুযোগ পান নামি লেখক-সাংবাদিকরা এ উৎসবের কল্যাণেই।

এ গেল একটি দিক। আরও অনেক ব্যাপার আছে। এ দেশে এসে, এ রকম একটি জমজমাট সাহিত্য উৎসব দেখে স্বাভাবিকভাবেই অতিথি লেখক-সাংবাদিক-সম্পাদক-প্রকাশকদের একটি আগ্রহ জন্মে আমাদের সাহিত্য সম্বন্ধে। গত বছর আমি নিজেই দেখেছি- বিভিন্নজন বাংলাদেশের লেখকদের বই খুঁজছেন, মানে ইংরেজি অনুবাদগুলো খুঁজছেন। আমাদের সাহিত্যের মানসম্পন্ন ইংরেজি অনুবাদ হয়নি বললেই চলে। হলেও সংখ্যায় তা খুবই অপ্রতুল এবং দুষ্প্রাপ্য। ফলে অতিথিদের কৌতূহল মেটার কোনো সুযোগ থাকে না। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা ট্রান্সলেশন সেন্টার নামে এক অনুবাদ সংস্থা, মূলত বাংলা বইগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ করার লক্ষ্য নিয়ে। ইতিমধ্যে এ সংস্থাটি বেশ কিছু অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশও করেছে। যদিও তারা এখন পর্যন্ত প্রধানত বয়োজ্যেষ্ঠ লেখকদের বইগুলো অনুবাদ করে পৌঁছে দিতে চাইছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তবে এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে তুলনামূলক তরুণ লেখদের বইগুলোও অনূদিত হবে বলে জানিয়েছেন তারা। শুধু এদেশীয় অনুবাদ সংস্থা নয়; যেসব আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধাররা আসেন এ উৎসবে, তারাও বাংলাদেশের সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাদের প্রকাশনা সংস্থা থেকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো প্রকাশের ইচ্ছে ব্যক্ত করছেন। ইতিমধ্যে বেশকিছু বই প্রকাশিতও হয়েছে। সব মিলিয়ে এটুকু বলা যায়- বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে বহির্বিশ্বের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে ধীরে ধীরে, এ উৎসবের কল্যাণে।

এই বিপুল আয়োজনের পেছনে রয়েছেন তিনজন দারুণ সৃজনশীল কর্মমুখর তরুণ- সাদাফ সায্‌, আহসান আকবার এবং কাজী আনিস আহমেদ। তাদের নেপথ্যে রয়েছেন এক সদাতৎপর কর্মী বাহিনী। তারা প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলছেন ধীরে ধীরে, বাংলাদেশকে পরিচিত করাচ্ছেন এক নতুন রূপে। এই তো সেদিন ফ্রান্সের বিখ্যাত দৈনিক 'লা মন্ড'-এ প্রকাশিত হলো ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৭ আয়োজনের খবর, যার শিরোনাম ছিল 'সাহিত্যের রাজধানী ঢাকা', তখন নিশ্চয়ই এই তিন পরিচালকের ঠোঁটে লেগে থাকা সার্বক্ষণিক মৃদু হাসিটি বেশ বিস্তৃত হয়ে উঠেছিল। শুধু তাদের কেন; আমাদের সমস্যা-সংকট জর্জরিত মুখেও হাসি ফুটে উঠেছে এই শিরোনাম দেখে। আমি নিশ্চিত- এ লেখাটি যারা পড়লেন এবং জানলেন যে ঢাকাকে এখন পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাহিত্যের রাজধানী হিসেবে, ফ্রান্সের শীর্ষ এক দৈনিকে, তাদের ঠোঁটেও হাসি ফুটে উঠেছে। আমাদের এই হাসিমুখ দীর্ঘস্থায়ী হোক, ঢাকা সাহিত্য উৎসব আরও বহু বছর ধরে গৌরব ধরে রাখুক।

সব শেষে একটি ছোট্ট প্রস্তাব রাখি। এ উৎসবটি আন্তর্জাতিক, নামটিও তাই ইংরেজিতে, ঠিকই আছে সেটি। কিন্তু ইংরেজি নামের পাশাপাশি একটি বাংলা নামও তো থাকতে পারে। যেমন 'ঢাকা সাহিত্য উৎসব' বা এ ধরনের কিছু! হ্যাঁ, এ রকম একটি বাংলা নামও না হয় থাকুক এবং সেটি লেখা থাকুক বাংলা অক্ষরেই- সর্বত্র। আমাদের বর্ণমালা তো রূপে-সৌন্দর্যে-ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধশালী। অতিথিরা অন্তত তার রূপের কিছু অংশ দেখুন!

পরবর্তী খবর পড়ুন : দিনটি কেমন যাবে

৭ জেলায় বিএনপি জামায়াতের ২০ জন গ্রেফতার

৭ জেলায় বিএনপি জামায়াতের ২০ জন গ্রেফতার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে এবং পুলিশের বিশেষ ...

মা-বাবাকে খুঁজছে পথ হারানো রবিউল

মা-বাবাকে খুঁজছে পথ হারানো রবিউল

পাবনার চাটমোহর রেল স্টেশনে কুড়িয়ে পাওয়া পথ হারানো শিশু রবিউল ...

ধুনটে বিএনপি প্রার্থীর গাড়ি বহরে হামলা

ধুনটে বিএনপি প্রার্থীর গাড়ি বহরে হামলা

বগুড়ার ধুনটে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজের গাড়ি বহরে হামলার ...

যুক্তরাষ্ট্র কোনও দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

যুক্তরাষ্ট্র কোনও দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে ...

জঙ্গিবিরোধী চলচ্চিত্রের নায়ককে হত্যার পরিকল্পনায় দুইজন গ্রেফতার

জঙ্গিবিরোধী চলচ্চিত্রের নায়ককে হত্যার পরিকল্পনায় দুইজন গ্রেফতার

জঙ্গিবিরোধী চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রচার করায় পরিচালক ও অভিনেতা খিজির ...

নোয়াখালীতে নির্বাচনী সংঘাতে যুবলীগ নেতা খুন

নোয়াখালীতে নির্বাচনী সংঘাতে যুবলীগ নেতা খুন

নোয়াখালীতে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সংঘাতে এক যুবলীগ ...

স্মিথের বিপিএল খেলা নিয়ে প্রশ্ন

স্মিথের বিপিএল খেলা নিয়ে প্রশ্ন

বিপিএলের আগামী আসরে বড় বড় কিছু নাম যোগ হয়েছে। গেইল-নারইনরা ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণের চাল নিয়ে সংঘর্ষ, আটক ৬

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণের চাল নিয়ে সংঘর্ষ, আটক ৬

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণের চাল ক্রয়ের সিন্ডিকেটের সদস্যরা দিন ...