ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং

গল্প

দুই ভাই ও দুষ্ট জাদুকর

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২০

মাহ্‌দী হোসেন

এক দেশে ছিল এক জাদুকর। আর ছিল এক সৈনিক। জাদুকর ছিল খুব দুষ্ট। সে সবার ক্ষতি করতো। একবার জাদুকর সৈনিকের প্রিয় বন্ধুর ক্ষতি করল। তখন সৈনিক রেগে তাকে খুব বকাঝকা করলো। এতে জাদুকরের মেজাজ বিগড়ে যায়। সে ঠিক করে সৈনিকের দুই ছেলে মাহি ও ওহীর ক্ষতি করবে। এক বিকেলে মাহি পাখি দেখছিল। তখন জাদুকর ঈগল সেজে মাহিকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ঈগল বানিয়ে দেয়। পরেরদিন সকালে মাহির জ্ঞান ফিরলে দেখে সে ঈগল হয়ে গেছে। তখন মাহি ভাবলো, সে তো এখন একটি পাখি। আর পাখি তো উড়তে পারে। তাই সে উড়ে জাদুকক্ষের জানালা দিয়ে বেরিয়ে গেলো। উড়ে উড়ে সে বাড়ির পথ ধরলো। এদিকে বাড়ির সবাই তার জন্য চিন্তা করছিল। উড়ে এসে মাহি ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু কেউ তাকে ঘরে ঢুকতে দেয় না। এমনকি তার ছোট ভাই ওহীও তাকে দেখে ভয় পেয়ে যায়। কোনো উপায় না পেয়ে সে বাড়ির পাশের গাছে থাকতে শুরু করলো। একদিন ওহী পুকুরে গোসল করতে নেমে ডুবে যাচ্ছিল। তখন মাহি তাকে বাঁচায়। ওহী বলে, তুমি কে? কেনো আমাকে বাঁচালে? মাহি বলে, আমি তোমার বড় ভাই মাহি। সেই দুষ্ট জাদুকর আমাকে ঈগল বানিয়ে দিয়েছে। তুমি দয়া করে আমাকে বাঁচাও।

ওহী বলে, আমি কীভাবে তোমাকে বাঁচাবো?

মাহি তাকে একটি বুদ্ধি দিলো। তারপর তারা জাদুকরের বাড়ির দিকে রওনা হলো এবং ওহীকে জাদুকরের বাড়ির পাশে লুকিয়ে রাখলো। তারপর মাহি জাদুকরের কাছে গিয়ে বললো, আমি আপনার কাজ করতে চাই। আমাকে দিয়ে যে কোনো কাজ করাতে পারেন। জাদুকর বললো, যাও, ওহীকে তুলে নিয়ে আসো। মাহি ওহীর কাছে গিয়ে বললো, তুমি অজ্ঞান হওয়ার ভান করো। তারপর মাহি ওহীকে জাদুকরের কাছে নিয়ে গেলো। জাদুকর ওহীকেও ঈগল বানিয়ে দিলো। পরের দিন জাদুকরের কাছে গিয়ে মাহি আর ওহী বললো, আমরা তোমাকে বোকা বানিয়ে ঈগল হয়েছি। এবার তোমাকে শাস্তি দেবো। অমনি জাদুকর তার বাড়িটিকে বিশাল দৈত্য বানিয়ে দিলো। তাতেও কাজ হয়নি। তারা দুষ্ট দৈত্য আর জাদুকরকে পরাজিত করলো। আর রাজ্যে ফিরে এলো সুখ। তারপর রাজ্যের সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করলো। আর দুই ভাইও হয়ে গেলো আগের মতো। তারা এরপর মানুষের সেবায় নিজেদের বিলিয়ে দিলো।

বয়স : ২+৩+৩+৪ বছর; ষষ্ঠ শ্রেণি, হিতৈষী উচ্চ বিদ্যালয়, ফরিদপুর