ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং

নীল পরি অথৈ

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২০

লিটন ঘোষ জয়

নীল পরি অথৈ। ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে খুব পছন্দ করে। মাঝেমধ্যে আবার এই নীল পরির ইচ্ছে করে নীল আকাশ হয়ে যেতে। মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলতে। কখনো ইচ্ছে করে সন্ধ্যারাতে চাঁদ হয়ে তারাদের সাথে গল্প করতে। নীল পরি ভোরে শিউলি ফুল তুলে, মালা গেঁথে নদীর বুকে ভাসিয়ে দেয়। সেই মালা নদী ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায় অচিন দেশে। যে দেশে লাল পরি, হলুদ পরি, সবুজ পরিরা থাকে। জানো, নীল পরি ছড়াও লিখতে পারে। শেষ বিকেলে রংধনু যখন রাঙিয়ে দেয় আকাশ। বৃষ্টি পেয়ে সবুজ পাতারা যখন আরও সজীব হয়। তখন নীল পরি অথৈ হলুদ পাখিকে ছড়া শোনায়- 'একটা পাখি টিয়ে/কাল হবে তার বিয়ে/বর হলো তার কাক/মাথায় ভরা টাক/ সবাই মিলেমিশে/ ঢাক বাজারে ঢাক।' নীল পরির ছড়া শুনে হলুদ পাখি খুশিতে নাচতে থাকে। কুহু... কুহু গান গেয়ে ওঠে। নীল পরিটা তখন আনন্দে হাসতে থাকে। নীল পরি অথৈ- নীল পদ্ম পেলে খুশিতে পিচ্চি ঘাসফড়িংয়ের মতো নাচতে থাকে। যেন ফাল্কগ্দুনের কোকিল। গলা ছেড়ে মিষ্টি গান গায়। সেই গানে মুগ্ধ হয়ে বাগানের সব ফুল হেলেদুলে নাচতে থাকে। পাখিরা দল বেঁধে ডানা মেলে আকাশে উড়ে যায়। তখন মেঘগুলোও সাত রঙের আবির হয়ে যায়।

নীল পরিটার একটা বন্ধু আছে। নীল প্রজাপতি। পরিটার মন খারাপ হলে কীভাবে যেন নীল প্রজাপতি টের পায়। তখন সে উড়ে চলে আসে। তারপর রঙে রঙে রাঙিয়ে তোলে অথৈকে। আর তাতেই নীল পরির মন ভালো হয়ে যায়। তখন নীল পরি অথৈ গান ধরে- 'আলো আমার, আলো ওগো, আলো ভুবন ভরা...।'

সেদিন নীল প্রজাপতি নাচতে নাচতে অথৈর মুখে বসে। অথৈ বলে, 'নীল প্রজাপতি, একটা গল্প শোনাবে? আমার না গল্প শুনতে খুব ইচ্ছে করছে। শোনাও না একটা গল্প!' প্রজাপতি বলে, 'হ্যাঁ, আজ শোনাবো ফুলের গল্প।' 'সেই ফুলের রং কি নীল?' 'না হলুদ।' 'হলুদ ফুল। এটা কি সরষে ফুল?' 'না।' 'তাহলে?' 'এটা হচ্ছে- হলুদ পরি ফুল।' 'যা, হলুদ পরি নামের কোনো ফুল আছে নাকি?' 'হ্যাঁ আছে।'

'আচ্ছা, সেই হলুদ পরি ফুল দেখতে কেমন?' 'ঠিক তোমার মতো।'

'আমার মতো! আরে! আমি তো নীল পরি; ফুল না!' 'হ্যাঁ, তুমি ফুল, নীল ফুলও, হলুদ ফুলও। বুঝলে!' 'থাক তোমাকে আর বোঝাতে হবে না; বলো হলুদ পরি ফুলের গল্প।' 'আরে বাবা! বলছি তো। শোনো, এক ছিল রাজকন্যা। সে খুব ফুল ভালোবাসত। রাজ্যের সব প্রজাপতি, পাখি, ঘাসফড়িং রাজকন্যাকে ফুল উপহার দিত। আর রাজকন্যা ফুল পেয়ে খুশিতে তিড়িংবিড়িং নাচত। রাজকন্যার আনন্দ দেখে ফুলগুলো কোনোটা পাখি, কোনোটা প্রজাপতি, কোনোটা নীল জোনাকি, কোনোটা ঘাসফড়িং; আবার কোনোটা হলুদ পরি ফুল হয়ে যেত।' 'বলো কি! খুব মজার গল্প তো! আচ্ছা, সেই রাজকন্যার নাম কী?'

প্রজাপতি উড়ে গিয়ে দেয়ালে বসে বলে, 'রাজকন্যার নাম নীল পরি অথৈ।'

'ধুত্তরি ছাই! কী যে, বলো। এটা তো আমার নাম!' অথৈর কথা শেষ না হতেই প্রজাপতি বলে, 'আরে, তুমিই তো রাজকন্যা। বুঝলে?' া