ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং

ছড়া-কবিতা

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২০

সু জ ন ব ড়ূ য়া

অবাক করা নায়ক



তোমরা সবাই নায়ক খোঁজো গল্প-উপন্যাসে

চলচ্চিত্র নাটকেও তোমরা নায়ক পাও

কখনো বা পাও কাউকে এমন আশেপাশে

তোমরা যাকে নায়ক ভেবে হঠাৎ থমকে যাও।



তোমরা জানো নায়ক কেমন, নায়ক কাকে বলে

অনেক থেকে কেউ একজন নায়ক কেন হয়

নায়ক থাকে সবার থেকে এগিয়ে বুদ্ধি-বলে

নায়কই দাঁড়ায় রুখে অন্যের চরম বিপর্যয়।



নায়ক ভাবে সবার কথা, ভাবে সবার আগে

তাই নায়ক হয় মধ্যমণি, ভালোবাসায় ঘেরা

মৃত্যু-মুখেও নায়ক থাকে সবার অগ্রভাগে

নায়কই হয় সর্বগুণে সেরার থেকে সেরা।



এমন নায়ক খুঁজতে আমার হয়নি কোথাও যেতে

আমার নায়ক আমার সামনে দু'চোখজুড়ে আছে

সবার ভালোমন্দ নিয়ে সে থাকে রোজ মেতে

দিনরাত তার একটাই কাজ মানুষ যাতে বাঁচে।



আমার নায়ক বিপদ-বাধায় হারায় না দিক-দিশা

সামনে এসে দাঁড়ায় বরং শক্ত দেয়াল হয়ে

বাতাস থেকে নেয় শুষে সব বিষ-কার্বন-সিসা

দেয় অক্সিজেন শুদ্ধবায়ু ছড়িয়ে বিনিময়ে।

আমার নায়ক দাঁড়ায় রুখে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস

আইলা সিডর তার কাছে ঠিক হার মানে বারবার

আম্পান তাকে কুর্নিশ করে যেন তারই দাস

এমন সুবীর নায়ক বলো কোথায় আছে আর!



আমার নায়ক নেয় না কিছুই, বিলায় অকাতরে

মাছ মধু কাঠ নিবিড় শীতল ছায়ার আলোড়ন

মানুষ বাঁচায় দেশকে বাঁচায় নিজকে উজাড় করে

আমার নায়ক আর কেউ নয়, এই সুন্দরবন।



তোমরা বলো, আমার নায়ক নয় কি মহান নায়ক?

মানুষ তাকে বানায়নি কো, সে প্রকৃতির গড়া,

এমন নায়ক কয়টা পাবে খুঁজে বিশ্বলোক?

আমার নায়ক সুন্দরবন সত্যি অবাক করা।



প লা শ মা হ বু ব

লোকটা



লোকটা ভুলোমনা, সবই যায় ভুলে

ঘুমাতে সে ভুলে যায় বিছানায় 'শুলে'।

খবর দেখতে গিয়ে, গানে দেয় ডুব

পশ্চিমে হেঁটে হঁটে, ভাবে এটা পুব।



রেগে যাবে ঠিক করে, ফিক করে হাসে

অফিসে রওনা দিয়ে মার্কেটে আসে।

বিয়োগ করতে গিয়ে, করে ফেলে গুণ

এপ্রিলে এসে ভাবে, এটা বুঝি জুন।



লবণ আনতে দিলে, কিনে আনে চিনি

টাকা ধার দিয়ে ভাবে, নিজেকেই ঋণী।

সবই আছে তাও ভাবে, একা দুই কুলে

মাঝে মাঝে যায় তার নামটাও ভুলে।



ই ম রা ন প র শ

খোকন



খোকন খোকন ডাকছে কে

পানতা পোলাও রাঁধছে কে?

পানতা খোকন খায় না

তাই তো বাড়ি যায় না।



নোটন নোটন ঝোটন বেঁধে

পায়রা নাচে উঠোনজুড়ে

খোকন বেড়ায় কেঁদে কেঁদে

মা গেছে তার অনেক দূরে।



তো ফা য়ে ল পা র ভে জ

যাবো না আর কোথাও আমি

ঝিলের জলে চাঁদ ভাঙছে, জল ছল ছল ঢেউ

যাবো না আর কোথাও আমি, ডাকলে ডাকুক কেউ

চাঁদকে দেখে মনে হয় সে বলতে পারে কথা

হাওয়ায় মাথা দুলিয়ে তাকে ডাকছে পাতা লতা

স্বচ্ছ আকাশ মাঝে মাঝে আছে মেঘের রেখা

তারা গাঁথা বর্ণমালায় জানি না কি লেখা

জলের ভেতর চাঁদ ভাঙছে, গড়ছে আলোর সিঁড়ি

ঘাসের ডগা পড়ছে নুয়ে, পাতায় ঝিরিঝিরি

অবাক চোখে চাঁদ দেখছে ছায়ার এমন খেলা

একটি চাঁদের মুখ ভেঙে হয় অনেক চাঁদের মেলা

চাঁদের দিকে তাকাই আমি, অবাক হয়ে দেখি

আমার মতোই চাঁদও আমায় দেখছে চেয়ে সেকি

হঠাৎ হলো রাত থমথম, বাতাস গেলো থেমে

একটুখানি গরম তাতেই উঠছি আমি ঘেমে

কি আর করি এখন আমি বাসায় ফিরে যাই

ভাবতে ভাবতে অন্য মনে যেই না পা বাড়াই-

হঠাৎ হাওয়া ছুটে এসে বলল আমার কানে

আরে আরে যাচ্ছ কোথায়, যাওয়ার কি বা মানে

আসতে আমার দেরি হলো তাতেই বুঝি রাগ

দিচ্ছি তোমার গা জুড়িয়ে রাগ করো না থাক

আমরা সবাই বন্ধু জেনো জল হাওয়া চাঁদ মিলে

জেগে আছি এরই মাঝে তুমিও যোগ দিলে

দিগন্তকে ছুঁয়ে আকাশ ঢাকনা হয়ে আছে

আমার যেন অনেক কথা সবুজ ঘাসের কাছে

অনেক দূরে আলো জ্বলা ছোট্ট শহরতলি

মাঠের ভেতর একা আমি আপন মনে বলি-

আমারও তো তোমাদেরই বন্ধু হবার সাধ

জলের ওপর হাওয়ার কাঁপন, ভাসছে জলে চাঁদ।



রে বে কা ই স লা ম

তিয়ামণি পিয়ামণি



তিয়ামণি পিয়ামণি

যমজ দু'বোন

হাসিখুশি ভরে আছে

ওদের ভুবন।



একসাথে খায় দায়

নাচে খেলে গান গায়

ইশকুলে যেতে তারা

একসাথে হাঁটে

প্রজাপতি দেখলেই

আহদ্মাদে ফাটে!



দু'জনেই খুব খুশি

ঝাল ফুচকায়

ভিড় দেখে দু'জনেই

ভুরু কুঁচকায়।



একসাথে তারা গোনে

বৃষ্টির গান শোনে

দাদা বাড়ি গাঁয়ে যায়

খুশিতে 'ফি-সন'

দেশটাকে ভালোবাসে

দু'জনই ভীষণ।