ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং

বিশেষ কিছু

গল্প আমার ফুরিয়ে গেলো

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২০

গল্প লিখেছেন আলম তালুকদার, ছবি এঁকেছেন রজত

গল্প আমার ফুরিয়ে গেলো

আলম তালুকদার [জন্ম : ১ জানুয়ারি ১৯৫৬-মৃত্যু :৮ জুলাই ২০২০]

আলম তালুকদার; একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি দেশকে ভালোবাসতেন আর ভালোবাসতেন তোমাদের। এই ভালোবাসা থেকে লিখেছেন প্রায় ১২০টি বই। তারপর লিখলেন এই গল্পটা। এটিই তার লেখা শেষ গল্প। গল্পটি লেখার পর গত ৮ জুলাই তিনি চলে গেলেন আকাশের দেশে। পৃথিবীর সব ফড়িং সোনার পক্ষ থেকে তারা হয়ে জ্বলে থাকা প্রিয় এই লেখকের প্রতি রইল অনেক অনেক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা...

আমি কোনো প্রতিযোগিতায় নাই। আমার মনে যা আসে তখন তাই লিখি।

আমার বাসায় এগারো দিনের এক নাতি ঘরেন্টাইন। তাও তার মাকে নিয়ে। তার নাম আপাতত আরশ। আমি ডাকি সাবলীল। তিনি আজ সকালে তার মায়ের কোল ভিজিয়ে নানির কোল হতে আমার কোলে আসার পর, ভাবেসাবে বুঝালেন, নানা একটা গল্পো কও। আমি তাকে যে গল্পোটা বললাম, তাহলো-

এক দেশে ছিল এক পিঁপড়া আর পিঁপড়ি। বুঝলা। কী ছিল? পিঁপড়া আর কী? পিঁপড়ি। মনে থাকবে তো? আচ্ছা বেশ। অনেক অনেক দিন ঘরেন্টাইন থাকার পর, বুঝলে কিনা, কত দিন কত রাত তা জিগাইলে কিন্তু বলতাম পারতাম না। তবে মে লা মে লা দি গ লা রাত আর দিন হইবে। তা যাক গল্প কিন্তু সেইটা না। গল্প হইল গিয়া, বুঝলা না? গল্প হইল, পিঁপড়ি এক ফাইন মর্নিংয়ে পিঁপড়াকে কয়, চলো আমরা এই বন্দিজীবন হতে পুলিশ আর্মিদের ফাঁকি দিয়া মুক্ত হয়ে একটু নৌকা ভ্রমণ করে আসি।

পিঁপড়া মনে সাহস এনে বলল, বেশ যাওয়া যাক। তুমি সাজুগুজু করে রেডি হও। পিঁপড়া মাথায় পাগড়ি পরল। পিঁপড়ি সুন্দর শাড়ি পরল। তারপর তারা মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরে দমাদম পির পির করে বের হলো। কিছু দূর যাওয়ার পর, একটা ধানের তুষের মানে ধান বিহীন চলটার সাথে দেখা। তাকে টেনে টেনে একটা জলাধারে নিয়ে গেল। বুঝতে পারতাছ তো। ঘটনা বিরাট। তারপরে পানিতে তুষের নৌকা ভাসিয়ে তারা টুপ করে নৌকায় চেপে বসলো। তো নানু কী হলো? নৌকাটি হেলেদুলে হেলেদুলে চলতে থাকলো। চলতে চলতে চলতেই থাকলো। আর ওরা মনের আনন্দে নাচতে নাচতে ভাসতে থাকলো। এরপর? এরপর হঠাৎ নৌকা একটা চড়ায় ঠেকে গেল। নানু তখন একটা ঢেকুর তুলল! আমি বলি ওয়া ওয়া করবা না। এইতো আমার গল্প শেষ। একটু তাকালো। মানে তাড়াতাড়ি খতম করো প্যাঁচাল।

তো, নৌকা আটক হওয়ার পর, পিঁপড়া নৌকা হতে ঝুপ করে নেমে গেল। নেমে পিঁপড়িকেও নামতে বললো। নামার পর বললো,

এখন আমি টানি তুমি ঠেল

এই নানু,

গল্প আমার ফুরিয়ে গেল।

আমার নানুও ঘুমে কাদা হয়ে গেল এবং মায়ের কোলে চলে গেল।