ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং


গপ্পো

তবু আমি আকাশে উড়তে চাই

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২০      

রাদিয়াহ্‌ আরাবী প্রার্থনা

স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই সবাই জিজ্ঞেস করতে থাকে, 'বড় হয়ে কী হতে চাও?' আমি কখনও বলি- ডাক্তার, কখনও ইঞ্জিনিয়ার, কখনও আবার শিক্ষক। একটু বড় হতেই আমার ভাবনায় পরিবর্তন আসে। ভাবনাজুড়ে জায়গা করে নেয় বিমান। আস্তে আস্তে বিমান ও বিমানবাহিনীর খুঁটিনাটি ঘাটতে থাকি। একদিন মা-মণি শোনালেন তাহমিদ রুম্মান নামের এক পাইলটের কথা। আমার মতো তিনিও ছোটবেলা থেকেই পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। গুগল করে জানতে পারি তাহমিদ রুম্মান সম্পর্কে অনেক তথ্য।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহমিদ রুম্মান পাখির মতো আকাশে উড়ে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন। মেঘ ধরতে চাইতেন। ছোটবেলায় তার বাবা একদিন ছেলেটির জন্য দামি একটা খেলনা প্লেন আনলেন। কিন্তু প্লেনটি তার একটুও পছন্দ হলো না এবং সে একটিবারের জন্য প্লেনটি ছুঁয়েও দেখল না। কারণ, সেটি ছিল একটি 'প্যাসেঞ্জার বিমান'। আর তার চাই 'ফাইটার জেট'। ছোটবেলা থেকেই ফাইটার জেটের প্রতি তার আগ্রহ। কী সাহস! এই সাহসী ছেলেটাই বড় হয়ে হলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহমিদ রুম্মান। তবে খুব মন খারাপ হয়ে গেল তখন; যখন পড়লাম, তিনি ২০১৫ সালের ২৯ জুন চট্টগ্রাম শাহ আমানত জাতীয় বিমানবন্দর থেকে সকাল প্রায় ১১টায় 'এফ-সেভেন' বিমান নিয়ে উড়াল দিয়ে আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সাগরে পড়ে যান। মানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ২৯ জুনের সেই ফ্লাইটি ছিল তার জীবনের শেষ ফ্লাই। তাকে আর ফিরে পাওয়া যায়নি। এরপর ফেসবুকে তাহমিদ রুম্মানের বন্ধুদের লেখাও পড়লাম। এসব পড়ে এই অজানা-অচেনা মানুষটির জন্য খুব কষ্ট পেলাম। বুকটা হু-হু করে উঠলো। তবু আমি পাইলট হতে চাই। তাহমিদ রুম্মানের মতো সাহস নিয়ে আকাশে ডানা মেলে উড়তে চাই। তোমরা কে কি হতে চাও?

বয়স : ১০০-৮৭ বছর; সপ্তম শ্রেণি, নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নওগাঁ