ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং


বিশেষ কিছু

করোনার দিনলিপি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২০      

সামান্থা ইসলাম রোজা

মার্চের ১৭ তারিখ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আমাদের স্কুলও বন্ধ হয়ে গেছে। সারাদিন হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করছি। যে সময় আগে স্কুলে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, মডেলিং, নাচ, গান, অভিনয় করে কাটাতাম, সেই সময় এখন বাসায় কাটছে। বাসায় কি করে সময় কাটাচ্ছি আজ তাই শোনাবো তোমাদের। শোনো, প্রথমে কিছুদিন আম্মুর কাছে রান্না শেখার চেষ্টা করলাম। মজার মজার কেক বানানো শিখলাম। কেক বানানো যে অতো সহজ নয়, তা শিখতে গিয়ে বুঝলাম। প্রথম দিন উপকরণ বিট করতে গিয়ে বাটি উল্টে সব উপকরণ পড়ে গেলো। সে এক এলাহী কাণ্ড!

বই পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে ভূতের বই। এইবার একুশে বইমেলা থেকে বেশ কিছু বই কিনেছিলাম। যার অনেকগুলো পড়া হয় নাই। সেগুলো পড়ে শেষ করলাম। সবচেয়ে ভালো লেগেছে জাফর ইকবালের ্তুরহমত চাচার একরাত এবং নিতু ও তার বন্ধুরা বইটি। আমি বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস বা বাফার শিশুনৃত্য এবং চিত্রাঙ্কন বিভাগের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। এই বছরের শেষেই আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা। তাই বাসায় নিয়মিত নাচের অনুশীলন করছি। তাছাড়া পেন্সিল স্কেচ, জলরং, পেস্টেল কালার দিয়ে নানা কল্পনা বাস্তবে রূপ দিচ্ছি।

ক্র্যাফটিং করতে আমার খুব ভালো লাগে। এই হোম কায়ারেন্টাইনকালীন বাসায় বসে আমি অনেক কিছু বানিয়েছি। যেমন- সোফা, পুতুল, ব্যাগ, ব্যান্ড আরও অনেক কিছু। আমার ইউটিউব চ্যানেলে সেসব দেখতে পারো। দাঁড়াও আমার ইউটিউব চ্যানেলের লিংকটাও বলে দিচ্ছি- ঝধসধহঃযধ্থং ঈৎবধঃরড়হ ্‌ ঠষড়ম। এখানে গিয়ে চাইলেই তোমরা আমার কাণ্ডকারখানা দেখতে পারবে।

গেলো রমজান মাসে আমি ১৫টি রোজা রেখেছি। একটু ক্লান্ত হয়েছে; কিন্তু তারপর ও চেষ্টা করেছি। নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় সূরা এবং নামাজের নিয়ম শিখেছি। তাছাড়া প্রতিদিন আম্মুর পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করেছি।

পোষা পাখি আমার খুব পছন্দ। আমার দুটো কবুতর আছে। একটির নাম ্তুজোজো অন্যটির নাম মোজো। প্রতিদিন আমি ওদের খাবার দিই, পানি দিই। ওদের সাথে কথা বলি। ওদের সাথে সময় কাটাতে আমার খুব ভালো লাগে।

ওরা যখন দূর আকাশে ডানা মেলে উড়ে তখন আমি ওদের দিকে চেয়ে থাকি আর ভাবি, ইশ! আমিও যদি ওদের মতো উড়তে পারতাম! তাহলে আমি উড়ে উড়ে আমার মেজো চাচার কাছে চলে যেতাম। তিনি থাকেন নরওয়েতে।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনলাইন ক্লাসে যুক্ত থাকি। অনলাইন ক্লাসে সেই আনন্দ নেই যে আনন্দ স্কুলে বন্ধুদের পাশে বসে পেতাম। সবই কেমন যান্ত্রিক। খুব মিস করি টিচারদের আদর, বন্ধুদের সাথে দুষ্টামি আর আড্ডা।

স্বপ্ন দেখি পৃথিবী আবার সুস্থ এবং স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। মাস্ক এবং হ্যান্ডগ্লাভস থেকে মুক্তি মিলবে। সবাইকে আগের মতো আবার কাছে পাবো। মন খুলে গল্প করবো, হাসবো আর গান গাইবো।

বয়স : ২+২+৩+৪ বছর; স্ট্যান্ডার্ড ফোর, কসমোপলিটান ল্যাব স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা