ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং


ঘুমের দেশে যাচ্ছে হেসে...

ঘণ্টা রাজার ঢং ঢং

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২০      

সায়ান বিনতে সিদ্দিকী

একদিন হয়েছে কী, রুপন্তী স্বপ্নে দেখল যে, তার বাবা তাকে সার্কাসে নিয়ে গেলো। সেখানে আর দশটা-পাঁচটা জোকারের মতো সেই জোকারটা তেমন ছিলো না। এই জোকারে যেমন সাজ, তেমন অন্যরকম এবং হাস্যকর কসরত। এসব দেখে কার না দম ফাটা হাসি বের হয়! তা দেখে রুপন্তীও দম ফাটা হাসিতে ফেটে পড়লো। এ জন্য সে ঘুমের মধ্যে বারবার হো-হো করে হাসে। এভাবেই কেটে যাচ্ছিলো।

কিছুদিন পরের ঘটনা। একদিন রুপন্তী ঘুমোচ্ছে। হঠাৎ তাকে কেউ জাগালো। সে টলোমলো, ঝাপসা চোখে ঘুম থেকে কোনো রকমে উঠে দেখলো, একজন দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু অবাক কাণ্ড, যে দাঁড়িয়ে আছে সে দেখতে একদম ঘণ্টার মতো গোল আকৃতির। তখন রুপন্তী বললো, 'কে, কে তুমি'? লোকটি বলে, 'আমি ঘণ্টা রাজা'। পৃথিবীতে যে সময়মতো ঘুম থেকে ওঠে না তাকে আমি অনেক জোরে ঢং ঢং শব্দ করে ঘুম ভাঙাই।

'তোমাকেও ঠিক এমন শব্দ করে ঘুম ভাঙাবো'- এই বলে ঘণ্টা বাজার আদেশে একটা হাতুড়ি তার শরীরে পড়তে লাগলো আর বিকট শব্দ হতে থাকলো। আকাশ, বাতাস কাঁপিয়ে। সে শব্দ আর থামে না। হাঠাৎ রুপন্তীর ঘুম ভেঙে যায়। ধড়মড় করে ঘুম থেকে উঠে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে ভোর ৬টা বাজে। আর এদিকে তার মা ফজরের নামাজ পড়ে নাশতা তৈরি করছেন। ৭টার সময় মেয়েকে ঘুম থেকে ডাকতে যাবেন। 'মা'। রুপন্তীর মা কাজ করতে করতেই পেছনে তাকালেন। পেছনে রুপন্তীকে দেখে তার চক্ষুু চড়কগাছ। বাবাও ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। সাতসকালে মেয়েকে দেখে তারও চক্ষু চড়কগাছ। মা-বাবা অবাক। যে মেয়েকে কিনা ঘুম থেকে ওঠাতেই ঘাম ঝরে যায়। সেই মেয়ে কিনা আজ নিজে থেকেই উঠে পড়লো! বিশ্বাস করাই যায় না। রুপন্তী দ্রুত নাশতা খেয়ে সময়মতো স্কুলে গেলো। স্কুলের স্যার, ম্যাডাম, বন্ধু-বান্ধব সবাই অবাক। আগের রুপন্তী আর আজকের রুপন্তীর আকাশ-পাতাল তফাত।

এখন কিন্তু রুপন্তী আর অসময়ে ঘুমোয় না।

ঘুমের সময় ঘুমাতে যায়। রাতভর পড়াশোনা করে। ভালো রেজাল্ট করে। প্রত্যেক পরীক্ষায় এ-প্লাস পায়। আর মাঝপথে ঘুমিয়ে যাওয়ার পর ঘণ্টা রাজার কথা মনে পড়লেই ঘুম থেকে উঠে পড়ে।
 
বয়স : ২+৩+৪ বছর; চতুর্থ শ্রেণি, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজশাহী