ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং


স্বাধীনতার গান

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২০      

মারজান শাওয়াল রিওয়ান

'কোন হতচ্ছাড়া এই সকালে গান ছেড়েছে?' অনিক বিরক্ত হয়ে বিছানায় উঠে বসলো। প্রশ্নের উত্তরটা তার জানা। পাশের ঘরে বোন আনিতা আবার সকালে উঠে নাচ প্র্যাকটিস করছে। তাই বলে এতো জোরে গান ছাড়তে হবে!

আর বাবা-মাও যেমন। কিছু বলেনও না আনিতাকে। ছোটবেলা থেকে নাচ শেখে ও। বেশ কয়েকবার নেচে পুরস্কারও জিতেছে। স্কুলের অনুষ্ঠানেও ও নাচে প্রায়ই। তাই এই সকালবেলায় অত্যাচার বাসার সবাই সহ্য করে। কী যে যন্ত্রণা।

'আপু, গানের ভলিউমটা কমা'- আনিতার ঘরের সামনে এসে অনিক থেমে গেলো। অদ্ভুত কাণ্ড। ঘর থেকে তো গান আসছে না। আসছে তো বাইরে থেকে। কী ব্যাপার, বাইরে সারাদিন হিন্দি গান বাজে। আজ হঠাৎ দেশাত্মবোধক গান যে? ওহ্‌, আজ তো স্বাধীনতা দিবস! 'কী, ঘুম ভেঙে গেছে বুঝি?' আনিতা দরজা খুললো, 'হুম। আমিও সকালে উঠেছি গানের আওয়াজেই। আজকে স্কুলের অনুষ্ঠানেও নাচতে হবে তো, তাই বাইরের গানের সাথেই নেচে দেখছিলাম। কী গান বাজছে, বলো তো?' কান খাড়া করে শোনার চেষ্টা করলো অনিক, 'ওহ্‌, এটা হলো 'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে'। গোবিন্দ হালদারের, তাই না?'

'হুম, উনি সুর করেছেন। গানটার একটা রক্ত টগবগ করা জায়গা আছে- 'বাঁধন ছেঁড়ার হয়েছে কাল, হয়েছে কাল, হয়েছে কাল ...' আনিতা চোখ বন্ধ করে গান ধরলো, 'আমার ভালো লাগে', 'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে'! শুনলেই কেমন একটা গর্বে বুক ফুলে ওঠে। অনিকের মুখে হাসি ফুটে উঠলো। 'হুঁ, আরও আছে। 'মাগো ভাবনা কেন', কিংবা 'সূর্যোদয়ে তুমি-'

'একটা গান আমার মনে পড়ছে- 'স্বাধীনতা স্বাধীনতা সকল মুখের মূলে/একাত্তরের ছাব্বিশে মার্চ যেও নাকো ভুলে।'

'স্বাধীনতা দিবস এলেই আমার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। নাচ শেখো, হ্যান করো, ত্যান করো- কিন্তু আমি এসবে অনেক আনন্দ পাই, জানিস?' আনিতার মুখে হাসি ফুটে ওঠে, 'কারণ নাচের জন্য যখন আমি তাল মেলাই, গানগুলো তখন মনোযোগ দিয়ে শুনি। গানের পেছনের আবেগ উপলব্ধি করি- তখন স্বাধীনতার অর্থটাও নতুন করে ধরা দেয় আমার কাছে। আজ সকালে যখন পূর্ব দিগন্তে গানটা বাজতে শুনলাম, মনে হলো পতাকার সূর্যের কথাই বলা হয়েছে গানে...।

বোনের কথাটা অনিকের কাছেও যৌক্তিক মনে হলো।

হ নবম শ্রেণি, হলি ক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা