ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং


ছড়া-কবিতা

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২০      
না সি র উ দ্দি ন

তুমিও

কি

ঘুমাও?

সুয্যিমামা সুয্যিমামা

রাতে কোথায় যাও?

আমার মতো রাতেরবেলা

তুমিও কি ঘুমাও?



সকাল হলেই উঠো তুমি

যে রোদ গায়ে মেখে,

সন্ধ্যাবেলা কোথায় রাখো

সে রোদ আবার ঢেকে?

চাঁদের মতো মিষ্টি আলো

যদিও তোমার নেই,

কিন্তু তোমার আলো পেয়ে

জাগি সকলেই।



তোমার আলোর বিনিময়ে

বনের তরুলতা,

প্রতিদিনেই পায় ফিরে পায়

দেহের সজীবতা।



আ বু ল কা লা ম আ জা দ

অনেক রঙের ঘুড়ি



একটা উঁচু গাছে

অনেক ঘুড়ি আটকে আছে।

লাল, নীল, সাদা এবং হলুদ

আরও অনেক রঙের ঘুড়ি;

একটা বলে, আয় সবাই

উড়ি উড়ি উড়ি।

কিন্তু ওরা উড়তে পারে না;

বৃক্ষ শাখার বন্দিত্ব ভাঙতে পারে না।

শেষে ওরা এটা-ওটা নিয়ে;

অল্প অল্প গল্প করে-শোনে সবুজ টিয়ে।

একটা ঘুড়ির চোখের কোণে জল;

আরেক ঘুড়ি প্রশ্ন করে, কী হয়েছে বল?

কান্নাভেজা ভাষায়;

ঘুড়ি বলে, সুতো ছিঁড়ে পালিয়ে এলাম

মুক্তি পাবার আশায়।

এখন দেখি মুক্তি অচিনপুর;

গাছের ডালে আটকে থাকি

সকাল-বিকাল-দুপুর।



প্র জী ৎ ঘো ষ

মটরশুঁটি



মাঘের শেষে ফাগুন এসে

মনে দিলো দোল

ও ভোমরা আজকে রে তুই

মনের দুয়ার খোল।



আয় না ঋতু আয় না মিতু

মাঠের পানে যাই

নীল সবুজ আর হলুদ রঙের

খুশির ছোঁয়া পাই।



দ্যাখ্‌না রে সই সবুজ গাছে

নীলকণ্ঠের ফুল;

মিতু এসে বলল 'ঋতু

ভাবছিস তুই ভুল।'



মিতুর কথায় সবার মনে

জাগলো কৌতূহল!

মাঠের মেয়ে তোকে জানি

'বল্‌ না প্রীতি, বল্‌।'



নীলাভ রঙের ফুলের মাঝে

ফল ধরেছে কুটি;

প্রীতি হেসে বলল 'জানিস

ওটা মটরশুঁটি।'



হা সা ন হা ফি জ

তারায় তারায় খুকুমণি



হারিয়ে গেছে বোনটি আমার খুকুমণি

হারিয়ে গেছে কোন্‌ সুদূরে? চাঁদের দেশে?

জোছনা হাওয়ায় একলা একা ভেসে ভেসে

কইতো কথা আলতো-আধো মিষ্টি মধুর সুবচনী,

ফুল কুড়াতো ভোরবিহানে কুড়াতো ফুল

তার যে ছিল ডাগরকালো চোখের তারা

স্বপ্নমিহিন উছলানো রোদ আপনহারা

মিষ্টি চিবুক রেশমিকোমল স্বর্ণালি চুল

ওর স্মরণে কেঁদে কেঁদে হই যে আকুল

খুকুমণির জন্যে পরান কাঁদতে থাকে কাঁদতে থাকে

কোন দূরে সে পালিয়ে গেল কোন্‌ সে ফাঁকে?

জানি সে তো হারায়নি ঠিক আছে দূরের তারায় তারায়

আছে সাগরনীলে উচ্ছলিত নদীর ধারায়

হয়তো আবার ফিরে পাওয়ার থাকছে আশা

ছোট্টটি বোন তোমার জন্যে একসমুদ্র ভালোবাসা।