ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং


গ্রামের নাম ভয়পুর!

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

আরিফ মাহমুদ রিফাদ

অনেকদিন আগের ঘটনা। এক গ্রামে দীপু নামের এক ছেলে বসবাস করতো। ছেলেটির বয়স ছিলো দশ বছর। তবে বয়সের তুলনায় দীপু ছিলো খুবই সাহসী ও বুদ্ধিমান। তাকে নিয়ে বড়রা রাজ্যের আলোচনা করতো।

তো সেদিন রাতেও কয়েকজন কথা বলছিলো দীপুকে নিয়ে। আর তখনই সে বাজার থেকে ফিরছিলো। বাজারটি ছিলো তার বাড়ি থেকে এক-দেড় কিলোমিটার দূরে। রাত গভীর হয়ে যাওয়ায় দীপু কোনো যানবাহন না পেয়ে হেঁটেই বাড়ির পথ ধরলো। একাকি হাঁটছে; হঠাৎ তার মনে হলো, কেউ যেন তাকে অনুসরণ করছে। দীপু তাড়াহুড়ো করে হাঁটতে শুরু করলো। অবাক ব্যাপার এই যে, সে প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে ফেলেছে। তবু বাড়ি পৌঁছাচ্ছে না। এবার সে একটু ভয় পেয়ে গেলো। চারপাশ থেকে শিয়ালের ডাক কানে ভেসে আসছে তার। একটু ভয় পেয়ে সে ফের তড়িঘড়ি হাঁটতে শুরু করলো।

হাঁটতে হাঁটতে রাত প্রায় চারটায় সে বাড়ি পৌঁছলো।

পরদিন দীপু কাউকে বিষয়টি বললো না। কিছুদিন পর আবার তার বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে গেলো। কিন্তু সেদিন সে একটি রিকশা পেয়ে গেলো। সেই রিকশায় বাড়ির পথ ধরলো দীপু। মাঝ রাস্তায় গিয়ে হঠাৎ সে মাথায় একটি ঝাঁকুনি খেলো। তারপর সে যা দেখলো, তা দেখার জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলো না দীপু।

দেখলো, এক নির্জন কবরস্থানে দাঁড়িয়ে আছে দীপু। এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না সে। চোখ বন্ধ করে চিৎকার করতে থাকলো। চোখ খুলতেই দেখলো, দীপু তার বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে আছে। অমনি সে অজ্ঞান হয়ে গেলো। রাত শেষে সকালে তার জ্ঞান ফেরে। সে তার মায়ের কাছে সব খুলে বললো। তার মা একটু ভয় পেয়ে গেলেন। হয়তো তিনিও এমন কিছুর শিকার হয়েছিলেন! গ্রামের সবাই এমন ভয়ংকর কিছুর মুখোমুখি হন। এই ভয়পুর গ্রামে গিয়ে তোমরাও ভয় পেয়ে আসতে পারো।
 
দশম শ্রেণি, তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা