ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং


রাজিনের সাইকেল

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

গল্প লিখেছেন।। আমীরুল ইসলাম।। ছবি এঁকেছেন রজত

রাজিন খুব ছটপটে দুরন্ত এক ছেলে। স্থির হয়ে এক জায়গায় পাঁচ মিনিট বসে থাকতে পারে না। হাফপ্যান্ট আর টি-শার্ট পরে খুব ছোটাছুটি করে। রাজিনের একটা ছোট লাল রঙের সাইকেল আছে। ক্রিং ক্রিং বেল বাজে। বাসার সামনে রাস্তায় দুপুরে রাজিন সাইকেল চালায়।

সেদিন নামাজ পড়ে ফিরছিলেন তাইজুদ্দিন। রাজিনকে দেখে বললো,

আংকেল তোমার লাইসেন্স আছে?

রাজিন অবাক হয়ে তাকালো। তারপর বললো, লাইসেন্স থাকবে কেনো?

আমি কি গাড়ি চালাই? আমি কি ট্রাক চালাই? বলেই প্যাডেল মারতে মারতে চলে গেলো গলির ভেতর। কাউকে কোনো পরোয়া নেই। রাজিন ছুটলো রাজিনের মতো।

সাইকেলটা রাজিনের খুব প্রিয়। গ্যারেজে সাইকেলটা থাকে। রাজিন নিজেই টায়ার চাকা ধুয়ে-মুছে রাখে। পরম যত্ন করে। রাজিন থাকে দোতলায়। সকালে উঠেই রাজিন ছুটে নামে গ্যারেজে। সাইকেলটাকে আদর করে। তারপর স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। কাঁধে স্কুলের ব্যাগ ঝুলিয়ে যখন সে বাবার হাত ধরে বের হয়, তখনও পরম মমতায় তাকায় সাইকেলটার দিকে। মা অবশ্য খুব বকাঝকা দেন। আগে পড়াশোনা করো। তারপর সাইকেল। পরীক্ষা শেষ হোক, তারপর সাইকেল চালিও। রাজিন উত্তর দেয়- সব পড়া কমপ্লিট। এখন সাইকেল চালাতে যাই।

না। এখন একটু ঘুমিয়ে নাও। রাতে আবার পড়তে হবে। রাজিনের অবশ্য বয়স বেশি নয়। মাত্র নয় বছর, কোনো কাজে কোনো স্বাধীনতা নেই। মা-বাবা যা বলবে তাই শুনতে হচ্ছে। আর তাদের একমাত্র বোন। নাম রায়া আবার কঠিন শাসক। ছোট ভাইয়ের সবকিছুতে সে সাজেশন দেবে। এতো সাইকেল চালানোর কী আছে? শিগগির এসে পড়তে বসো। সামনে না পরীক্ষা। রাজিন রাগ করে। আর একা একা বলে, তুমি আমার একমাত্র বোন। আমার জন্য কোনো দরদ নেই তোমার। রায়াও হাসে। দরদ আছে বলেই তোকে পড়তে বলেছি। না পড়লে পরীক্ষা দিবি কী করে?

খুব মন খারাপ করে রাজিন। দোতলায় যায়। বোনের কারণে মনের আনন্দে তার সাইকেল চালানো হয় না। বাবা সরাসরি কিছু বলবে না। কাউকে বলে দেবে। যেন সে রাজিনকে শাসন করে দেয়। ড্রাইভার আংকেল হয়তো তখন রাজিনকে বললো। বাবা পরে সাইকেল চালায়ো। রাজিন বুঝে পায় না সবাই কেন তার সাইকেলের বিরুদ্ধে। কেন তাকে সাইকেল চালাতে দেয় না। সবাই তাকে মানা করে। রাজিন একদিন ভোরবেলা স্বপ্ন দেখলো। ওর ঘর থেকে বের হয়েছে। বাইরে অনেক অন্ধকার। একটু পরেই ভোর হবে। আলো ফুটবে। সূর্য উঠবে। রাজিন দরজা খুলে বেরিয়ে এলো। গ্যারেজে সাইকেলটা নিয়ে রাস্তায় নামলো। দারোয়ান আংকেল নামাজ পড়তে গেছেন। রাস্তা খালি। সুনসান নীরবতা। কোনো গাড়ি-ঘোড়া নাই। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে ম্লান আলো জ্বলছে। অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝি বাতাসে হালকা শীতের আমেজ। রাজিন প্যাডেলে পা দিলো। সাইকেলটা চলতে শুরু করলো। একটু জোরে প্যাডেল দিতেই সাইকেলটা হাওয়ায় ভেসে উঠলো। তারপর দ্রুত সাইকেলটা উড়ে চললো।

শীতের বাতাস কেটে ভোরবেলা সাইকেলটা উড়ে যাচ্ছে। কোথায় যাচ্ছে? কেউ জানে না। তবে পরদিন কেউ কেউ বলেছে, ভোরবেলা একটা সাইকেল উড়তে দেখেছে তারা। কিন্তু সাইকেলটা দেখতে কেমন? সাইকেলে কে ছিলো- এসব অবশ্য কেউ বলতে পারে না। রায়া সকাল থেকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে, রাজিনের নাশতা বাসি হয়ে যাচ্ছে। কখন আসবে রাজিন? হ