ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং


অন্তুর বইমেলা

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

ফাতেমা তুজ্জহুরা ঊর্মি

ছোট্ট অন্তুর খুশির শেষ নেই। বাড়িতে আজ খুশির আমেজ ছড়িয়ে দিয়েছে। কী রঙের শার্ট-প্যান্ট পরবে মামণিকে বারবার জিজ্ঞেস করছে। অন্তুর এই খুশির কারণ, আজ সে একুশে বইমেলায় যাবে মামণি আর বাবার সঙ্গে। এই নিয়ে তার কতো পরিকল্পনা। সে তার প্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের বই কিনবে। এই লেখক কেন তার প্রিয় তা না জানলেও সে বই কিনবে। শুধু বই নয়, সে পুরো বইমেলা মা-বাবার সঙ্গে ঘুরবে। হালুম, ইকরি, টুকটুকিদের সঙ্গে গল্প জমাবে। আরও কতো ইচ্ছে তার মনে। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে বইমেলায় যাওয়ার সময় হয়ে যায়, তা বুঝতেও পারে না অন্তু।

বইমেলায় গিয়ে সে দেখলো, তার মতো আরও অনেক শিশু এসেছে। মামণি বললেন, 'এখন শিশু প্রহর চলছে।' অন্তু এই কথার মানে বোঝে না সে। বোঝার চেষ্টা করেও করে না। সে কৌতূহলী চোখে দেখতে থাকে বিভিন্ন বইয়ের স্টল, নতুন নতুন বইয়ের সারি। মা-বাবা তাকে নিয়ে একটি স্টলে যায়। সে বই দেখতে থাকে এবং নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতে থাকে। বাবা তাকে তার প্রিয় লেখকের বইটি কিনে দেন। সে তো মহাখুশি! হঠাৎ অন্তু পেছনে কিসের শব্দ শুনতে পায়। তাকিয়ে দেখে, আরে এরা তো 'চলছে গাড়ি, সিসিমপুরে'র সবাই। হালুম, ইকরি-মিকরি, টুকটুকিসহ আরও কতোজন! অন্তু মনে মনে ভাবলো, তার পরিকল্পনা একদম বাস্তব হয়ে গেলো। সে তো আনন্দে আটখানা।

এমন সময় মামণির ডাক শুনতে পেলো অন্তু- 'অন্তু, আর কতো ঘুমোবে। তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠো। আজ আমরা অমর একুশে বইমেলায় যাবো।'

অন্তু কিন্তু বুঝতে পারলো না। এতোক্ষণ তো সে বইমেলায় ছিলো, বাড়িতে কী করে এলো! অন্তু মামণিকে সব খুলে বললো। মামণি সব শুনে হেসে বলেন, 'অন্তু, তুমি তো স্বপ্ন দেখছিলে।'

সত্যিই তো! অন্তু এতোক্ষণে বুঝতে পারলো যে, সে স্বপ্ন দেখছিলো। অন্তুর কিছুটা মন খারাপ হলো, কারণ সে এতো ভালো আনন্দে ভরা স্বপ্নটা শেষ করতে পারেনি। আবার কিছুক্ষণ পরে মন ভালোও হয়ে গেলো এই ভেবে যে, সে বাস্তবের চেয়ে স্বপ্নে অনেক আনন্দ পেয়েছে। এসব হাজারো ভাবনায় অন্তু যখন মগ্ন, তখন মামণি এসে অন্তুকে আবার তাড়া দিতে লাগলো।

অন্তুও বইমেলায় যাওয়ার জন্য বিছানা ছেড়ে উঠলো।

হ সপ্তম শ্রেণি, তারাগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, শেরপুর, ময়মনসিংহ